জামায়াতের ধৈর্যের আহ্বান, জোটের কর্মসূচির অপেক্ষা
ছবিঃ প্রবাহ বাংলা
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের পর চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশবাসীকে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়েছে। দলটি বলেছে, জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১দলীয় জোটের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সমর্থক ও জনগণকে অপেক্ষা করতে হবে।
শুক্রবার সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে জামায়াতে ইসলামীের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক পোস্টে এই আহ্বান জানানো হয়। পোস্টে বলা হয়, নির্বাচনের সার্বিক ফলাফলপ্রক্রিয়া নিয়ে তাদের গুরুতর উদ্বেগ রয়েছে, তবে যে কোনো সিদ্ধান্ত বা পদক্ষেপ জোটগতভাবে ঘোষিত কর্মসূচির মাধ্যমেই জানানো হবে।
জামায়াতের পোস্টে উল্লেখ করা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে দেশবাসী শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ব্যাপক হারে ভোট দিয়েছেন বলে দলের দাবি। এ জন্য ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে পোস্টে বলা হয়, জনগণের এই অংশগ্রহণ গণতান্ত্রিক চেতনার প্রকাশ এবং পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।
জামায়াত নির্বাচনের ফলাফল তৈরির ধাপ ও ফল ঘোষণার পদ্ধতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। তাদের ভাষ্যে, বিভিন্ন আসনে ১১–দলীয় জোটের প্রার্থীরা অল্প ব্যবধানে ও ‘সন্দেহজনকভাবে’ পরাজিত হয়েছেন, যা ফলাফলপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
ফেসবুক পোস্টে অভিযোগ করা হয়, বেসরকারি ফল ঘোষণার ক্ষেত্রে বারবার অসংগতি দেখা গেছে এবং কিছু ক্ষেত্রে ‘বানানো’ বা অসত্য তথ্য প্রচার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভোটার উপস্থিতির হার প্রকাশে নির্বাচন কমিশনের অনীহা এবং প্রশাসনের একাংশের বড় একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষপাতমূলক অবস্থানের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে বলে জামায়াতের দাবি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাওয়া বেসরকারি ফলাফল বিশ্লেষণ করে জামায়াত জানায়, বিএনপি ও তাদের মিত্ররা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসনে এগিয়ে বা বিজয়ী হয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের বেসরকারি হিসাবে বিএনপি ও তার মিত্রদের জয়ী আসনের সংখ্যা ২১২ টি এবং জামায়াত ও তার মিত্রদের অর্জিত আসন ৭৭টি বলে প্রকাশিত হয়েছে।
জামায়াতের অভিযোগ, ঘোষিত ফল ও মাঠের বাস্তবতার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে এবং পুনর্গণনা, অভিযোগ নিষ্পত্তি ও পূর্ণাঙ্গ সরকারি ফল ঘোষণার আগে চূড়ান্ত মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকছে তারা। তবে দলটি ইঙ্গিত দিয়েছে, জোটের সিদ্ধান্ত সাপেক্ষে আইনি ও রাজনৈতিক উভয় ধারায় পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
ফেসবুক বার্তায় সমর্থক ও জনসাধারণকে কোনো ধরনের উসকানি বা তাৎক্ষণিক উত্তেজনায় সাড়া না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। জামায়াত বলেছে, ১১–দলীয় জোটের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি ঘোষিত হলে সেই কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও সাংবিধানিক সীমার মধ্যেই পালন করতে হবে।
পোস্টের শেষে জামায়াত উল্লেখ করেছে, ‘মানবিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ন্যায়বিচারের জন্য আমাদের সংগ্রাম ইনশাআল্লাহ অব্যাহত থাকবে।’ দলটির ভাষ্যমতে, নির্বাচন–পরবর্তী এই পরিস্থিতিতেও তারা আইনের শাসন, ভোটাধিকার ও ন্যায়ভিত্তিক রাজনৈতিক ব্যবস্থার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাবে













