শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

অপারেশন ডেভিল হান্ট

ঢাকার নির্বাচনী নিরাপত্তায় ২৫ হাজার পুলিশ, মাঠে নামছে ডিএমপির শীর্ষ কর্মকর্তারা

প্রবাহ বাংলা ডেস্ক ঢাকা, বাংলাদেশ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:৫৫ এম
ঢাকার নির্বাচনী নিরাপত্তায় ২৫ হাজার পুলিশ, মাঠে নামছে ডিএমপির শীর্ষ কর্মকর্তারা

বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকার নিরাপত্তা নিশ্চিতে নজিরবিহীন কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে যখন প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রণা শুরু হবে, ঠিক সেই মুহূর্ত থেকেই শুরু হচ্ছে পুলিশের এক বিশেষ ও জোরালো সাঁড়াশি অভিযান। ডিএমপি সদর দপ্তরের উচ্চপর্যায়ের এক পর্যালোচনা সভায় গৃহীত এ সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য, নির্বাচনী সহিংসতা রোধ, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং সন্ত্রাসীদের দমন।

ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশে চলমান ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ ২’, এর অংশ হিসেবে আগামী বৃহস্পতিবার ২২ জানুয়ারি থেকে ঢাকায় বিশেষ অভিযান শুরু হবে। এদিন বিকেল ৪টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ডিএমপির আটটি অপরাধ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরাসরি মাঠে উপস্থিত থেকে অভিযানের তদারকি করবেন।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) এস এন মো. নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, নির্বাচনী উৎসবের আড়ালে যেন কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠী বা ফ্যাসিবাদী শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সেজন্যই এ বিশেষ পদক্ষেপ। বিশেষ করে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কোনো ধরনের ছাড় দেবে না।

নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, ঢাকা মহানগরীতে মোট ২ হাজার ১৩১টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এ কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ডিএমপির জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। বিশাল এ কর্মযজ্ঞ সামলাতে প্রায় ২৫ হাজার পুলিশ সদস্য মোায়েেন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা পরিকল্পনায় কেন্দ্রগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। ১. গুরুত্বপূর্ণ (ঝুঁকিপূর্ণ) কেন্দ্র: ১ হাজার ৮২৮টি। ২. সাধারণ কেন্দ্র: ৩০৩টি।

পরিসংখ্যান বলছে, ঢাকার প্রায় ৮৫ শতাংশ কেন্দ্রই ‘গুরুত্বপূর্ণ’ বা অতি ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রয়েছে। এসব কেন্দ্রে পুলিশের পাশাপাশি মোতায়েন থাকবে সশস্ত্র আনসার সদস্য। প্রতিটি কেন্দ্রে ১০ জন আনসার সদস্য এবং একজন সহকারী সেকশন কমান্ডার নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য একজন করে সশস্ত্র আনসার সদস্য সার্বক্ষণিক নিয়োজিত থাকবেন।

নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে যেন কোনো প্রশ্ন না ওঠে, সেজন্য ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের স্পষ্ট কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন।

সোমবারের পর্যালোচনা সভায় তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, নিরপেক্ষতা কোনো পুলিশ সদস্য কোনো বিশেষ প্রার্থীর পক্ষে প্রচার বা প্রচ্ছন্ন সমর্থন দিতে পারবেন না। খাদ্য গ্রহণ নিষিদ্ধ ডিউটি চলাকালীন প্রার্থীর পক্ষ থেকে দেওয়া কোনো ধরনের খাবার বা আতিথেয়তা গ্রহণ করা যাবে না। শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিরপেক্ষতায় বিন্দুমাত্র ব্যত্যয় ঘটলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ও কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশের এ কঠোর অবস্থান মূলত সাধারণ ভোটারদের মনে আস্থা ফেরানোর একটি কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভোটাররা যেন কোনো ভয়ভীতি ছাড়াই কেন্দ্রে আসতে পারেন, সেটি নিশ্চিত করাই এ নির্দেশনার মূল উদ্দেশ্য।

শুধুমাত্র থানা পুলিশ নয়, নির্বাচনের দিনগুলোতে ঢাকার রাজপথ দখলে রাখবে বিশেষায়িত ইউনিটগুলোও। গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) এবং কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের সদস্যরা সাদা পোশাকে এবং ইউনিফর্মে নগরজুড়ে টহল দেবেন। বিশেষ করে ঢাকার প্রবেশপথগুলোতে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি জোরদার করা হবে।

সহকারী কমিশনার থেকে শুরু করে অতিরিক্ত কমিশনার পদমর্যাদার কর্মকর্তারা প্রতিদিন মাঠে থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন। কোনো কেন্দ্রে ভোটারদের বাধা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে কি না, সেই আগাম তথ্য সংগ্রহ করে সদর দপ্তরে প্রতিবেদন পাঠানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে গোয়েন্দাদের।

একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য বিপুল পরিমাণ যানবাহনের প্রয়োজন হয়। ডিএমপি জানিয়েছে, ভোট গ্রহণের তিন চার দিন আগে থেকেই ঢাকা মহানগরী থেকে প্রায় ৩ হাজার যানবাহন রিকুইজিশন করা হবে। এসব গাড়ি মূলত নির্বাচনী সরঞ্জাম ব্যালট বক্স, পেপার ইত্যাদি পরিবহনে ব্যবহৃত হবে। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের দ্রুত যাতায়াতের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। পুলিশের টহল দল এবং মোবাইল স্ট্রাইকিং ফোর্সের জন্য এ যানবাহনগুলো ব্যবহার করা হবে।

ঢাকার মতো মেগাসিটিতে নির্বাচনী নিরাপত্তা রক্ষা করা সবসময়ই এক কঠিন কাজ। ঘিঞ্জি এলাকা, রাজনৈতিক প্রভাব এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা নিয়ন্ত্রণ করা পুলিশের জন্য বড় পরীক্ষা। ডিএমপির এ ব্যাপক প্রস্তুতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, রাষ্ট্র এবার একটি অংশগ্রহণমূলক ও সহিংসতামুক্ত নির্বাচন উপহার দিতে বদ্ধপরিকর।

তবে সাধারণ নাগরিকদের মতে, কাগজের এ পরিকল্পনা বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, তা নির্ভর করছে ২২ জানুয়ারি প্রচার শুরুর প্রথম কয়েক দিনের পরিস্থিতির ওপর। যদি পুলিশ প্রকৃতপক্ষেই অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং দাগী সন্ত্রাসীদের ধরতে সফল হয়, তবেই ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটকেন্দ্রে ভোটারের সরব উপস্থিতি আশা করা যায়। জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ কে সামনে রেখে ডিএমপির এ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঢাকাবাসীর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে।

একদিকে কড়াকড়ির ফলে জনজীবনে কিছু সাময়িক অসুবিধা হতে পারে, অন্যদিকে কঠোর নিরাপত্তার নিশ্চয়তা ভোটারদের আশাবাদী করছে। আগামী কয়েক সপ্তাহ ঢাকার রাজপথ থাকবে প্রশাসনের কড়া নজরদারিতে, যেখানে প্রধান লক্ষ্য একটাই, ব্যালট যুদ্ধের ময়দানে যেন বুলেটের আস্ফালন না ঘটে।

মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২০ পিএম
মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে শোষণ ও অনিয়ম ঠেকাতে নতুন একটি কার্যকর ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া ও নেপাল। এ ব্যবস্থায় শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও জবাবদিহিমূলক করার পাশাপাশি শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত খরচের বোঝা চাপানো এবং অসাধু মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আর. রামানান এ তথ্য জানিয়েছেন। নেপালের যুব, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী রামজি যাদবের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ঐকমত্য হয়। আলোচনায় শ্রম ও কর্মসংস্থান খাতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ও উঠে আসে।

বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক পোস্টে রামানান বলেন, মালয়েশিয়া ও নেপাল উভয় দেশই অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে আরও সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছে। একই সঙ্গে এমন সব চর্চা বন্ধ করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেগুলো শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা চাপায় কিংবা তাদের শোষণ ও প্রতারণার ঝুঁকিতে ফেলে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, বিদেশি শ্রমিক ব্যবস্থাপনায় মালয়েশিয়া সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও শ্রমিক সুরক্ষার নীতিতে অটল থাকবে। একই সঙ্গে দেশের শিল্প ও শ্রমবাজারের প্রকৃত চাহিদাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

রামানানের ভাষায়, নীতিটি পরিষ্কার ব্যবস্থাকে অবশ্যই শ্রমিকদের সুরক্ষা দিতে হবে, নিয়োগকর্তাদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে এবং একই সঙ্গে শোষণ ও নির্যাতনের কোনো সুযোগ রাখা যাবে না।
তিনি বলেন, ১৯৬০ সাল থেকে মালয়েশিয়া ও নেপালের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। দুই দেশ শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে যথাযথ দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ ও আলোচনার ধারা অব্যাহত রাখবে।

এদিকে গত মাসে নেপালে ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় নেপাল সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী।
রামানান বলেন, ওই দুর্যোগের পর এখনো ৫৫ জন মালয়েশীয় নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাদের বিষয়ে মাদানি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে নজর রাখছে এবং তাদের ভাগ্য সম্পর্কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও সংশ্লিষ্ট দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৪৫০ ছাড়িয়েছে। নেপাল ও চীন মিলিয়ে এখনো ৬ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৯ এম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯ জনে। এর মধ্যে আগস্ট মাসে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৩ দিনে মারা গেছেন ১১২ জন। এছাড়া জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বুলেটিনে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৭৮২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৪৯ জনে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ৭৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৩ হাজার ৮৭৪ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৭১৬ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৮ জন, খুলনায় ২৮৬ জন, বরিশালে ১৬৪ জন, রাজশাহীতে ১৩০ জন, ময়মনসিংহে ১০৮ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ এম
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত বন্ধে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে ফিলিস্তিনসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, “স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে।”

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, “আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায় তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।”

যুদ্ধ-সংঘাতে বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট

ভাষণে বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের প্রভাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে একের পর এক মানবিক সংকট।

যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিও তীব্র চাপের মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

সংঘাতের সমাধান আলোচনায়, কূটনীতিতে

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের সমাধানে সামরিক শক্তির পরিবর্তে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে হওয়া উচিত।

বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের প্রত্যাশা এমন একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয়; বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা।”

জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে সমঝোতামূলক বিশ্ব

একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জাতিসংঘকে দেখতে চায় বাংলাদেশ—ভাষণে এমন প্রত্যাশার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিশ্বের এক প্রান্তের সংঘাত ও সংকট অন্য প্রান্তের দেশগুলোকেও প্রভাবিত করে। এ বাস্তবতায় পারস্পরিক সহযোগিতা, কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

উন্নয়নের অর্থ সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ সামরিক ব্যয়ে স্থানান্তরের প্রবণতাকে বিশ্বশান্তির পথে অন্যতম বাধা হিসেবে তুলে ধরেন তারেক রহমান।

শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের ভূমিকার বার্তা

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথাও ভাষণে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা মানবতার সেবায় কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে।

ভাষণের শেষদিকে বিশ্ব মানবতা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের যেকোনো উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।

আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান, কূটনীতি ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক