বার্সেলোনা বিমানবন্দরে অবৈধভাবে অভিবাসী অনুপ্রবেশের অভিযোগে দুই কর্মচারী গ্রেপ্তার
স্পেনের বার্সেলোনা বিমানবন্দরে অবৈধভাবে অভিবাসীদের দেশটির ভেতরে ঢোকানোর অভিযোগে দুই কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। স্পেনের জাতীয় পুলিশ এই ঘটনার তদন্ত পরিচালনা করেছে।
গ্রেপ্তার হওয়া দুই ব্যক্তি বিমানবন্দরের রানওয়ে বা পিস্টা এলাকার কর্মী ছিলেন। তারা আন্তর্জাতিক ট্রানজিট জোনে কাজ করতেন। এই এলাকায় সাধারণত সেই যাত্রীরা থাকেন যারা শেনজেন এলাকার বাইরের দেশ থেকে এসে অন্য কোনো শেনজেন-বহির্ভূত দেশে যাওয়ার জন্য ট্রানজিটে অপেক্ষা করেন। অর্থাৎ তাদের স্পেনে প্রবেশ করার কথা নয়, তারা কেবল অন্য ফ্লাইট ধরার জন্য অপেক্ষা করেন।
তদন্ত চলাকালে পুলিশ লক্ষ্য করে যে একজন বিমানবন্দর কর্মী প্রতিফলকযুক্ত (রিফ্লেকটিভ) ভেস্ট পরে ট্রানজিট জোনে যান এবং সেখানে অপেক্ষা করা এক নারী যাত্রীর সঙ্গে দেখা করেন। এরপর দুজনই একটি টয়লেটে প্রবেশ করেন। কিছুক্ষণ পরে তারা দুজনই একই ধরনের রিফ্লেকটিভ ইউনিফর্ম ও কর্মচারীর পরিচয়পত্র পরে বেরিয়ে আসেন।
এরপর তারা একটি সীমিত প্রবেশাধিকারযুক্ত লিফট ব্যবহার করে সীমান্ত নিরাপত্তা চেক এড়িয়ে সরাসরি শেনজেন এলাকার ফ্লাইট বোর্ডিং জোনে প্রবেশের চেষ্টা করেন। ঠিক সেই সময় পুলিশ তাদের আটক করে।
ওই কর্মচারীকে অবৈধ অভিবাসন সহায়তার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। আর ওই নারী যাত্রীকে তার নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।
তদন্তে আরও জানা যায়, আটক কর্মচারী নিজের আইডি কার্ড ব্যবহার করেননি। কারণ তার কার্ড দিয়ে ওই নির্দিষ্ট প্রবেশপথ চালু করা সম্ভব ছিল না। তাই তিনি তার এক সহকর্মীর আইডি কার্ড ব্যবহার করেন।
পরে তদন্তের ভিত্তিতে সেই দ্বিতীয় কর্মচারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়, কারণ তার আইডি কার্ড ব্যবহার করে এই কাজটি করা হয়েছিল। তাকে অপরাধে সহযোগিতার অভিযোগে আটক করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া দুই কর্মচারীর বিমানবন্দর আইডি ও কাজের অনুমতি সঙ্গে সঙ্গে বাতিল করা হয়েছে এবং তাদের বিমানবন্দরের ভেতরে কোনো ধরনের কাজ করার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ জানায়, তদন্ত শুরু হয় তখন যখন দেখা যায় কিছু যাত্রী ট্রানজিট জোনে প্রবেশ করার পর তাদের পরবর্তী ফ্লাইটে ওঠেননি এবং তারা অফিসিয়াল সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ পয়েন্ট দিয়েও বের হননি। এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতি দেখে পুলিশ সন্দেহ করে এবং পরে অনুসন্ধান চালিয়ে এই অবৈধ কার্যক্রমের বিষয়টি উদঘাটন করে।










