শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

মঙ্গলবার: এক নজরে স্পেনের সর্বশেষ সংবাদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ৫:৩০ পিএম
মঙ্গলবার: এক নজরে স্পেনের সর্বশেষ সংবাদ

স্পেনে বাড়িওয়ালাদের আয় ভাড়াটিয়াদের চেয়ে ৮২% বেশি, বাজারে জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি

স্পেনের সামাজিক অধিকার ও ভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটিতে বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়াদের আয়ের মধ্যে বড় ধরনের বৈষম্য তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ভাড়াটিয়াদের গড় আয় যেখানে বছরে প্রায় ২৮ হাজার ৮১০ ইউরো, সেখানে বাড়িওয়ালাদের আয় ৫২ হাজার ৪৪৯ ইউরো—অর্থাৎ প্রায় ৮২ শতাংশ বেশি।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ ও ২০২৭ সালে যেসব ভাড়ার চুক্তি নবায়ন হবে, সেগুলো যদি বাজারদরে করা হয়, তাহলে বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়াদের আয়ের ব্যবধান আরও গড়ে ২ হাজার ২১৬ ইউরো বাড়বে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

সরকারের শরিক দল সুমার এই পরিস্থিতিকে “অন্যায্য” উল্লেখ করে ভাড়া বাজারে দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছে। তারা বলছে, ভাড়াটিয়াদের আবাসনের অধিকার নিশ্চিত করতে শক্ত পদক্ষেপ প্রয়োজন, শুধু কর ছাড় দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না।

অন্যদিকে সরকার জানিয়েছে, তারা অংশীদার দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করতে প্রস্তুত, তবে আদালতের ঝুঁকির কারণে সরাসরি ভাড়া স্থগিত বা জোরপূর্বক নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চলমান এই বিতর্ক স্পেনে বাড়িভাড়া সংকট ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টিকে আরও সামনে এনে দিয়েছে।


পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা ইস্যুতে আগামী সোমবার মনক্লোয়ায় বৈঠকে বসছেন সানচেজ ও ফিখহো

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ও প্রধান বিরোধী দল পিপির নেতা আলবের্তো নুনিয়েস ফিখহো আগামী সোমবার (১৯ জানুয়ারি) মাদ্রিদের মনক্লোয়া প্রাসাদে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। বৈঠকে মূলত পররাষ্ট্রনীতি ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হবে।

সরকারি সূত্র জানায়, বিশ্ব রাজনীতিতে চলমান পরিবর্তন ও সে অনুযায়ী স্পেনের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক কৌশল সম্পর্কে বিরোধী দলকে অবহিত করতে চান প্রধানমন্ত্রী। তবে পিপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৈঠকটি যেন শুধু ইউক্রেনে স্পেনীয় সেনা পাঠানোর প্রসঙ্গেই সীমাবদ্ধ না থাকে। দলটি জাতীয় নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা ব্যয়, সামরিক কৌশল এবং পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকার—সবকিছু নিয়েই বিস্তারিত আলোচনা চায়।

পিপির দাবি, প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিচ্ছিন্ন সিদ্ধান্ত নয়, বরং পূর্ণাঙ্গ কৌশল ও বাজেট নিয়ে সংসদে বাধ্যতামূলক ভোট হওয়া উচিত। এসব বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা না এলে তারা কোনো সিদ্ধান্তে সমর্থন দেবে না বলেও জানায় দলটি।

সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সোমবারই দুই শীর্ষ নেতার এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।


ইরানে সহিংস দমন-পীড়নের প্রতিবাদ জানাতে মাদ্রিদে ইরানি রাষ্ট্রদূতকে তলব করল স্পেন

ইরানে সরকারবিরোধী শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংস দমন-পীড়নের ঘটনায় তীব্র আপত্তি জানাতে মাদ্রিদে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা জাবিবকে তলব করেছে স্পেন। মঙ্গলবার স্পেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ পদক্ষেপ নেয়।

স্পেন সরকার এক বিবৃতিতে জানায়, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে ইরানে যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর আরোপিত সব ধরনের বিধিনিষেধ অবিলম্বে তুলে নেওয়া এবং নির্বিচার গ্রেপ্তার বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে। স্পেনের দাবি, ইরানি কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই মতপ্রকাশ ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেসও এ ঘটনায় কড়া অবস্থান নেন। তিনি বলেন, ইরানে যা ঘটছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং সহিংসতা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া দরকার।

এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নও ইরান পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর পদক্ষেপের পথে হাঁটছে। ব্রাসেলসে ইইউভুক্ত ২৭ দেশের প্রতিনিধিরা বৈঠকে বসে তেহরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করছেন।

নরওয়ের মানবাধিকার সংস্থা ‘ইরান হিউম্যান রাইটস’ জানিয়েছে, গত ২৭ ডিসেম্বর শুরু হওয়া বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬৪৮ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৮ বছরের নিচে নয়জন শিশু রয়েছে। সংস্থাটি সতর্ক করেছে, প্রকৃত মৃতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে। ইন্টারনেট বন্ধ ও তথ্যপ্রবাহে কড়াকড়ির কারণে সঠিক হিসাব পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।


মাদ্রিদে সহপাঠীর হাতে ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার ১১ বছরের শিশু 

মাদ্রিদে লস বারিওস এলাকায় ১২ বছর বয়সী এক কিশোরের হাতে অপহরণ ও নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছে তারই এক সহপাঠী। ভুক্তভোগী শিশুটির বয়স ১১ বছর। পরিবারের পক্ষ থেকে গার্দিয়া সিভিলের কাছে ইতোমধ্যে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার বিকেলে ঘটনাটি ঘটে। ভুক্তভোগী শিশু তার এক বন্ধুর বাড়িতে গেলে সেখানে তাকে কয়েক ঘণ্টা ধরে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়। কোনোভাবে সে সেখান থেকে পালিয়ে বাড়িতে ফিরতে সক্ষম হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান।

শিশুটির শরীরের বিভিন্ন অংশে মারাত্মক পোড়া ক্ষত ও ফোসকা দেখা গেছে। অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্ত কিশোর একটি ছুরি লাইটার দিয়ে গরম করে তা ভুক্তভোগীর শরীরে চেপে ধরে। পাশাপাশি গ্যাসের সংস্পর্শে অ্যারোসল স্প্রে ব্যবহার করে আগুনের শিখা ছুড়ে মারাও হয়। এতে শিশুটির শরীরের সংবেদনশীল অংশেও গুরুতর আঘাত লাগে।

বর্তমানে আহত শিশুটি চিকিৎসক ও মনোবিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়েছে।


যাত্রী হারাচ্ছে বার্সেলোনার উপশহর ও আঞ্চলিক রেলসেবা ব্যবস্থা রোদালিয়েস, বিপরীতে মাদ্রিদে রেকর্ড বৃদ্ধি

গত দুই বছরে বার্সেলোনার উপশহর রেলসেবা রোদালিয়েসে যাত্রীসংখ্যা কমেছে প্রায় ১ কোটি। এতে মোট যাত্রী হ্রাস পেয়েছে ৮ দশমিক ৪ শতাংশ। একই সময়ে মাদ্রিদের সারকানিয়াস নেটওয়ার্কে উল্টো চিত্র দেখা গেছে—সেখানে যাত্রী বেড়েছে দেড় কোটিরও বেশি।

২০২৫ সালে রোদালিয়েসে মোট যাত্রী ছিল প্রায় ১১ কোটি, যা করোনা পরবর্তী সময়ে পাওয়া সর্বনিম্ন সংখ্যা। শুধু ২০২৫ সালেই যাত্রী কমেছে ৭৫ লাখের বেশি। বছরের শেষ ভাগে এই পতন আরও তীব্র হয়। ডিসেম্বর মাসে যাত্রীসংখ্যা নেমে আসে মাত্র ৭৮ লাখে, যা মাসভিত্তিক হিসেবে সবচেয়ে কম।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বার্সেলোনার রেল নেটওয়ার্কে ট্রেন দেরিতে পৌঁছানোর গড় সময় ২১ মিনিট, যেখানে মাদ্রিদে তা প্রায় ১২ মিনিট। ট্রেন বাতিলের হারও বার্সেলোনায় বেশি—ডিসেম্বরে প্রায় ৩ দশমিক ৫ শতাংশ ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল, মাদ্রিদে যা ছিল শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ।

২০২৪ সালের মে মাসে তামার তার চুরির ঘটনায় কয়েকটি লাইনে টানা পাঁচ সপ্তাহ বিপর্যয় দেখা দেয়। এরপর একের পর এক অবকাঠামো সংস্কারকাজ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। দীর্ঘমেয়াদি কাজের কারণে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

এর বিপরীতে, মাদ্রিদের সারকানিয়াসে গত দুই বছরে যাত্রী বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৪ কোটি ৫৪ লাখে। যদিও তারা এখনও পুরোপুরি মহামারি-পূর্ব অবস্থায় ফিরতে পারেনি, তবুও প্রবৃদ্ধির ধারায় রয়েছে।

জরিপে দেখা গেছে, রোদালিয়েসের প্রতি তিনজন যাত্রীর মধ্যে দুইজন নিয়মিত সমস্যার মুখে পড়েন। এর ফলে অনেকেই যাতায়াতের পথ বা পরিবহন মাধ্যম বদলাতে বাধ্য হয়েছেন।

তবে রেনফে, আদিফ ও কাতালান সরকার আশা করছে, চলমান সংস্কার শেষ হলে এবং নতুন ট্রেন যুক্ত হলে অদূর ভবিষ্যতে রেলসেবার মান উন্নত হবে।


দক্ষিণ লেবাননে জাতিসংঘের স্প্যানিশ টহলদলের কাছে ইসরায়েলি ট্যাংকের গোলাবর্ষণ: ২ স্প্যানিশ সেনা আহত

দক্ষিণ লেবাননে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন ইউনিফিলের (UNIFIL) একটি স্প্যানিশ টহলদলকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর ট্যাংক থেকে গোলা ছোড়া হয়েছে। সোমবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। তবে এতে স্প্যানিশ সেনারা অক্ষত রয়েছেন।

স্পেনের প্রতিরক্ষা সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, তিনটি ইসরায়েলি ট্যাংক লেবাননের ভেতরে নিরাপত্তা এলাকার উত্তরে ঢুকে পড়ে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে এগিয়ে গেলে স্প্যানিশ টহলদলের কাছাকাছি তিনটি গোলা নিক্ষেপ করা হয়, যা টহলদল থেকে প্রায় ১৫০ থেকে ৩৮০ মিটার দূরে পড়ে। পরে স্প্যানিশ সেনারা নিরাপদ স্থানে সরে যান এবং ইসরায়েলি ট্যাংকগুলোও পিছু হটে।

ইউনিফিল এই ঘটনাকে “আক্রমণ” এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ১৭০১ নম্বর প্রস্তাবের “গুরুতর লঙ্ঘন” বলে উল্লেখ করেছে। তারা জানায়, ২০২৫ সালে শান্তিরক্ষীদের ওপর এটি অন্তত অষ্টম হামলার ঘটনা।

ইউনিফিল আরও জানায়, টহল কার্যক্রমের বিষয়ে আগে থেকেই ইসরায়েলকে জানানো হয়েছিল এবং শান্তিরক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ইসরায়েলি বাহিনীর দায়িত্ব।

স্পেনের প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর বলেছে, শান্তিরক্ষীদের ওপর যেকোনো হামলা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন এবং এটি সেনাদের জীবনের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।

বর্তমানে ইউনিফিলে প্রায় ১১ হাজার সেনা কর্মরত, যার মধ্যে প্রায় ৭০০ জন স্প্যানিশ। উল্লেখ্য, গত বছরও ইসরায়েলি গুলিতে দুই স্প্যানিশ সেনা আহত হয়েছিলেন।


বার্সেলোনার হাসপাতালে ওষুধের ভুলে দুই ক্যান্সার রোগীর মৃত্যু

বার্সেলোনার বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল (HUBU)-তে ওষুধের ভুল প্রস্তুতি ও প্রয়োগের কারণে দুই ক্যান্সার রোগীর মৃত্যু ঘটেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি “মানবিক ত্রুটি” এবং তারা ঘটনার দায় স্বীকার করেছে।

ভুল ওষুধ প্রয়োগের ঘটনায় মোট পাঁচজন রোগী প্রভাবিত হয়েছেন। দুইজন মারা গেছেন, একজন বর্তমানে আইসিইউতে রয়েছে, একজন সাধারণ কক্ষে চিকিৎসাধীন এবং একজনকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল জানিয়েছে, মৃত রোগীরা শিশু ক্যান্সার রোগী ছিলেন না।

ঘটনাটি ক্রিসমাসের সময়ে ঘটে এবং ওষুধের ভুল কেবল নির্দিষ্ট রোগীদের জন্য হয়েছিল, তাই অন্যদের কোনো ঝুঁকি নেই। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিষয়টি জানতে মাত্রই তারা অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেছে এবং ভবিষ্যতে এমন ত্রুটি এড়ানোর জন্য প্রটোকল পুনঃমূল্যায়ন করেছে।

পরিবারদের মানসিক ও আইনি সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। হাসপাতাল রোগীদের সঙ্গে সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে যোগাযোগ করেছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য ও সমর্থন প্রদান করছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ চায় ডিসিসিআই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৬ এম
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ চায় ডিসিসিআই

বাংলাদেশের জ্বালানি, নবায়নযোগ্য শক্তি ও বিনিয়োগ খাতে সহযোগিতা বাড়াতে মালয়েশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন ও যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ।

বৃহস্পতিবার কুয়ালালামপুরের একটি হোটেলে মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী লিউ চিন টংয়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব আহ্বান জানান।

সাক্ষাৎকালে তাসকীন আহমেদ বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মোট বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। দুই দেশের বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণে নতুন নতুন অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি এবং সরকার পর্যায়ে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। পারস্পরিক আস্থা, অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি জ্বালানি সরবরাহ, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি প্রণোদনা ও বিনিয়োগ সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তারা এ খাতে বিনিয়োগ করতে পারেন।

এ খাতে দীর্ঘমেয়াদি ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে মালয়েশিয়া সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। পাশাপাশি প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের সহযোগিতা আরও কার্যকর ও টেকসই করা সম্ভব বলে মত দেন।

এ সময় মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী লিউ চিন টং বলেন, দেশটির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে বিপুলসংখ্যক দক্ষ জনবলের চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশের বৃহৎ তরুণ জনগোষ্ঠীকে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে তাদের জন্য উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে আন্তর্জাতিক লেনদেন ব্যবস্থা আরও আধুনিক করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ইসলামিক ফাইন্যান্সিংয়ের সম্প্রসারণ, উদ্ভাবনী আর্থিক পণ্য তৈরি এবং কার্যকর আর্থিক অবকাঠামো গড়ে তুলতে মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা ও মডেল বাংলাদেশের জন্য অনুসরণযোগ্য হতে পারে।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) খাতের সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন তাসকীন আহমেদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের এমএফএস মডেল বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে। মালয়েশিয়াও বাংলাদেশের এ খাতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারে।
ডিসিসিআই সভাপতি আরও বলেন, বাংলাদেশ প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য আমদানি করে। ফলে দেশটি একটি বড় ও সম্ভাবনাময় ভোক্তা বাজারে পরিণত হয়েছে। এই বাজারের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে মালয়েশিয়ার রপ্তানিকারকদের বাংলাদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং রপ্তানি বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

তিনি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব জোরদার, পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং পারস্পরিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন।
সাক্ষাৎকালে ডিসিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী ও সহ-সভাপতি সালিম সোলায়মান উপস্থিত ছিলেন।

অক্টোবরে শুরু হবে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫১ পিএম
অক্টোবরে শুরু হবে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে প্রথম দফার আলোচনা আগামী অক্টোবরের শেষ দিকে ঢাকায় শুরু হতে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে মালয়েশিয়ার একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা সফর করবে। প্রথম দফার আলোচনায় দুই দেশের বাজারসুবিধা, ব্যবসার সুযোগ এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পাবে।

বৃহস্পতিবার কুয়ালালামপুরে এ তথ্য জানিয়েছেন মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী। একই দিন মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের (এমআইটিআই) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ড. রশিদি সাইদও ঢাকায় অক্টোবরের শেষ দিকে প্রথম দফার আলোচনা অনুষ্ঠানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি হবেন এমবিএফটিএ আলোচনায় মালয়েশিয়ার প্রধান আলোচক।

ড. রশিদি সাইদ বলেন, প্রথম দফার আলোচনায় দুই দেশ নিজেদের প্রয়োজন চিহ্নিত করার পাশাপাশি একে অপরকে কী ধরনের বাণিজ্যসুবিধা দিতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা করবে। বাজারে প্রবেশাধিকার ও ব্যবসার নতুন সুযোগসহ পারস্পরিক স্বার্থের বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় আসবে। পরবর্তী বৈঠকগুলো চুক্তি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত চলবে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে এফটিএ স্বাক্ষরের জন্য ২০২৭ সালের ডিসেম্বরকে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অক্টোবরে ঢাকায় প্রথম দফার আলোচনা চুক্তি সম্পাদনের প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে।

গত জুনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের সময় দুই দেশের সরকারপ্রধান এফটিএ আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হন। ওই সফরের যৌথ বিবৃতিতে ২০২৭ সালের মধ্যে একটি ব্যাপক, ভবিষ্যৎমুখী ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক এফটিএ সম্পন্ন করার অঙ্গীকার করা হয়।

বর্তমানে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য থাকলেও পূর্ণাঙ্গ দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নেই। ফলে দুই দেশের ব্যবসায়ীরা এফটিএর আওতায় সম্ভাব্য অগ্রাধিকারমূলক বাজারসুবিধা, শুল্কছাড় ও বাণিজ্য সহজীকরণের অতিরিক্ত সুবিধা পাচ্ছেন না।
এফটিএ হলে দুই দেশের পণ্য ও সেবার বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়ানোর পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, বাণিজ্য সহজীকরণ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রও সম্প্রসারিত হতে পারে।

মালয়েশিয়ার সরকারি বাণিজ্য উন্নয়ন সংস্থা ম্যাট্রেডের ডেপুটি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জয় শংকর বলেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সহজ করতে কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। বাংলাদেশকে গুরুত্ব দিয়ে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে মালয়েশিয়া আগ্রহী।
এফটিএ আলোচনার প্রেক্ষাপটে দুই দেশের বাণিজ্য ভারসাম্যের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশি উপহাইকমিশনার শানারা মনিকার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশ মালয়েশিয়ায় প্রায় ৩০৫ দশমিক ৫৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। বিপরীতে মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশ আমদানি করেছে প্রায় ২ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য।

বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে তৈরি পোশাক, নিট ও ওভেন পোশাক, চামড়া ও পাদুকা, খাদ্য ও পানীয়, শাকসবজি এবং মসলা। অন্যদিকে মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশে আসে খনিজ জ্বালানি, ভোজ্যতেল ও চর্বি, লোহা ও ইস্পাত, প্লাস্টিক, যন্ত্রপাতি এবং বিভিন্ন রাসায়নিক পণ্য।

এ অবস্থায় এফটিএর মাধ্যমে মালয়েশিয়ার বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়ানোর পাশাপাশি রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক, চামড়া ও পাদুকা, খাদ্য প্রক্রিয়াজাত পণ্য, কৃষিপণ্য ও অন্যান্য সম্ভাবনাময় পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে চুক্তিটি ভূমিকা রাখতে পারে।

বাংলাদেশের জন্য এফটিএর গুরুত্ব আরও বাড়ছে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রেক্ষাপটে। এলডিসি হিসেবে বাংলাদেশ বিভিন্ন বাজারে শুল্কমুক্ত বা কম শুল্কে পণ্য রপ্তানির সুবিধা পেয়ে থাকে। উত্তরণের পর এসব অগ্রাধিকারমূলক সুবিধার কিছু পরিবর্তিত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ধরে রাখতে দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক বাণিজ্য চুক্তির গুরুত্ব বাড়বে।

এফটিএর মাধ্যমে মালয়েশিয়ার বাজারে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের জন্য শুল্ক ও অশুল্ক বাধা কমানোর সুযোগ তৈরি হলে দেশটির বাজারে পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে মালয়েশিয়া থেকে আমদানি করা জ্বালানি, যন্ত্রপাতি, লোহা ও ইস্পাতসহ শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও পণ্যের বাণিজ্য কাঠামোও আরও সুসংগঠিত করা সম্ভব হবে।

এদিকে মালয়েশিয়ার হালাল পণ্যের বাজারে বাংলাদেশের সম্ভাবনা নিয়েও কথা বলেন হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বেশ কিছু পণ্যকে মালয়েশিয়ার হালাল কর্তৃপক্ষ জাকিম হালাল সনদ দিয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে হালাল সনদ প্রদানকারী সংস্থা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

তবে শুধু স্বীকৃতি পেলেই হবে না উল্লেখ করে হাইকমিশনার বলেন, আন্তর্জাতিক হালাল বাজারে আরও কার্যকরভাবে প্রবেশ করতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে কারিগরি দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়াতে হবে।
বৃহস্পতিবার কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত মালয়েশিয়া ইন্টারন্যাশনাল হালাল শোকেস (মিহাস) পরিদর্শনকালে তিনি বাংলাদেশের অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর স্টল ঘুরে দেখেন। এ সময় প্রাণ, এপেক্স কনভিনিয়েন্স ফুডস লিমিটেড, ঘরের বাজার, প্যারাগন এগ্রো লিমিটেড, তালুকদার এগ্রো ফুডস অ্যান্ড বেভারেজ, নোরিশ ফুডস লিমিটেড ও বায়োফার্মা লিমিটেডের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

এ সময় হাইকমিশনারের সঙ্গে ছিলেন মিহাসের আয়োজক মালয়েশিয়ার সরকারি বাণিজ্য উন্নয়ন সংস্থা ম্যাট্রেডের ডেপুটি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জয় শংকর।

দুই দেশের মধ্যে এফটিএ আলোচনা শুরু হলে বাজারসুবিধা, শুল্ক কাঠামো, পণ্য ও সেবার বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং বাণিজ্য সহজীকরণের মতো বিষয়গুলো ধাপে ধাপে আলোচনায় আসবে। ২০২৭ সালের মধ্যে চুক্তি চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে অক্টোবরের শেষের ঢাকার বৈঠক তাই দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন পর্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মালয়েশিয়ায় ২২তম মিহাস ফেয়ারে বাংলাদেশের হালাল হাট

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:০২ পিএম
মালয়েশিয়ায় ২২তম মিহাস ফেয়ারে বাংলাদেশের হালাল হাট

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ হালাল বাণিজ্য প্রদর্শনী ‘মালয়েশিয়া ইন্টারন্যাশনাল হালাল শোকেস’ (মিহাস)-এর ২২তম আসর বসেছে মালয়েশিয়ায়। বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৯০টি দেশের প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে এবারের আয়োজনে। প্রায় ২ হাজার ৪০০ বুথে হালাল খাদ্যপণ্য থেকে শুরু করে ওষুধ, প্রসাধনী, ফ্যাশন, লজিস্টিকস, ইসলামিক ফাইন্যান্স, প্রযুক্তি ও পর্যটনসহ ১৪টি খাতের পণ্য ও সেবা প্রদর্শন করা হচ্ছে। চার দিনব্যাপী এ আয়োজনে প্রায় ৫০ হাজার দর্শনার্থীর সমাগমের প্রত্যাশা করছেন আয়োজকরা।

২৩ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর কুয়ালালামপুরের মালয়েশিয়া ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড অ্যান্ড এক্সিবিশন সেন্টারে (মাইটেক) অনুষ্ঠিত হচ্ছে মিহাস ২০২৬। প্রদর্শনী ও ব্যবসায়িক ম্যাচমেকিং কর্মসূচির মাধ্যমে এবার ৫ বিলিয়ন মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত বা প্রায় ১২৩ কোটি মার্কিন ডলারের ব্যবসা অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
২০০৪ সালে যাত্রা শুরুর পর মিহাস শুধু হালাল খাদ্যপণ্যের প্রদর্শনীতে সীমাবদ্ধ থাকেনি। সময়ের সঙ্গে এটি হালাল অর্থনীতির বৈশ্বিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ক্রেতা, আমদানিকারক, পরিবেশক ও ব্যবসায়ীদের সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হওয়ায় রপ্তানিকারকদের জন্য নতুন বাজারে প্রবেশের পথও তৈরি হচ্ছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

এবারের মিহাসে অংশগ্রহণকারীদের জন্য প্রথমবারের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর বিশেষ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। মালয়েশিয়া এক্সটার্নাল ট্রেড ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনের (ম্যাট্রেড) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দাতো ইন্দেরা আবু বকর ইউসুফ জানান, নিবন্ধিত প্রত্যেক অংশগ্রহণকারীকে একটি নির্দিষ্ট এআই এজেন্ট ও ব্যক্তিগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

 

এআই ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যবসায়িক অংশীদার খোঁজা, প্রদর্শকদের সঙ্গে যোগাযোগ, ব্যবসায়িক ম্যাচমেকিং, বহুভাষিক সহায়তা, প্রদর্শনী কেন্দ্রের বিভিন্ন স্টল খুঁজে পাওয়া, বৈঠক ব্যবস্থাপনা এবং প্রদর্শনী-পরবর্তী যোগাযোগের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

মিহাসের আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক সংযোগ কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৪৫০ জন আন্তর্জাতিক ক্রেতার সঙ্গে ৬০০ মালয়েশিয়ান রপ্তানিকারকের প্রায় ৪ হাজার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে ৫০ জন প্রিমিয়াম ক্রেতাও রয়েছেন।

বাংলাদেশি ৬ প্রতিষ্ঠা :
এবারের মিহাসে বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর উদ্যোগে এবং কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনের ব্যবস্থাপনায় ছয়টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। এগুলো হলো, অ্যাপেক্স কনভেনিয়েন্স ফুডস লিমিটেড, ঘরের বাজার, প্যারাগন অ্যাগ্রো লিমিটেড, তালুকদার অ্যাগ্রো ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, নরিশ ফুডস লিমিটেড এবং বায়োফার্মা লিমিটেড। এর মধ্যে অন্যতম বৃহৎ খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান প্রাণও রয়েছে।

প্রাণ আটটি স্টলে স্ন্যাকস, জুস ও ড্রিংকস, কুলিনারি পণ্য, বিস্কুট, বেকারি ও কনফেকশনারিসহ বিভিন্ন হালাল পণ্য প্রদর্শন করছে। পাশাপাশি ফ্লেভারড নুডলস, চকলেট, ওয়েফারসহ নানা ধরনের ভোক্তাপণ্যও তুলে ধরা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশের তৈরি হালাল খাদ্যপণ্যের সম্ভাবনা তুলে ধরার পাশাপাশি নতুন বাজার তৈরির সুযোগ কাজে লাগাতে চায় বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো।

এফটিএ নিয়ে আশাবা :
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ হাইকমিশনার মানজুরুল করিম খান চৌধুরীর নেতৃত্বে হাইকমিশনের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন পরিদর্শন করে। হাইকমিশনারের সঙ্গে ছিলেন আয়োজক প্রতিষ্ঠানের উপ-প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জয় শংকর।
এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশ শুধু জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রেই নয়, বিনিয়োগের জন্যও সম্ভাবনাময়।

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণে অন্যতম প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কোনো বাণিজ্য চুক্তি না থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে দুই দেশের সরকার পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। ২০২৭ সালের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষর হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এফটিএ হলে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে উল্লেখ করেন হাইকমিশনার। একই সঙ্গে বাংলাদেশের এভিয়েশন, মেডিকেল, তথ্যপ্রযুক্তি ও অ্যাগ্রো-প্রসেসিংসহ বিভিন্ন খাতে মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার হালাল পণ্যের বড় বাজার রয়েছে উল্লেখ করে দেশটির দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে কার্যকর হালাল ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি। সেমিকন্ডাক্টর খাতে দক্ষ জনবল তৈরিতে প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়ার জন্যও মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

বিশ্বজুড়ে হালাল পণ্যের বাজারও দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে। মুসলিম জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি খাদ্যের নিরাপত্তা, মান, পরিচ্ছন্নতা ও উৎপাদনপ্রক্রিয়ার কারণে অমুসলিম ভোক্তাদের মধ্যেও হালাল পণ্যের চাহিদা বাড়ছে। ফলে হালাল অর্থনীতি এখন খাদ্যপণ্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে ওষুধ, প্রসাধনী, ফ্যাশন, লজিস্টিকস, পর্যটন, প্রযুক্তি ও আর্থিক সেবাসহ বিভিন্ন খাতে বিস্তৃত হয়েছে।

এ বাস্তবতায় মিহাস শুধু পণ্য প্রদর্শনীর আয়োজন নয়; বরং আন্তর্জাতিক ক্রেতা খোঁজা, নতুন বাজারে প্রবেশ, ব্যবসায়িক অংশীদার তৈরি এবং রপ্তানি সম্প্রসারণের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে কাজ করছে। বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণও দেশীয় হালাল পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণের সম্ভাবনাকে সামনে এনেছে।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক