নির্বাচনে লড়ছেন ১ হাজার ৯৬৭ জন
নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দ আজ, কাল থেকে শুরু আনুষ্ঠানিক প্রচার
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাহারের পর সারা দেশে চূড়ান্তভাবে ১ হাজার ৯৬৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দুই দিনে ৩০৫ জন প্রার্থী সরে দাঁড়ান। এর আগে আপিল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বহু প্রার্থী তাদের মনোনয়ন বৈধতা ফিরে পান।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মোট ৩ হাজার ৪২২ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। এর মধ্যে ২ হাজার ৫৮৫ জন মনোনয়ন দাখিল করেন। প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে ১ হাজার ৮৫৮ জনকে বৈধ ঘোষণা করা হয় এবং ৭২৬টি মনোনয়ন বাতিল হয়। এসব বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল করা হলে ৪৩১ জন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা ফিরে পান। সব প্রক্রিয়া শেষে মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময়সীমা পার হওয়ার পর চূড়ান্ত প্রার্থী সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৬৭ জনে।
নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী আজ প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার কথা রয়েছে। আগামীকাল থেকে প্রতীক নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হবে। অনলাইনে প্রচার চালানো যাবে রাত ১২টার পর থেকে এবং মাঠের প্রচার শুরু হবে সকাল থেকে। এর মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে ভোটের মাঠের সরাসরি লড়াই।
মনোনয়ন প্রত্যাহারের ফলে অনেক আসনে বড় রাজনৈতিক জোটগুলোর একক প্রার্থী দাঁড়িয়ে গেছেন। তবে কয়েকটি আসনে দলীয় বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর উপস্থিতিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমে উঠতে পারে। বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট তাদের প্রচার শুরু করছে সিলেট থেকে। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান হযরত শাহজালাল ও শাহ পরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রচার কার্যক্রম শুরু করবেন। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটের প্রার্থীরাও নিজ নিজ এলাকায় প্রচার শুরু করবেন।
ঢাকা জেলার ২০টি সংসদীয় আসনে শুরুতে ১৬২ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ছিল। এর মধ্যে ২৭ জন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করায় ঢাকায় এখন চূড়ান্ত প্রার্থী রয়েছেন ১৩৫ জন। বিভিন্ন রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে এসব প্রত্যাহার সম্পন্ন হয়। ঢাকা-৫, ৬, ৭, ৯, ১০, ১২, ১৬, ১৭ ও ১৮ আসনে একাধিক প্রার্থী সরে দাঁড়িয়েছেন। জাতীয় নাগরিক পার্টি, জামায়াতে ইসলামী, খেলাফত মজলিসসহ বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা প্রত্যাহারের তালিকায় রয়েছেন।
চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে ১০টি আসনে ১২ জন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। এতে চট্টগ্রামে মোট প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১১ জনে। কুমিল্লার ১১টি আসনে শেষ পর্যন্ত ৮০ জন প্রার্থী ভোটের মাঠে থাকছেন। সেখানে প্রাথমিক যাচাই, আপিল এবং মনোনয়ন প্রত্যাহার শেষে এই সংখ্যা নির্ধারিত হয়। নোয়াখালীর ছয়টি আসনে জামায়াতসহ বিভিন্ন দলের পাঁচজন প্রার্থী সরে দাঁড়ানোয় এখন মোট ৪৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রার্থীরা লিখিত আবেদন দিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে পারেন। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে এখন প্রতীক বরাদ্দ ও প্রচার কার্যক্রমের মাধ্যমে নির্বাচনের মূল পর্ব শুরু হতে যাচ্ছে।










