শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

জাপান-বাংলাদেশ ইপিএ চুক্তিতে রপ্তানির সুযোগ

বাসস প্রকাশিত: শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:৫৪ পিএম
জাপান-বাংলাদেশ ইপিএ চুক্তিতে রপ্তানির সুযোগ

জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) বাংলাদেশের বাণিজ্য কূটনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। সংস্থাটির মতে, এই চুক্তি টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিজিএমইএ জানিয়েছে, টোকিওতে শুক্রবার স্বাক্ষরিত জাপান-বাংলাদেশ ইপিএ বাংলাদেশের প্রথম অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি, যা দেশটির বাণিজ্য ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী অর্জন। চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হোরি ইওয়াও।

পণ্য ও সেবা বাণিজ্যকে অন্তর্ভুক্ত করে সাত দফা আলোচনার মাধ্যমে চুক্তিটি সম্পন্ন হয়েছে। বিজিএমইএ মনে করে, এটি পারস্পরিক স্বার্থে অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা গভীর করার ক্ষেত্রে দুই দেশের দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

সংস্থাটি আরও জানায়, জাপান দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন অংশীদার এবং সর্ববৃহৎ অফিসিয়াল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসিসট্যান্স (ওডিএ) প্রদানকারী দেশ। অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্পায়ন ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক রূপান্তরে জাপানের অবদান উল্লেখযোগ্য। সে কারণে এই ইপিএ কেবল একটি বাণিজ্য চুক্তি নয়, বরং দীর্ঘদিনের আস্থাভিত্তিক অংশীদারিত্বের স্বাভাবিক অগ্রগতি।

এ বিষয়ে বিজিএমইএ অন্তর্বর্তী সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছে, এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রাক্কালে বাজারে স্থিতিশীল ও পূর্বানুমেয় প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা বাংলাদেশের জন্য জাতীয় অগ্রাধিকারে পরিণত হয়েছে। সেই বাস্তবতায় জাপান-বাংলাদেশ ইপিএ একটি সময়োপযোগী ও কৌশলগত উদ্যোগ।

বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই চুক্তি বাংলাদেশের রপ্তানি, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের জন্য বড় সম্ভাবনা তৈরি করবে বলে মনে করছে বিজিএমইএ। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ জাপানে ১ হাজার ৪১১ দশমিক ৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে, যেখানে জাপানের মোট বৈশ্বিক পোশাক আমদানি প্রায় ২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

একক বাজার হিসেবে জাপান যুক্তরাষ্ট্রের পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক আমদানিকারক হলেও বর্তমানে বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানির মাত্র প্রায় ৩ শতাংশ দেশটিতে যায়। বিজিএমইএ মনে করে, ইপিএ কার্যকর হলে ২০৩৫ সালের মধ্যে ১০০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে জাপানের বাজারে বাংলাদেশের অংশ অন্তত ১০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব।

প্রাথমিক মূল্যায়নে দেখা গেছে, ইপিএর আওতায় তৈরি পোশাক খাত নিরবচ্ছিন্ন শুল্কমুক্ত সুবিধা এবং অনুকূল ‘রুলস অব অরিজিন’ সুবিধা পাবে। বর্তমানে জিএসপি স্কিমের আওতায় বাংলাদেশ শুল্কমুক্ত সুবিধা পেলেও এলডিসি উত্তরণের পর ইপিএ কার্যকর না থাকলে নিটওয়্যারে ৮ থেকে ১৫ শতাংশ এবং ওভেন পোশাকে ১০ থেকে ১৫ শতাংশের বেশি শুল্ক গুনতে হতো। নতুন চুক্তির ফলে কার্যকর হওয়ার দিন থেকেই সব ধরনের পোশাক পণ্যে শুল্ক পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হবে।

এছাড়া চুক্তির ৩ নম্বর অধ্যায় ও ২ নম্বর অ্যানেক্স অনুযায়ী, এক স্তরবিশিষ্ট প্রক্রিয়ায় উৎপাদিত পোশাকও জাপানে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে, যা বর্তমান জিএসপি ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

বিজিএমইএ মনে করে, ইপিএ একটি অনুকূল ও পূর্বানুমেয় বাণিজ্য পরিবেশ তৈরি করায় এর সম্ভাবনাকে ১০০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি ভিশনের সঙ্গে সংযুক্ত করে একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রণয়ন জরুরি।

বর্তমানে জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রায় ৪৫৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। বিজিএমইএর বিশ্বাস, ইপিএ এই ঘাটতি কমাতে সহায়ক হবে এবং পোশাকের বাইরেও রপ্তানি বৈচিত্র্য বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করবে। পাশাপাশি জাপানি আমদানিকারক, খুচরা বিক্রেতা, যন্ত্রপাতি সরবরাহকারী ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের সম্পৃক্ততা বাড়বে।

সংস্থাটি আরও মনে করে, জাপানের সঙ্গে এই ইপিএ এলডিসি-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের বাণিজ্য নীতিতে একটি দিকনির্দেশক ভূমিকা পালন করবে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের জিএসপি প্লাস–সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহায়ক হবে।

একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর (ইউএসটিআর)-এর সঙ্গে চলমান আলোচনায় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে বিজিএমইএ, যাতে যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ব্যবহারের মাধ্যমে শূন্য শুল্ক সুবিধা অর্জনের প্রস্তুতি নেওয়া যায়।

মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২০ পিএম
মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে শোষণ ও অনিয়ম ঠেকাতে নতুন একটি কার্যকর ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া ও নেপাল। এ ব্যবস্থায় শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও জবাবদিহিমূলক করার পাশাপাশি শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত খরচের বোঝা চাপানো এবং অসাধু মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আর. রামানান এ তথ্য জানিয়েছেন। নেপালের যুব, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী রামজি যাদবের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ঐকমত্য হয়। আলোচনায় শ্রম ও কর্মসংস্থান খাতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ও উঠে আসে।

বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক পোস্টে রামানান বলেন, মালয়েশিয়া ও নেপাল উভয় দেশই অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে আরও সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছে। একই সঙ্গে এমন সব চর্চা বন্ধ করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেগুলো শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা চাপায় কিংবা তাদের শোষণ ও প্রতারণার ঝুঁকিতে ফেলে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, বিদেশি শ্রমিক ব্যবস্থাপনায় মালয়েশিয়া সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও শ্রমিক সুরক্ষার নীতিতে অটল থাকবে। একই সঙ্গে দেশের শিল্প ও শ্রমবাজারের প্রকৃত চাহিদাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

রামানানের ভাষায়, নীতিটি পরিষ্কার ব্যবস্থাকে অবশ্যই শ্রমিকদের সুরক্ষা দিতে হবে, নিয়োগকর্তাদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে এবং একই সঙ্গে শোষণ ও নির্যাতনের কোনো সুযোগ রাখা যাবে না।
তিনি বলেন, ১৯৬০ সাল থেকে মালয়েশিয়া ও নেপালের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। দুই দেশ শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে যথাযথ দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ ও আলোচনার ধারা অব্যাহত রাখবে।

এদিকে গত মাসে নেপালে ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় নেপাল সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী।
রামানান বলেন, ওই দুর্যোগের পর এখনো ৫৫ জন মালয়েশীয় নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাদের বিষয়ে মাদানি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে নজর রাখছে এবং তাদের ভাগ্য সম্পর্কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও সংশ্লিষ্ট দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৪৫০ ছাড়িয়েছে। নেপাল ও চীন মিলিয়ে এখনো ৬ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৯ এম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯ জনে। এর মধ্যে আগস্ট মাসে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৩ দিনে মারা গেছেন ১১২ জন। এছাড়া জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বুলেটিনে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৭৮২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৪৯ জনে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ৭৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৩ হাজার ৮৭৪ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৭১৬ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৮ জন, খুলনায় ২৮৬ জন, বরিশালে ১৬৪ জন, রাজশাহীতে ১৩০ জন, ময়মনসিংহে ১০৮ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ এম
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত বন্ধে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে ফিলিস্তিনসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, “স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে।”

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, “আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায় তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।”

যুদ্ধ-সংঘাতে বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট

ভাষণে বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের প্রভাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে একের পর এক মানবিক সংকট।

যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিও তীব্র চাপের মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

সংঘাতের সমাধান আলোচনায়, কূটনীতিতে

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের সমাধানে সামরিক শক্তির পরিবর্তে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে হওয়া উচিত।

বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের প্রত্যাশা এমন একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয়; বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা।”

জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে সমঝোতামূলক বিশ্ব

একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জাতিসংঘকে দেখতে চায় বাংলাদেশ—ভাষণে এমন প্রত্যাশার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিশ্বের এক প্রান্তের সংঘাত ও সংকট অন্য প্রান্তের দেশগুলোকেও প্রভাবিত করে। এ বাস্তবতায় পারস্পরিক সহযোগিতা, কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

উন্নয়নের অর্থ সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ সামরিক ব্যয়ে স্থানান্তরের প্রবণতাকে বিশ্বশান্তির পথে অন্যতম বাধা হিসেবে তুলে ধরেন তারেক রহমান।

শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের ভূমিকার বার্তা

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথাও ভাষণে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা মানবতার সেবায় কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে।

ভাষণের শেষদিকে বিশ্ব মানবতা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের যেকোনো উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।

আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান, কূটনীতি ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক