বায়ুদূষণ
ইউরোপে নিরাপদ ও বিশুদ্ধ বাতাস এখন বিরল, নতুন প্রতিবেদনে দূষণের ভয়াবহ চিত্র
লন্ডনে দূষণের মাত্রা বিপজ্জনকভাবে বেশি। ছবি- ইন্টারনেট থেকে।
২০২৫ সালের বিশ্ব বায়ু মান প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ইউরোপে এখন মাত্র তিনটি দেশ—অ্যান্ডোরা, এস্তোনিয়া এবং আইসল্যান্ড—নিরাপদ বায়ুর মান বজায় রাখতে পারছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত মান অনুযায়ী বায়ুতে পিএম ২.৫ নামের ক্ষতিকর সূক্ষ্ম কণার মাত্রা প্রতি ঘনমিটারে ৫ মাইক্রোগ্রামের নিচে থাকা উচিত, কিন্তু বেশিরভাগ দেশই এই সীমা অতিক্রম করেছে।
বিশ্বব্যাপী পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। এখন মাত্র ১৪ শতাংশ শহরে নিরাপদ বায়ু পাওয়া যায়, যা আগের বছরের তুলনায় কম। মোট ১৪৩টি দেশের মধ্যে ১৩০টি দেশই নিরাপদ মান পূরণ করতে পারেনি। এর প্রধান কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তন, বন আগুনের ধোঁয়া, ধুলিঝড় এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার।
পিএম ২.৫ কণা খুবই ক্ষুদ্র হওয়ায় এটি সহজে ফুসফুসে ঢুকে রক্তে মিশে যেতে পারে। এর ফলে শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ এমনকি ক্যানসারের মতো গুরুতর অসুখ হতে পারে।
সবচেয়ে দূষিত দেশগুলোর মধ্যে পাকিস্তান, বাংলাদেশ, তাজিকিস্তান, চাদ এবং কঙ্গো রয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরগুলোর বেশিরভাগই ভারত, পাকিস্তান ও চীনে অবস্থিত। ভারতের লোনি শহরে দূষণের মাত্রা নিরাপদ সীমার তুলনায় প্রায় ২২ গুণ বেশি।
ইউরোপে ২০২৫ সালে ২৩টি দেশে দূষণ বেড়েছে এবং ১৮টি দেশে কমেছে। সুইজারল্যান্ড ও গ্রিসে বন আগুনের ধোঁয়া ও মরুভূমির ধুলার কারণে দূষণ ৩০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। অন্যদিকে মাল্টা নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ফলে দূষণ কমাতে সক্ষম হয়েছে।
একই সময়ে প্যারিস ও লন্ডনের মতো বড় শহরগুলোও উচ্চ দূষণের তালিকায় উঠে এসেছে। সার ব্যবহারের কারণে নির্গত গ্যাস, পরাগরেণু এবং স্থির আবহাওয়ার প্রভাবেও দূষণ বাড়ছে।
প্রতিবেদনটি আরও দেখিয়েছে যে অনেক দেশে এখনো পর্যাপ্ত বায়ু মান পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা নেই। ফলে প্রকৃত অবস্থা জানা কঠিন হয়ে পড়ছে। কিছু দেশে এই পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাও দুর্বল হয়ে গেছে বা বন্ধ হয়ে গেছে।
সব মিলিয়ে বলা হচ্ছে, বায়ু দূষণ এখন একটি বড় বৈশ্বিক স্বাস্থ্যঝুঁকি। এটি কমাতে হলে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি বাড়ানো এবং সঠিকভাবে বায়ুর মান পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।










