মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুন আরও ছড়াচ্ছে
নতুন করে যুদ্ধ জাহাজসহ ২৫০০ মেরিন ও স্থল সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধে উত্তেজনা দ্রুত বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা প্রায় ২,৫০০ জন মেরিন সেনা এবং একটি উভচর যুদ্ধজাহাজ ওই অঞ্চলে পাঠাচ্ছে। ইরানের সঙ্গে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলা সংঘাতের মধ্যে এটিকে বড় সামরিক শক্তি বৃদ্ধি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের খার্গ দ্বীপে সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এই দ্বীপটি ইরানের তেল রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যদি পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়, তাহলে সেখানে থাকা তেল অবকাঠামোও ধ্বংস করা হতে পারে। এর আগে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার সতর্ক করেছিলেন, এমন হামলা হলে ইরান কঠোর প্রতিশোধ নেবে।
ইরানের রাজধানী তেহরানে ফিলিস্তিনের সমর্থনে আয়োজিত একটি বড় সমাবেশের সময় একটি বিস্ফোরণ ঘটে। হাজার হাজার মানুষ সেখানে জড়ো হয়েছিল। ইসরায়েল আগে থেকেই ওই এলাকায় হামলার সতর্কবার্তা দিয়েছিল। তবে বিস্ফোরণে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে ইরান প্রতিদিনই ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে তারা হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে। এই পথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহন হয়, তাই এতে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় চাপ তৈরি হয়েছে।
লেবাননেও মানবিক সংকট ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। ইসরায়েল ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালাচ্ছে। এতে এখন পর্যন্ত প্রায় ৮০০ মানুষ নিহত হয়েছে এবং প্রায় ৮ লাখ ৫০ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে।
মার্কিন সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ৩১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট এবং ইউএসএস ট্রিপোলি নামের উভচর যুদ্ধজাহাজ মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হচ্ছে। এই ইউনিট সাধারণত সমুদ্রপথে অভিযান চালানো, দূতাবাস রক্ষা করা, বেসামরিক লোকজন সরিয়ে নেওয়া এবং দুর্যোগ সহায়তায় দক্ষ। তবে এই মোতায়েন মানেই স্থলযুদ্ধ শুরু হবে এমন নয়।
বর্তমানে আরব সাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর প্রায় ১২টি যুদ্ধজাহাজ অবস্থান করছে। এর মধ্যে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরী এবং আটটি ডেস্ট্রয়ার রয়েছে। ইউএসএস ট্রিপোলি সেখানে পৌঁছালে সেটি হবে ওই অঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্তম মার্কিন যুদ্ধজাহাজ।
ইরানের খার্গ দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে করা হয়েছে, তেল স্থাপনাগুলো এখনো অক্ষত রাখা হয়েছে। তবে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, যদি হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়া হয়, তাহলে ইরানের তেল অবকাঠামো ধ্বংস করা হতে পারে।
এদিকে যুদ্ধ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রও ক্ষতির মুখে পড়েছে। ইরাকে একটি কেসি–১৩৫ জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ছয়জন ক্রু নিহত হয়েছেন। এই নিয়ে সংঘাতের সময় মার্কিন সেনাদের অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া গত সপ্তাহে ভুলবশত কুয়েতি বাহিনীর গুলিতে তিনটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছিল।
অন্যদিকে ইরানের ড্রোন হামলায় ওমানের সোহার এলাকায় দুইজন নিহত হয়েছেন। একই সময়ে তুরস্কের আকাশে একটি ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি ডেস্ট্রয়ার।
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলেও হামলা অব্যাহত রয়েছে। একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ইসরায়েলের হামলায় ১২ জন চিকিৎসক, নার্স ও প্যারামেডিক নিহত হয়েছেন। এছাড়া সিডন শহরে আরেকটি হামলায় অন্তত ৮ জন নিহত হয়েছেন। গত ১০ দিনে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর সংঘর্ষে লেবাননে মোট ৭৭৩ জন নিহত হয়েছে, যার মধ্যে শতাধিক শিশু রয়েছে।
সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে এবং বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে এর বড় প্রভাব পড়ছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশ্লেষকরা।









