শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

লিবিয়ায় নারকীয় জীবনের কথা বিশ্বকে জানাতে চান বাংলাদেশি

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৭ আগস্ট, ২০২৫, ৭:৫২ পিএম
লিবিয়ায় নারকীয় জীবনের কথা বিশ্বকে জানাতে চান বাংলাদেশি

চলতি গ্রীষ্মের সূর্যটা বেশ চোখ রাঙাচ্ছে ভূমধ্যসাগর পাড়ের দ্বীপ লাম্পেদুসায়। ইতালির দক্ষিণাঞ্চল সিসিলি দ্বীপপুঞ্জের অংশ এটি। মাসখানেক আগে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে দ্বীপটিতে পৌঁছেছেন কয়েকজন বাংলাদেশি ও সুদানি তরুণ। লিবিয়ার যন্ত্রণাদগ্ধ দিনগুলো ছেড়ে আসা এসব তরুণের চোখে এখনও বিস্ময় খেলা করে।

এই তরুণদের আশ্রয় দিয়েছে আগ্রিজেন্তোর স্থানীয় একটি গির্জা। ওই গির্জা আয়োজিত গ্রীষ্মকালিন নানা কর্মকাণ্ডে মেতে আছে স্থানীয় শিশুরা। প্রখর রোদেও ফুটবল মাঠে দাপিয়ে বেড়াচ্ছিলো তারা। মাঠের এক কোণে ছায়ায় বসে তা দেখছিলেন সদ্য সাগর পেরিয়ে আসা অভিবাসী তরুণেরা।

ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৫ জুলাই পর্যন্ত ভূমধ্যসাগর পেরিয়ে দেশটিতে আসা অভিবাসীর সংখ্যা ৩৫ হাজার ৭৯২। এদের মধ্যে বাংলাদেশিরাই শীর্ষে রয়েছেন। এই সময় এসেছেন ১০ হাজার ৯৮৯ জন বাংলাদেশি। এরপরেই আছে ইরিত্রিয়া আর মিশরের নাগরিকেরা।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তপ্ত দুপুরে কথা হয় বাংলাদেশ থেকে আসা ১৭ বছর বয়সী তরুণ রহিমের* সঙ্গে। তার সঙ্গে আলাপে উঠে আসে, লিবিয়ায় অভিবাসীদের ভয়ঙ্কর জীবনের কথা, পাচারের শিকার অভিবাসীদের হাতবদলের গল্প।

লিবিয়া ছেড়ে এসেছেন মাস পেরিয়ে গেছে। কিন্তু লিবিয়ার জীবন নিয়ে কথা বলতে এখনও খুব কষ্ট হয় তার। কিন্তু যন্ত্রণা চেপেও সেই গল্পটা বলতে চান রহিম।

তিনি বলেন, ‘এ বছরের ২৫ জুন আমরা লাম্পেদুসায় পৌঁছেছি। আমাদের উদ্ধার করে ইতালির একটি সামরিক জাহাজ। জুওয়ারা থেকে একটি কাঠের নৌকা নিয়ে রওনা দিয়েছিলাম আমরা।’

ইতালি পৌঁছার আগে ১৪ মাস লিবিয়া থেকেছেন রহিম। বললেন, ‘এই সময়ের মধ্যে আমরা তিনবার জায়গা বদল করেছি।’ এই ১৪ মাসের কিছুদিন ত্রিপোলি, সাব্রাথায় এবং জুওয়ারায় কেটেছে তার।

এত জায়গা বদলের কারণ হিসেবে রহিম বলেন, ‘লিবীয় পাচারকারীরা বাংলাদেশি মাফিয়ার সঙ্গে মিলে আমাদের একস্থান থেকে অন্য স্থানে সরিয়ে নিয়ে গেছে।’

গল্পের শুরু
বাংলাদেশ থেকে রহিম যাত্রা শুরু করেছিলেন ২০২৪ সালের ৩ মার্চ। রাজধানী ঢাকার কাছের জেলা মাদারীপুরের কালিকাপুর গ্রামেই তার বেড়ে ওঠা।

রহিম বলেন, ‘বাংলাদেশি মাফিয়াদের জন্য যারা কাজ করে আমরা তাদের তত্ত্বাবধানে ছিলাম। ঢাকা থেকে প্রথমে আমরা দুবাইয়ের উদ্দেশে রওনা হই। সেখান থেকে আমাদের নিয়ে আসা হয় মিশরের আলেকজান্দ্রায়। সেখান থেকেই লিবিয়া রওনা দেওয়ার কথা। সেখানে একটি ঘরে আমাদের রাখা হয়। লিবিয়ার উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে সেখানে বাংলাদেশিদের নাকি দুই থেকে চারদিন রাখা হয়।’

এই কথার সত্যতা পাওয়া গেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্ত সুরক্ষা সংস্থা ফ্রন্টেক্স-এর অনুসন্ধানেও। তারা জানিয়েছে, বাংলাদেশিদের ঢাকা থেকে লিবিয়া পৌঁছানোর ক্ষেত্রে মিশরের আলেকজেন্দ্রা একটি অন্যতম ট্রানজিট পয়েন্ট।

নরকের দিনগুলো
লিবিয়া পৌঁছার পরের গল্পটাও বলেন রহিম। তিনি বলেন, ‘শুরুতে লিবিয়ার ত্রিপোলির একটি ঘরে আমাদের রাখা হয়েছিল। কিছুদিন পর সেখানে এক লোক আসে। ওই লোক বাংলাদেশিদের ইতালিতে পাচারের কাজ করতো। সে-ই লোক আমাদের ত্রিপোলির ওই ঘর থেকে সাব্রাথায় নিয়ে যায়।’

সাব্রাথায় তাকে-সহ অন্যদের রাখা হয়েছিল ছোট একটি কক্ষে। সেই কক্ষের একটি ভিডিও করতে পেরেছিলেন রহিম। সেখানেই তার নারকীয় জীবন শুরু হয় বলে জানান রহিম।

তিনি বলেন, ‘আমাদের সবাইকে ওই ঘরে আটকে রাখা হয়েছিল। আমার মতো অনেক তরুণ সেখানে ছিলেন। বয়স্করাও ছিলেন। তারা আমাদের খাবার দিতো না এবং আমাদের মারধর করতো। পরে আমাদের তিনটি আলাদা কক্ষে ভাগ করা হয়েছিল। তিন জন লিবিয়ান নাগরিক এবং এক বাংলাদেশি ওই ঘরটির দেখাশোনার দায়িত্বে ছিল।’

ওই কক্ষগুলোর ভেতরে যা ঘটেছিল তা খুবই ভয়াবহ বলে জানান রহিম। তিনি বলেন, ‘তারা আমাদের পরিবারের ফোন নম্বর জানতে চেয়েছিল। আমাদের মারধর করার সময় পরিবারের কাছে টাকা চেয়ে ভিডিও কল দিয়েছিল। তারা প্রায় এক হাজার ইউরো চেয়েছিল এবং তারা বলেছিল যে সাত দিনের মধ্যে টাকা দিতে হবে। আমার পরিবারের কাছে টাকা ছিল না, তাই তারা আমাকে মারধর করে এবং আমার একটি নখ উপড়ে ফেলে। তারপর আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি এবং পরে কী হয়েছিল আমার আর মনে নেই।’

শরীরে ক্ষত, হৃদয় বিক্ষত
রহিম তখন তার ডান হাতের আঙুলটি দেখান। যা তার ওপর অমানবিক নির্যাতনের চিহ্ন বহন করছে।

রহিম আরও বলেন, ‘তারা ছয় মাস ধরে প্রতিদিন আমাদের মারধর করে, রাত ৩টায় আমাদের মারধর করা হতো, তখন বাংলাদেশে সকাল ৭টা। আর ভিডিও কল দিয়ে সেই দৃশ্য দেখিয়ে টাকা দাবি করতো।’

রহিমের মা আর বেঁচে নেই। বাবা আছেন, কিন্তু ভীষণ অসুস্থ। আর আছে দুই ভাই। সেই দুই ভাই বয়সে তার চেয়েও ছোট।

রহিম বলেন, ‘আমি পাচারকারীকে আমার খালার নম্বর দিয়েছিলাম। কারণ আমি চাইনি আমার বাবা এটা দেখুক।’

কান্না জড়ানো গলায় রহিম বলেন, ‘আমার পরিবার দরিদ্র এবং আমার একমাত্র ইচ্ছা হলো আমার বাবা এবং ভাইদের উন্নত জীবনযাপনে সাহায্য করা। আমি তাদের শান্তিতে রাখতে চাই।’

সাগর পেরোনোর সাহস
সাব্রথায় দীর্ঘ সময় কাটানোর পর রহিম এবং অন্যান্য বাংলাদেশি অভিবাসীদের জুনে জুওয়ারায় স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। রহিম বলেন, ‘রাতে জুওয়ারার এক মরুভূমিতে রাখা হয় আমাদের। সেখান থেকে হেঁটে এক মসজিদে পৌঁছাই আমরা। সেখানে হাজার খানেক বাংলাদেশি ছিলেন।’

‘জুওয়ারা থেকেই আমরা ইতালির উদ্দেশে যাত্রা শুরু করি’, বলে জানান রহিম। ভয়াল ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে চড়ে বসেন একটি কাঠের নৌকায়।

৯ জুন ভূমধ্যসাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে ৮৯ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করে গার্ডিয়া ডি ফিনাঞ্জা। উদ্ধারের পর অভিবাসীদের পৌঁছে দেওয়া হয় লাম্পেদুসায়। অভিবাসীদের মধ্যে ২৮ জন ছিলেন বাংলাদেশি৷ তাদের একজন রহিম।

নির্যাতনের গল্প জানুক বিশ্ব
রহিম যখন ইতালি পর্যন্ত নিজের ভ্রমণের কথা ভাবেন, তার কাছে সবকিছু বিস্ময় লাগে। তিনি বলেন, ‌‘আমি কখনও এই অমানবিক আচরণের কথা ভাবতে পারিনি। যখন আমি আমার গ্রামে ছিলাম, তখন আমি কখনও ভাবতে পারিনি লিবিয়া আসলে বাংলাদেশিদের জন্য কোন পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে। বিশ্বের সবার জানা উচিত লিবিয়ায় বাংলাদেশিদের সঙ্গে কী ঘটে।’

হাহাকার মেশানো গলায় প্রশ্ন ছোঁড়ে দিয়ে বলেন, ‘মানুষ কীভাবে অন্য মানুষের ওপর এভাবে অত্যাচার করতে পারে?’

‘আউসিলিয়া ই ব্রাভা, তি আমো’
৮০ বছর বয়সী সিস্টার আউসিলিয়ার আদর-স্নেহ আর মমতায় এখন সময় কাটছে রহিমের। ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে আসা অভিবাসীদের প্রধান গন্তব্য লাম্পেদুসার মোলো ফাভালোরোতে তিন বছর ধরে কাজ করছেন এই সিস্টার। রহিমের কাছে এই প্রবীণ নারী মায়ের সমতুল্য। রহিম অকপটে বলেও ফেললেন সেই কথা, ‘তিনি আমার মা।’

পোস্ট কার্ডের ঢঙে নিজের লেখা দেখান রহিম। সেখানে লেখা, ‘আউসিলিয়া ই ব্রাভা, তি আমো’। এর অর্থ ‘আউসিলিয়া খুব ভালো, আমি তোমাকে ভালোবাসি।’

লাম্পেদুসায় এক মাসেরও বেশি সময় পার হয়েছে রহিমের। এই কদিনে ইতালিয়ান কিছু শব্দ শিখেছেন এই তরুণ। তিনি বলেন, ‘আমি পড়াশোনা করতে চাই, তারপর একটি চাকরি খুঁজে বের করব যেন পরিবারকে সহযোগিতা করতে পারি। আমার বাবা এবং ভাইদের জন্য আমি সর্বোচ্চ করতে চাই।’

*এই বাংলাদেশি অভিবাসী অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় নিরাপত্তার কারণে তার প্রকৃত নামের বদলে ছদ্মনাম হিসেবে ‘রহিম’ ব্যবহার করা হয়েছে।

সূত্র: ইনফোমাইগ্রেন্টস

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৯৫৫

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫৫ পিএম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৯৫৫

দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৯৫৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক দিনে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ডেঙ্গুতে একজন করে মারা গেছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে দেশে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১১ জনে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী ভর্তির দিক থেকে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে। এ বিভাগে ২৪৬ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া ঢাকা বিভাগে ২৪১ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৩৩ জন, খুলনা বিভাগে ১৩০ জন এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৭৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

একই সময়ে বরিশাল ও রংপুর বিভাগে ৪৪ জন করে, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩৭ জন এবং সিলেট বিভাগে চারজন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের হিসাব অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট ২১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগেই মারা গেছেন ১০২ জন। এই হিসাবের মধ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মৃত্যুর সংখ্যাও রয়েছে।

এ ছাড়া একই সময়ে খুলনা বিভাগে ৩৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২১ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ২০ জন, বরিশাল বিভাগে ১৬ জন, রাজশাহী বিভাগে ১০ জন, রংপুর বিভাগে চারজন এবং সিলেট বিভাগে একজন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য বলছে, চলতি সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৫ দিনেই ডেঙ্গুতে ১১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলে হার বাংলাদেশের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫৪ পিএম
মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলে হার বাংলাদেশের

আসিয়ান কাপে নিজেদের অভিষেক ম্যাচেই মালয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলে পরাজিত হয়েছে বাংলাদেশ। শুক্রবার ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তার গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় দুপুর ৩টায় শুরু হওয়া ম্যাচে শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছে মালয়েশিয়া।

আসিয়ান কাপে প্রথমবারের মতো মাঠে নেমে শুরু থেকেই চাপে ছিল হামজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দল। ম্যাচের ১৮ মিনিটে আরিফ আইমানের গোলে এগিয়ে যায় মালয়েশিয়া। এরপর ৩৭ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে দলের ব্যবধান ২-০ করেন আইমান। দুই গোলের ঘাটতি নিয়েই বিরতিতে যেতে হয় বাংলাদেশকে।

বিরতির পরও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখে মালয়েশিয়া। ৫২ মিনিটে বাংলাদেশের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে বক্সের ভেতর থেকে গোল করেন বার্গুসন। তার গোলে মালয়েশিয়ার লিড বেড়ে দাঁড়ায় ৩-০।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

এরপর গোল পরিশোধে কয়েক দফা আক্রমণ গড়ে তোলে বাংলাদেশ। তবে সুযোগ তৈরি করেও সেগুলো কাজে লাগাতে পারেনি লাল-সবুজের দল। শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলের পরাজয় নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় বাংলাদেশকে।

এর আগে চার বছর আগে এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বে মালয়েশিয়ার মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচেও ৪-১ গোলে হেরেছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এবার আসিয়ান কাপেও মালয়েশিয়ার বিপক্ষে জয়ের দেখা পেল না বাংলাদেশ।

সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা রক্ষায় সেনা পাঠাচ্ছে ফ্রান্স

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩৭ পিএম
সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা রক্ষায় সেনা পাঠাচ্ছে ফ্রান্স

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি মিলিশিয়ার হামলার পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা সুরক্ষায় সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে ফ্রান্স। তবে এই সামরিক মোতায়েন কোনো সংঘাতে অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে নয়, বরং সৌদির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্যারিস।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সৌদি আরবে সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্তের কথা জানান। একই দিন দুই দেশের মধ্যে হওয়া একটি চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের উপকূলীয় শহর ইয়ানবুর জ্বালানি অবকাঠামো সুরক্ষায় ফ্রান্স সেনা, রাডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠাবে বলে জানান তিনি।

সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম ফ্রান্স ২-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ম্যাক্রোঁ বলেন, কোনো সংঘাতে জড়ানোর জন্য নয়, বরং জ্বালানি স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এসব সামরিক সরঞ্জাম ও সেনা পাঠানো হবে। পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে সৌদি আরবকে আরও সামরিক সহায়তা দেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি তিনি।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ম্যাক্রোঁ জানান, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ছয় মাসের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের মধ্যে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দেশের বাজারে গ্যাসের দাম কমাতে ফ্রান্স বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। সৌদি আরবে সামরিক সহায়তা পাঠানোর সিদ্ধান্তও সেই উদ্যোগের অংশ।

চলমান সংঘাতের প্রভাবে তেল ও গ্যাস পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানের মিত্র হুথি মিলিশিয়া সৌদি আরবে একাধিক হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার কারণে লোহিত সাগরসংলগ্ন বন্দরগুলো থেকে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছে। দীর্ঘদিনের উত্তেজনা আবারও সশস্ত্র সংঘাতে রূপ নেওয়ার প্রেক্ষাপটেই সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা সুরক্ষায় সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিল ফ্রান্স।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক