ব্রিটিশ নারীর সুইজারল্যান্ডে ‘সহায়তাপ্রাপ্ত মৃত্যু’: নতুন করে বিতর্ক
যুক্তরাজ্যের এক নারী শারীরিকভাবে গুরুতর অসুস্থ না হওয়া সত্ত্বেও সুইজারল্যান্ডে গিয়ে ‘সহায়তাপ্রাপ্ত মৃত্যু’ বা অ্যাসিস্টেড ডাইংয়ের পথ বেছে নিয়েছেন। ২৩ এপ্রিল লন্ডনের মেট্রো নিউজের এক প্রতিবেদনে বিষয়টি উঠে আসার পর যুক্তরাজ্যে আবারও জনমত এবং নীতিগত বিতর্ক জোরালো হয়েছে।
ওয়েন্ডি ডাফির সিদ্ধান্ত
৫৬ বছর বয়সী ওয়েন্ডি ডাফি সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডে পৌঁছেছেন। জানা গেছে, তিনি একটি বেসরকারি ক্লিনিকের মাধ্যমে স্বেচ্ছায় জীবনাবসানের প্রক্রিয়ায় অংশ নেবেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই এই সিদ্ধান্তের পরিকল্পনা করছিলেন এবং তার পরিবারের সদস্যদেরও বিষয়টি অবহিত করেছেন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ব্যক্তিগত জীবনে বড় ধরনের শোক—বিশেষ করে কয়েক বছর আগে একমাত্র সন্তানকে হারানোর ঘটনা—তার মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছে। ওয়েন্ডির ভাষ্যমতে, তিনি নিজের জীবনের সমাপ্তি একটি নিয়ন্ত্রিত ও মর্যাদাপূর্ণ উপায়ে ঘটাতে চান।
জারল্যান্ডের কঠোর নিয়মসু
ইজারল্যান্ডে সহায়তাপ্রাপ্ত মৃত্যু অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত একটি প্রক্রিয়া। এখানে আবেদনকারীর মানসিক সক্ষমতা, স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং কোনো বাহ্যিক চাপ নেই—তা নিশ্চিত করা হয়। চিকিৎসকদের একাধিক বৈঠক ও মূল্যায়নের পরেই চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট ক্লিনিক জানিয়েছে, ওয়েন্ডি প্রাথমিক শর্তগুলো পূরণ করেছেন এবং চূড়ান্ত ধাপের আগে আরও কিছু মূল্যায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিজেই ওষুধ গ্রহণের মাধ্যমে নিজের সিদ্ধান্ত কার্যকর করেন।
আইনগত ও নৈতিক বিতর্ক
বিশ্লেষকদের মতে, প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্রিটিশ নাগরিক একই উদ্দেশ্যে সুইজারল্যান্ড ভ্রমণ করেন, যা যুক্তরাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে আইনগত ও নৈতিক আলোচনার বিষয় হয়ে আছে।
বর্তমানে যুক্তরাজ্যের আইনসভায় সহায়তাপ্রাপ্ত মৃত্যুকে সীমিত পরিসরে বৈধ করার একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে এই উদ্যোগের ঘোর বিরোধী বিভিন্ন মানবাধিকার ও প্রতিবন্ধী সংগঠন। তাদের আশঙ্কা, আইনটি পাস হলে সমাজের দুর্বল এবং মানসিকভাবে বিপর্যস্ত মানুষ পরোক্ষভাবে চাপের মুখে পড়তে পারেন।
ওয়েন্ডি ডাফির এই সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, চিকিৎসা নীতি এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার মতো জটিল প্রশ্নগুলোকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে যুক্তরাজ্যে আইন প্রণয়ন ও জনমতের ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।












