শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

«প্রবাসীর রোজা» পরিবার-পরিজন ছেড়ে সুদূর প্রবাসে নীরব ত্যাগের এবাদত

মিরন নাজমুল প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২:১৮ এম
«প্রবাসীর রোজা» পরিবার-পরিজন ছেড়ে সুদূর প্রবাসে নীরব ত্যাগের এবাদত

প্রবাস জীবনের কর্ম ব্যস্তময় সময়। কীভাবে পার হয় মাস, বছর –টের পাওয়া যায় না।

তবু বছর ঘুরে রমজান এলে খুব বেশি মনে পড়ে দেশের কথা। সন্ধ্যায় ইফতারের সময়ের মাগরিবের আজান শোনা হয় না কত দিন। মায়ের ডাক শোনা যায় না- “খোকা আজান দিছে, ইফতার করতে আয়।”
রমজান শুধু সংযমের মাস নয়, এই মাসের সাথে বাংলাদেশের মানুষের স্মৃতির শিকড় অনেক গভীরে লুকিয়ে থাকে। বছর ঘুরে রমজান এলে প্রবাসীদের কর্মজীবনে বিশেষ পরিবর্তন আসে না। বরং প্রবাসের কঠিন জীবনে অনেক বাংলাদেশি শ্রমজীবীদের হৃদয়ে নেমে আসে এক অদ্ভুত নীরবতা।
পাড়ার মসজিদের সন্ধ্যার আলো, আর পরিবারের সঙ্গে বসে দোয়া করার সেই চিরচেনা মুহূর্তগুলো এখানে কঠিন বাস্তবতায় হারিয়ে যায়। প্রবাসে নেই সেই গন্ধ, নেই সেই চেনা কোলাহল, নেই প্রিয় মুখগুলো। —আছে শুধু কাজের তাড়া, সময়ের সঙ্গে যুদ্ধ আর বুকের ভেতর লুকিয়ে রাখা এক সমুদ্রভরা স্মৃতি। সূর্য ডোবে দেরিতে, কাজ শেষ হয় আরও পরে, তবুও ক্লান্ত শরীর আর ভেজা চোখ নিয়েই তারা রোজা রাখেন—কারণ এই রোজা তাদের কাছে শুধু ইবাদত নয়, দূরদেশে থেকেও নিজের শেকড় আঁকড়ে থাকার এক গভীর, নীরব ভালোবাসা।

স্পেনের মাদ্রিদে থাকে “সোহেল”। রোজার এই বাস্তবতার এক নীরব প্রতিচ্ছবি। তার কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই। দিনে তিনি গ্লোভোর ব্যাগ পিঠে নিয়ে সাইকেল চালিয়ে মানুষের ঘরে ঘরে খাবার পৌঁছে দেন। ইফতারের সময় কখন হবে, তিনি তা ঠিক করেন না—মোবাইলের অ্যাপে অর্ডারের চাপই ঠিক করে দেয় তার সময়। কখনো কোনো অ্যাপার্টমেন্টের সামনে দাঁড়িয়ে, কখনো রাস্তার মোড়ে সাইকেল ঠেকিয়ে খেজুর আর পানির বোতল দিয়ে ইফতার করেন। সাইকেল চালাতে চালাতে হঠাৎ থেমে যান—মনে পড়ে গ্রামের বাড়ির সেই সোনালি বিকেল, মায়ের ডাক, টেবিলভরা ইফতার আর মসজিদের মাইকে ভেসে আসা আজান। চোখ ঝাপসা হয়ে আসে, কিন্তু পরের অর্ডারের নোটিফিকেশন তাকে আবার বাস্তবে ফিরিয়ে আনে।
কাতালোনিয়ায় নির্মাণশ্রমিক “রাশেদ” (ছদ্মনাম) ভোররাত তিনটায় উঠে সেহেরি করেন। রান্না বলতে আগের রাতে রাখা ভাত, ডিম ভাজি আর পানি। চারটায় ফজর পড়ে একটু ঘুমানোর সুযোগ থাকলেও অধিকাংশ দিনই তা হয় না। সকাল সাতটার মধ্যে তাকে কাজে পৌঁছাতে হয়। গরমে কাজ করতে করতে বিকেল গড়িয়ে যায়, কিন্তু ইফতারের সময় তখনও অনেক দূর। কাজের সাইটে বসে খেজুর আর পানির বোতল হাতে নিয়ে সূর্য ডোবার অপেক্ষা করতে করতে তার মনে পড়ে গ্রামের বাড়ির মসজিদের মাইক, মায়ের হাতের বেগুনি আর ছোট ভাইয়ের হাসিমুখ।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ইতালির মিলানে গার্মেন্টসের গুদামে কাজ করা “শাহীন”। রোজার সময় সবচেয়ে বেশি কষ্ট পান সময়ের কারণে। কাজের চাপের জন্য নির্দিষ্ট বিরতি মেলে না। ইফতারের সময় চলে আসে, কিন্তু কাজের লাইন থামানো যায় না। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে থাকলে এই সময় বাসায় সবাই মিলে টেবিলে বসতাম। এখানে মেশিনের শব্দের মধ্যে লুকিয়ে খেজুর খাই।” তার চোখে পানি আসে, কিন্তু সহকর্মীরা যেন না দেখে, সে জন্য দ্রুত মুখ ঘুরিয়ে নেন।

ফ্রান্সের প্যারিসে ফুড ডেলিভারি করা “নাঈম” (ছদ্মনাম) ইফতার করেন রাস্তায় দাঁড়িয়ে। এক হাতে বাইকের হ্যান্ডেল, অন্য হাতে মোবাইল অ্যাপ—এর মধ্যেই সময় দেখে খেজুর মুখে দেন। মাঝে মাঝে কোনো পার্কের বেঞ্চে বসে পানি খেয়ে আবার ছুটতে হয় পরের অর্ডারের জন্য। তিনি বলেন, “রোজার আনন্দ আছে, কিন্তু একা ইফতার করতে বসলে মনে হয় জীবনের সবচেয়ে বড় শূন্যতা এই প্রবাস।”

জার্মানির বার্লিনে ক্লিনিং সার্ভিসে কাজ করা “মরিয়ম” (ছদ্মনাম) স্বামী-সন্তান দেশে রেখে একা থাকেন। ভিডিও কলে ছেলের মুখ দেখে ইফতার করেন। ছেলেটি স্ক্রিনের ওপাশ থেকে বলে, “আম্মু তুমি কবে আসবা?” এই একটি প্রশ্ন তার পুরো রোজার মাসটাকে আরও ভারী করে তোলে। তারপরও নামাজ শেষে দোয়া করেন—এই কষ্ট যেন একদিন পরিবারের জন্য সুখ হয়ে ফিরে আসে।

পর্তুগালের লিসবনে রেস্টুরেন্টে কাজ করা “জসিম” (ছদ্মনাম) ইফতার করেন অন্যদের খাবার পরিবেশন করতে করতে। ইফতারের সময়টায় তার কাজ সবচেয়ে বেশি থাকে। রাত গভীর হলে, যখন সব গ্রাহক চলে যায়, তখন তিনি চুপচাপ বসে ঠান্ডা হয়ে যাওয়া খাবার দিয়ে ইফতার সম্পন্ন করেন। তার ভাষায়, “রোজা রাখার তৃপ্তি আছে, কিন্তু ইফতারের সময় পরিবারের পাশে না থাকতে পারার কষ্টটা সবকিছুকে হার মানায়।”

যুক্তরাজ্যের লন্ডনে ট্যাক্সি চালানো “হাবিব” (ছদ্মনাম) ইফতারের সময় গাড়ি রাস্তার পাশে থামিয়ে দেন। ছোট একটি বক্সে রাখা খেজুর, পানি আর একটি কলা—এটাই তার প্রতিদিনের ইফতার। গাড়ির জানালার বাইরে ব্যস্ত শহর ছুটে চলে, আর তার মনে পড়ে গ্রামের বাড়ির সেই মাগরিবের আজান, যেখানে ইফতারের আগে সবাই একসঙ্গে দোয়া করত।

এই প্রবাসজীবনে রোজা শুধু ক্ষুধা-তৃষ্ণার পরীক্ষা নয়, এটি মানসিক শক্তিরও পরীক্ষা। পরিবার থেকে দূরে একা থাকা, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, অনিশ্চিত কাগজপত্রের জীবন, ভিন্ন আবহাওয়া—সবকিছুর সঙ্গে মানিয়ে নিয়েও তারা রোজা রাখেন এক গভীর ভালোবাসা নিয়ে। বাংলাদেশের স্মৃতিময় ইফতার, মসজিদের তারাবি, আত্মীয়স্বজনের দাওয়াত—সবকিছু যেন তাদের হৃদয়ে একসঙ্গে বাজতে থাকে।

তবুও এই কষ্টের মধ্যেও এক ধরনের প্রশান্তি আছে। কারণ দিনের শেষে তারা জানেন—এই ত্যাগ, এই কষ্ট, এই একাকিত্ব—সবকিছুই প্রিয়জনদের ভালো রাখার জন্য। ইউরোপের আকাশে সূর্য ডুবতে দেরি হয়, কিন্তু তাদের বিশ্বাসের আলো কখনও নিভে যায় না। রোজার প্রতিটি দিন তাদের মনে করিয়ে দেয়—দূরে থাকলেও তারা বাংলাদেশেরই মানুষ, সেই শেকড়ই তাদের শক্তি।

মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২০ পিএম
মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে শোষণ ও অনিয়ম ঠেকাতে নতুন একটি কার্যকর ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া ও নেপাল। এ ব্যবস্থায় শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও জবাবদিহিমূলক করার পাশাপাশি শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত খরচের বোঝা চাপানো এবং অসাধু মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আর. রামানান এ তথ্য জানিয়েছেন। নেপালের যুব, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী রামজি যাদবের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ঐকমত্য হয়। আলোচনায় শ্রম ও কর্মসংস্থান খাতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ও উঠে আসে।

বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক পোস্টে রামানান বলেন, মালয়েশিয়া ও নেপাল উভয় দেশই অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে আরও সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছে। একই সঙ্গে এমন সব চর্চা বন্ধ করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেগুলো শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা চাপায় কিংবা তাদের শোষণ ও প্রতারণার ঝুঁকিতে ফেলে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, বিদেশি শ্রমিক ব্যবস্থাপনায় মালয়েশিয়া সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও শ্রমিক সুরক্ষার নীতিতে অটল থাকবে। একই সঙ্গে দেশের শিল্প ও শ্রমবাজারের প্রকৃত চাহিদাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

রামানানের ভাষায়, নীতিটি পরিষ্কার ব্যবস্থাকে অবশ্যই শ্রমিকদের সুরক্ষা দিতে হবে, নিয়োগকর্তাদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে এবং একই সঙ্গে শোষণ ও নির্যাতনের কোনো সুযোগ রাখা যাবে না।
তিনি বলেন, ১৯৬০ সাল থেকে মালয়েশিয়া ও নেপালের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। দুই দেশ শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে যথাযথ দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ ও আলোচনার ধারা অব্যাহত রাখবে।

এদিকে গত মাসে নেপালে ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় নেপাল সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী।
রামানান বলেন, ওই দুর্যোগের পর এখনো ৫৫ জন মালয়েশীয় নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাদের বিষয়ে মাদানি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে নজর রাখছে এবং তাদের ভাগ্য সম্পর্কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও সংশ্লিষ্ট দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৪৫০ ছাড়িয়েছে। নেপাল ও চীন মিলিয়ে এখনো ৬ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৯ এম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯ জনে। এর মধ্যে আগস্ট মাসে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৩ দিনে মারা গেছেন ১১২ জন। এছাড়া জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বুলেটিনে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৭৮২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৪৯ জনে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ৭৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৩ হাজার ৮৭৪ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৭১৬ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৮ জন, খুলনায় ২৮৬ জন, বরিশালে ১৬৪ জন, রাজশাহীতে ১৩০ জন, ময়মনসিংহে ১০৮ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ এম
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত বন্ধে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে ফিলিস্তিনসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, “স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে।”

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, “আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায় তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।”

যুদ্ধ-সংঘাতে বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট

ভাষণে বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের প্রভাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে একের পর এক মানবিক সংকট।

যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিও তীব্র চাপের মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

সংঘাতের সমাধান আলোচনায়, কূটনীতিতে

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের সমাধানে সামরিক শক্তির পরিবর্তে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে হওয়া উচিত।

বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের প্রত্যাশা এমন একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয়; বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা।”

জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে সমঝোতামূলক বিশ্ব

একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জাতিসংঘকে দেখতে চায় বাংলাদেশ—ভাষণে এমন প্রত্যাশার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিশ্বের এক প্রান্তের সংঘাত ও সংকট অন্য প্রান্তের দেশগুলোকেও প্রভাবিত করে। এ বাস্তবতায় পারস্পরিক সহযোগিতা, কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

উন্নয়নের অর্থ সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ সামরিক ব্যয়ে স্থানান্তরের প্রবণতাকে বিশ্বশান্তির পথে অন্যতম বাধা হিসেবে তুলে ধরেন তারেক রহমান।

শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের ভূমিকার বার্তা

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথাও ভাষণে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা মানবতার সেবায় কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে।

ভাষণের শেষদিকে বিশ্ব মানবতা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের যেকোনো উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।

আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান, কূটনীতি ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক