শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

স্পেনে অভিবাসীদের বৈধতা দেবার ঘোষণা: সুখবরের সঙ্গে আছে অস্পষ্টতা ও বিভ্রান্তি

মিরন নাজমুল প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩:৫৯ এম
স্পেনে অভিবাসীদের বৈধতা দেবার ঘোষণা: সুখবরের সঙ্গে আছে অস্পষ্টতা ও বিভ্রান্তি

দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর পর অনিয়মিত অভিবাসীদের নিয়মিত হওয়ার সুযোগ দিতে যাচ্ছে স্পেন সরকার। প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের নেতৃত্বাধীন এই উদ্যোগের আওতায় অন্তত পাঁচ লাখ মানুষ আইনি কাঠামোর মধ্যে আসতে পারেন।

বাংলাদেশি, পাকিস্তানি, ভারতীয় ও নেপালি কমিউনিটিসহ অনিয়মিত সকল অভিবাসীদের জন্য এটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ—কারণ এই জনগোষ্ঠীর বড় একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে কৃষি, রেস্তোরাঁ, ডেলিভারি, গার্মেন্টস সরবরাহ চেইন, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও গৃহস্থালি খাতে অনিয়মিত অবস্থায় কাজ করে আসছে। তাদের অনেকেই বছরের পর বছর কর পরোক্ষভাবে দিলেও আইনি পরিচয় না থাকায় রাষ্ট্রীয় সেবার বাইরে ছিলেন। এই উদ্যোগ তাদের জন্য কেবল কাগজপত্র পাওয়ার সুযোগ নয়; সামাজিক স্বীকৃতি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং পরিবারের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীল করার সম্ভাবনাও তৈরি করছে।

সামাজিক মাধ্যমে ভুল তথ্যের ছড়াছড়ি

ঘোষণার পর মাইক্রোব্লগিং প্ল্যাটফর্ম এক্স–এ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে—নিয়মিত হওয়া অভিবাসীরা নাকি জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন এবং সরকার নতুন ভোটার তৈরির রাজনৈতিক কৌশল নিয়েছে। এই বিভ্রান্তি দক্ষিণ এশীয় কমিউনিটির ভেতরও দ্রুত ছড়িয়েছে। অনেকেই মনে করছেন কাগজ পেলেই নাগরিকত্ব বা ভোটাধিকার মিলবে, যা বাস্তবে সঠিক নয়। ফলে অভিবাসন–সংক্রান্ত পরামর্শদাতা, কমিউনিটি সংগঠন এবং মসজিদ–কেন্দ্রিক সামাজিক নেটওয়ার্কগুলো এখন তথ্য যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হয়ে উঠছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

কারা আবেদন করতে পারবেন

সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে থেকে যারা স্পেনে বসবাস করছেন এবং আবেদন করার সময় টানা অন্তত পাঁচ মাস অবস্থানের প্রমাণ দিতে পারবেন, তারা এই সুযোগ পাবেন। দক্ষিণ এশীয়দের ক্ষেত্রে বাসা ভাড়া চুক্তি না থাকা, অন্যের কাগজে থাকা, নগদ লেনদেন বা অনানুষ্ঠানিক কাজে যুক্ত থাকার কারণে বসবাসের প্রমাণ দেখানো বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। তাই পাদরোন, রেমিট্যান্স রেকর্ড, চিকিৎসা নথি, সন্তানের স্কুলের কাগজ, এনজিও–সংযুক্তি—এসব নথি সংগ্রহ এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। আবেদনকারীর বিরুদ্ধে কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড থাকা যাবে না এবং জনশৃঙ্খলার জন্য হুমকি হওয়া চলবে না। একই সময়ের আগে আশ্রয়ের আবেদনকারীরাও এর আওতায় থাকবেন। চূড়ান্ত অনুমোদন মিললে এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত আবেদন গ্রহণের কথা রয়েছে।

দক্ষিণ এশীয় শ্রমবাজার বাস্তবতা

স্পেনের কৃষি, নির্মাণ, হোটেল–রেস্তোরাঁ, লোকাল বাজার, কনভিনিয়েন্স শপ, কাবাব–পিজ্জা ব্যবসা, ডেলিভারি প্ল্যাটফর্ম—এসব খাতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের দৃশ্যমান উপস্থিতি রয়েছে। অনেকেই দিনে ১০–১২ ঘণ্টা কাজ করেও শ্রমচুক্তি পান না, দুর্ঘটনায় পড়লে চিকিৎসা সুবিধা পান না, মজুরি নিয়ে আইনি লড়াই করার সুযোগ থাকে না। নিয়মিত হওয়ার ফলে এই চক্র ভাঙার সম্ভাবনা তৈরি হবে। নিয়োগকর্তারাও বৈধভাবে চুক্তি করতে বাধ্য হবেন।

বসবাসের আইনি ভিত্তি, স্থায়ী অনুমতি নয়

আবেদন মঞ্জুর হলে প্রথম ধাপে এক বছরের জন্য বসবাসের অনুমতি দেওয়া হবে। পরে সাধারণ অভিবাসন ব্যবস্থার নিয়ম অনুযায়ী নবায়নের পথ বেছে নিতে হবে। দক্ষিণ এশীয় অভিবাসীদের জন্য এর অর্থ—বছরের পর বছর “সিন পাপেলেস” অবস্থায় থাকার অনিশ্চয়তা থেকে বের হয়ে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, বৈধ বাসা ভাড়া নেওয়া, ব্যবসা নিবন্ধন করা, ড্রাইভিং লাইসেন্সের প্রক্রিয়ায় ঢোকা—এসব বাস্তব সুযোগ তৈরি হবে। নিয়মিত হওয়ার পর থেকেই বৈধ বসবাসের সময় গণনা শুরু হবে, যা ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদি বসবাস বা নাগরিকত্বের আবেদনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

কাজের বৈধ অধিকার ও শ্রমবাজারে প্রভাব

আবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণের পর থেকেই সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত কাজ করার বৈধ সুযোগ থাকবে। দক্ষিণ এশীয়দের একটি বড় অংশ বর্তমানে ভুয়া বা ধার করা কাগজে কাজ করেন; এতে শোষণের ঝুঁকি বেশি থাকে। বৈধ কাগজ পেলে ন্যূনতম মজুরি, কর্মঘণ্টা, ছুটি, ওভারটাইম—এসব আইনি অধিকার দাবি করা সম্ভব হবে। সামাজিক নিরাপত্তায় অবদান রাখার মাধ্যমে ভবিষ্যতে বেকার ভাতা, অসুস্থতা ভাতা ও পেনশন পাওয়ার পথও খুলবে।

পরিবার পুনর্মিলনের সম্ভাবনা

অনেক অভিবাসী বছরের পর বছর পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছেন। নিয়মিত হওয়ার পর নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে পরিবার পুনর্মিলনের আবেদন করা যাবে। এতে স্ত্রী–সন্তানকে বৈধভাবে স্পেনে আনার পথ তৈরি হবে, যা কমিউনিটির সামাজিক স্থিতিশীলতা বাড়াবে এবং দ্বিতীয় প্রজন্মের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করবে।

অপ্রাপ্তবয়স্কদের ভবিষ্যৎ

দক্ষিণ এশীয় পরিবারের যেসব সন্তান ইতোমধ্যে স্পেনে রয়েছে, তাদের জন্য পাঁচ বছরের বসবাসের অনুমতির সম্ভাবনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে স্কুল–কলেজে পড়াশোনা, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা—সবকিছুই স্থায়ী কাঠামোর মধ্যে আসবে। অনেক শিশু যারা এতদিন ভয়ের মধ্যে বড় হয়েছে, তাদের জন্য এটি স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ।

নাগরিকত্ব ও ভোটাধিকার নিয়ে বাস্তবতা

নিয়মিত হওয়া মানেই নাগরিকত্ব নয়। সাধারণ নিয়মে ১০ বছর বৈধভাবে বসবাসের পর নাগরিকত্বের আবেদন করা যায়—যা দক্ষিণ এশীয়দের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। নাগরিকত্ব না পাওয়া পর্যন্ত জাতীয় বা আঞ্চলিক নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই। ফলে “কাগজ পেলেই ভোট” —এই ধারণা বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না।

কমিউনিটি অর্থনীতি ও রেমিট্যান্সে প্রভাব

বৈধ কাঠামোয় এলে লোকুটোরিও, গ্রোসারি, রেস্তোরাঁ, মোবাইল শপ ব্যবসা সম্প্রসারণ করা সম্ভব হতে পারে। —ব্যাংকিং সুবিধা পাওয়া সহজ হবে, ঋণ নেওয়া যাবে, এতে স্পেনের স্থানীয় অর্থনীতির পাশাপাশি দেশে পাঠানো রেমিট্যান্সও বাড়তে পারে।

এখনও যেসব বিষয় স্পষ্ট নয়

আইন চূড়ান্ত না হওয়ায় আবেদন পদ্ধতি, কোন নথি গ্রহণযোগ্য হবে, অনলাইন না সরাসরি আবেদন—এসব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ভাষাগত সীমাবদ্ধতা ও আইনি প্রক্রিয়া বোঝার অভাব বড় বাধা হতে পারে। তাই কমিউনিটি সংগঠন, আইনজীবী ও এনজিও–ভিত্তিক সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

২০০৫ সালের অভিজ্ঞতা ও বর্তমান বাস্তবতা

২০০৫ সালে নিয়মিতকরণের সময়ও দক্ষিণ এশীয়দের একটি বড় অংশ বৈধতা পেয়েছিল, যার ফলে ছোট ব্যবসা বেড়েছিল এবং স্থায়ী বসবাসের পথ তৈরি হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে বাসস্থান সংকট, রাজনৈতিক মেরুকরণ ও প্রশাসনিক চাপ থাকলেও শ্রমিক ঘাটতি এবং বয়স্ক জনসংখ্যার কারণে অভিবাসীদের বৈধ কাঠামোয় আনা অর্থনীতির জন্য প্রয়োজনীয় বলে মনে করা হচ্ছে।

সর্বোপরি, অনিয়মিত অভিবাসীদের জন্য এটি কেবল একটি আইনি প্রক্রিয়া নয়—বরং দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর সামাজিক স্বীকৃতি, শ্রমের মর্যাদা, পারিবারিক পুনর্মিলন এবং নতুন প্রজন্মের ভবিষ্যৎ গড়ার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ। তবে সফলতা নির্ভর করবে সঠিক তথ্যপ্রাপ্তি, নথি প্রস্তুতি, সময়মতো আবেদন এবং বৈধ কর্মসংস্থানে যুক্ত হওয়ার ওপর।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৯৫৫

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫৫ পিএম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৯৫৫

দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৯৫৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক দিনে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ডেঙ্গুতে একজন করে মারা গেছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে দেশে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১১ জনে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী ভর্তির দিক থেকে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে। এ বিভাগে ২৪৬ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া ঢাকা বিভাগে ২৪১ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৩৩ জন, খুলনা বিভাগে ১৩০ জন এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৭৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

একই সময়ে বরিশাল ও রংপুর বিভাগে ৪৪ জন করে, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩৭ জন এবং সিলেট বিভাগে চারজন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের হিসাব অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট ২১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগেই মারা গেছেন ১০২ জন। এই হিসাবের মধ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মৃত্যুর সংখ্যাও রয়েছে।

এ ছাড়া একই সময়ে খুলনা বিভাগে ৩৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২১ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ২০ জন, বরিশাল বিভাগে ১৬ জন, রাজশাহী বিভাগে ১০ জন, রংপুর বিভাগে চারজন এবং সিলেট বিভাগে একজন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য বলছে, চলতি সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৫ দিনেই ডেঙ্গুতে ১১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলে হার বাংলাদেশের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫৪ পিএম
মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলে হার বাংলাদেশের

আসিয়ান কাপে নিজেদের অভিষেক ম্যাচেই মালয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলে পরাজিত হয়েছে বাংলাদেশ। শুক্রবার ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তার গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় দুপুর ৩টায় শুরু হওয়া ম্যাচে শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছে মালয়েশিয়া।

আসিয়ান কাপে প্রথমবারের মতো মাঠে নেমে শুরু থেকেই চাপে ছিল হামজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দল। ম্যাচের ১৮ মিনিটে আরিফ আইমানের গোলে এগিয়ে যায় মালয়েশিয়া। এরপর ৩৭ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে দলের ব্যবধান ২-০ করেন আইমান। দুই গোলের ঘাটতি নিয়েই বিরতিতে যেতে হয় বাংলাদেশকে।

বিরতির পরও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখে মালয়েশিয়া। ৫২ মিনিটে বাংলাদেশের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে বক্সের ভেতর থেকে গোল করেন বার্গুসন। তার গোলে মালয়েশিয়ার লিড বেড়ে দাঁড়ায় ৩-০।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

এরপর গোল পরিশোধে কয়েক দফা আক্রমণ গড়ে তোলে বাংলাদেশ। তবে সুযোগ তৈরি করেও সেগুলো কাজে লাগাতে পারেনি লাল-সবুজের দল। শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলের পরাজয় নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় বাংলাদেশকে।

এর আগে চার বছর আগে এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বে মালয়েশিয়ার মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচেও ৪-১ গোলে হেরেছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এবার আসিয়ান কাপেও মালয়েশিয়ার বিপক্ষে জয়ের দেখা পেল না বাংলাদেশ।

সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা রক্ষায় সেনা পাঠাচ্ছে ফ্রান্স

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩৭ পিএম
সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা রক্ষায় সেনা পাঠাচ্ছে ফ্রান্স

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি মিলিশিয়ার হামলার পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা সুরক্ষায় সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে ফ্রান্স। তবে এই সামরিক মোতায়েন কোনো সংঘাতে অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে নয়, বরং সৌদির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্যারিস।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সৌদি আরবে সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্তের কথা জানান। একই দিন দুই দেশের মধ্যে হওয়া একটি চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের উপকূলীয় শহর ইয়ানবুর জ্বালানি অবকাঠামো সুরক্ষায় ফ্রান্স সেনা, রাডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠাবে বলে জানান তিনি।

সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম ফ্রান্স ২-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ম্যাক্রোঁ বলেন, কোনো সংঘাতে জড়ানোর জন্য নয়, বরং জ্বালানি স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এসব সামরিক সরঞ্জাম ও সেনা পাঠানো হবে। পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে সৌদি আরবকে আরও সামরিক সহায়তা দেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি তিনি।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ম্যাক্রোঁ জানান, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ছয় মাসের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের মধ্যে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দেশের বাজারে গ্যাসের দাম কমাতে ফ্রান্স বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। সৌদি আরবে সামরিক সহায়তা পাঠানোর সিদ্ধান্তও সেই উদ্যোগের অংশ।

চলমান সংঘাতের প্রভাবে তেল ও গ্যাস পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানের মিত্র হুথি মিলিশিয়া সৌদি আরবে একাধিক হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার কারণে লোহিত সাগরসংলগ্ন বন্দরগুলো থেকে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছে। দীর্ঘদিনের উত্তেজনা আবারও সশস্ত্র সংঘাতে রূপ নেওয়ার প্রেক্ষাপটেই সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা সুরক্ষায় সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিল ফ্রান্স।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক