জরুরি বৈঠকে সরকারঃ
পর্তুগালে ঝড়ের ৫ দিন পরও এক লাখ ৮০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎহীন
ছবিঃ এআই প্রবাহ বাংলা
পর্তুগালের মূল ভূখণ্ডে তীব্র ঝড় ‘ক্রিস্টিন’-এর আঘাতের পাঁচ দিন পরও প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার ই-রেডেস গ্রাহক এখনো বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টার হিসাব অনুযায়ী, এসব গ্রাহক এখনো অন্ধকারে দিন কাটাচ্ছেন, যার বড় অংশই লেইরিয়া জেলায় অবস্থিত।
ই-রেডেসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যা ৭টার সময় যেখানে ১ লাখ ৮৭ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন ছিলেন, সেখানে কয়েক ঘণ্টায় প্রায় ৭ হাজার গ্রাহকের সরবরাহ পুনঃস্থাপন করা সম্ভব হয়েছে। তবে এখনো যে সংখ্যক গ্রাহক সেবা থেকে বঞ্চিত, তাদের বেশির ভাগই লেইরিয়া অঞ্চলে—এখানে প্রায় ১ লাখ ২৭ হাজার গ্রাহক এখনো বিদ্যুৎহীন বলে জানানো হয়েছে। বাকি গ্রাহকরা সান্তারেম, কোইম্বরা ও কাস্টেলো ব্রাঙ্কোসহ মধ্যাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছেন।
ই-রেডেস জানায়, যেহেতু প্রতিটি ‘গ্রাহক’ মূলত বিদ্যুৎ সংযোগ থাকা বাড়ি, প্রতিষ্ঠান বা দোকানের মতো ডেলিভারি পয়েন্টকে বোঝায়, তাই প্রকৃত অর্থে কত মানুষের জীবন এ সঙ্কটে প্রভাবিত হয়েছে, তা সুনির্দিষ্টভাবে হিসাব করা কঠিন। ক্রিস্টিন ঝড়ের ধাক্কায় সর্বোচ্চ পর্যায়ে এক পর্যায়ে প্রায় ১০ লাখ গ্রাহক বিদ্যুৎহীন ছিলেন, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় অবকাঠামোগত বিপর্যয়ের একটিতে পরিণত হয়েছে।
ঝড়ের কারণে শুধু বিদ্যুৎ নয়, সড়ক, রেলপথ, যোগাযোগব্যবস্থা এবং ঘরবাড়ি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; গাছ উপড়ে পড়া, বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে যাওয়া ও তার ছিঁড়ে যাওয়ার কারণে অনেক এলাকায় মেরামতকাজ এখনো শেষ করা যায়নি। স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্রিস্টিন-এর আঘাতে কমপক্ষে নয় জনের মৃত্যু হয়েছে এবং বহু মানুষ আহত ও গৃহহীন হয়েছেন; লেইরিয়ার মারিনিয়া গ্রান্ডে ও বাতাল্যা পৌরসভায় বাড়তি প্রাণহানির খবরও এসেছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার গত বুধবার রাত থেকে আজ ১ ফেব্রুয়ারি রাত পর্যন্ত প্রায় ৬০টির মতো পৌরসভায় ‘সিতুয়াসাঁও দি কালামিদাদে’ বা দুর্যোগ পরিস্থিতি ঘোষণা করেছে, যা সিভিল প্রোটেকশন আইনের সর্বোচ্চ স্তরের হস্তক্ষেপ ব্যবস্থার একটি। এই সময়ের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার, পুনর্বাসন ও অবকাঠামো পুনর্গঠনের কাজ গতিশীল করতে সিভিল প্রোটেকশন, সেনাবাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন ও বিদ্যুৎ কোম্পানির যৌথ তৎপরতা অব্যাহত আছে।
রবিবার এক জরুরি মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে বসেছে সরকার, যেখানে দুর্যোগ পরিস্থিতি আরও বাড়ানো হবে কি না, সেই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণ ও অবকাঠামোর জন্য অতিরিক্ত সহায়তা ও পুনর্গঠন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। বিকেলে সিভিল প্রোটেকশনের জাতীয় কমিশনেরও বিশেষ বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে, যার সভাপতিত্ব করবেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী মারিয়া লুসিয়া আমারাল। একই সময় আবহাওয়া দফতর আইপিএমএ আগামী সপ্তাহ জুড়ে উত্তর ও মধ্য অঞ্চলে নতুন করে দীর্ঘস্থায়ী বৃষ্টিপাত ও সাগরে প্রবল ঢেউয়ের পূর্বাভাস দিয়েছে, যা বিদ্যুৎ ও অবকাঠামো পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টাকে আরও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে।










