নির্বাচনের আগে অন্তর্বর্তী সরকারের ‘শেষ বৈঠক’ আজ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে আজ সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) অন্তর্বর্তী সরকারের সম্ভাব্য শেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস আজ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং সরকারের জ্যেষ্ঠ সচিবদের সঙ্গে পৃথক দুটি বৈঠকে মিলিত হবেন।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এটিই হতে পারে বর্তমান সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের শেষ আনুষ্ঠানিক ও বিদায়ী বৈঠক। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে সকাল সোয়া ১০টায় বৈঠক শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দিনের শুরুতে প্রধান উপদেষ্টা সরকারের সচিবদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বর্তমানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে কর্মরত ৭৫ জন সচিবের সবাইকে এ বৈঠকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। এদের মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া ১৬ জন সচিবও রয়েছেন।
সচিবদের সঙ্গে বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টা উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন।
সূত্র জানায়, আজকের বৈঠকে মূলত নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা এবং নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে নতুন সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। পাশাপাশি প্রধান উপদেষ্টা সচিব ও উপদেষ্টাদের উদ্দেশে একটি বিদায়ী বক্তব্য দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২০২৪ সালের ৮ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে দায়িত্ব গ্রহণ করে ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। প্রায় দেড় বছর রাষ্ট্র পরিচালনার পর এখন একটি নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের দ্বারপ্রান্তে এসে পৌঁছেছে এই প্রশাসন।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর কোনো ধরনের কালক্ষেপণ না করে দ্রুততম সময়ের মধ্যেই ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে। এ বিষয়ে গত বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন।
তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের পর যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হবে। এবার সবচেয়ে দ্রুত সময়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের নজির স্থাপিত হতে পারে। যদি তিন দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যরা শপথ নেন, তবে ১৫ বা ১৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নতুন সরকার শপথ নিতে পারে। আমার মনে হয় না এটি ১৭ বা ১৮ ফেব্রুয়ারির পরে গড়াবে।’
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আজকের বৈঠকের মধ্য দিয়ে সরকারের নিয়মিত প্রশাসনিক ও নীতিনির্ধারণী কার্যক্রমের একটি আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি টানা হতে পারে। জরুরি কোনো পরিস্থিতি তৈরি না হলে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে উপদেষ্টা পরিষদের আর কোনো বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা নেই। আজকের বৈঠকে সচিবদের দিকনির্দেশনার মাধ্যমে মূলত নির্বাচনকালীন ও নির্বাচন-পরবর্তী অন্তর্বর্তী সময়ের প্রশাসনিক কর্মপন্থা চূড়ান্ত করা হবে।










