মিশরে তীব্র জ্বালানি সংকট মোকাবেলায়: দোকান ও রেস্তোরাঁ দ্রুত বন্ধের নির্দেশ
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট তীব্র জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে মিশর সরকার। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে দেশজুড়ে দোকানপাট, রেস্তোরাঁ এবং ক্যাফেগুলো নির্ধারিত সময়ের আগেই বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাময়িকভাবে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত আপাতত আগামী এক মাস কার্যকর থাকবে।
নতুন সময়সূচী ও বিধিনিষেধ
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, গত শনিবার (২৮ মার্চ) থেকে কার্যকর হওয়া এই নিয়মে প্রতিদিন রাত ৯টার (জিএমটি ১৯:০০) মধ্যে সব ধরনের খুচরা দোকান, রেস্তোরাঁ ও ক্যাফে বন্ধ করতে হবে। ক্রমবর্ধমান জ্বালানি তেলের দাম ও সরবরাহ ঘাটতি মোকাবিলায় এটিকে একটি ‘ব্যতিক্রমী ব্যবস্থা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারের অন্যান্য পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে সড়কের আলোকসজ্জা ও বিজ্ঞাপনী বিলবোর্ডের আলো কমিয়ে আনা।এপ্রিল মাস থেকে সপ্তাহে একদিন কর্মীদের জন্য ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা বাসা থেকে কাজের সুযোগ।সরকারি যানবাহনের জ্বালানি বরাদ্দ এক-তৃতীয়াংশ কমিয়ে আনা। গতকাল সন্ধ্যায় কায়রোর বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ অলিগলির দোকানপাট ও ক্যাফে রাত ৯টার আগেই বন্ধ হয়ে গেছে।
পর্যটন খাত আওতামুক্ত
তবে মিশরের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ পর্যটন খাতকে এই বিধিনিষেধের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, দেশের জিডিপিতে প্রায় ১০ শতাংশ অবদান রাখা হোটেল ও পর্যটন কেন্দ্রগুলো স্বাভাবিক নিয়মেই খোলা থাকবে।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
পরিস্থিতি সামাল দিতে মিশর সরকার ইতোমধ্যে জ্বালানি ও গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধি করেছে। এছাড়া বড় আকারের জ্বালানি-নির্ভর সরকারি প্রকল্পগুলোর গতি সাময়িকভাবে ধীর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।দেশের প্রধানমন্ত্রী ড. মোস্তাফা মাদবুলি এক বিবৃতিতে বলেন:,বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি সাশ্রয় করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি কেবল সরকারের একার নয়, বরং সরকার ও নাগরিক—সবার সম্মিলিত দায়িত্ব
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধ যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে মিশরকে দীর্ঘমেয়াদী প্রস্তুতি নিতে হবে। যুদ্ধের আগে অর্থনীতির যে প্রবৃদ্ধির ধারা ছিল, তা বজায় রাখাই সরকারের মূল লক্ষ্য।













