শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

সোমবার: এক নজরে স্পেনের সর্বশেষ সংবাদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:২৯ পিএম
সোমবার: এক নজরে স্পেনের সর্বশেষ সংবাদ

আজ প্রায় পুরো স্পেনে সতর্কতা: তুষারপাত ও তীব্র শীতে আক্রান্ত ১৯টি প্রদেশ

আর্কটিক অঞ্চল থেকে আসা একটি শক্তিশালী শীতল বায়ুপ্রবাহ স্পেনের উত্তরাঞ্চলসহ দেশটির বড় অংশে বিরূপ আবহাওয়া সৃষ্টি করেছে। সোমবার ৫ জানুয়ারি এক্সত্রেমাদুরা ও ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ ছাড়া সব স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে বৃষ্টি, তুষারপাত, তীব্র শীত ও উপকূলীয় দুর্যোগের কারণে হলুদ বা কমলা সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া বিভাগ।

‘ফ্রান্সিস’ নামের ঝড়ের প্রভাবে দেশের অধিকাংশ এলাকায় আকাশ মেঘলা রয়েছে এবং বৃষ্টি হচ্ছে। মধ্য ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল, সেউতা, মেলিলা এবং বালেয়ারিক দ্বীপপুঞ্জে ভারী ও দীর্ঘস্থায়ী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে, বিশেষ করে আলবোরান সাগর ও মুরসিয়া উপকূলে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

কান্তাব্রিয়ায় তুষারপাতের জন্য উচ্চমাত্রার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় তুষারপাতের উচ্চতা ভিন্ন ভিন্ন হবে। উত্তরাঞ্চলের কিছু অঞ্চলে অপেক্ষাকৃত নিচু এলাকাতেও তুষার পড়তে পারে। জিরোনা প্রদেশে উত্তাল সাগরের কারণে কমলা সতর্কতা দেওয়া হয়েছে, আর দেশের কয়েকটি উপকূলীয় অঞ্চলে ঢেউয়ের জন্য হলুদ সতর্কতা জারি রয়েছে।

দেশের ভেতরের এলাকায় তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাচ্ছে। অন্তত ১৯টি প্রদেশে সর্বনিম্ন তাপমাত্রার কারণে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। অধিকাংশ অভ্যন্তরীণ এলাকায় ব্যাপকভাবে তুষার জমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের পার্বত্য অঞ্চল ও মালভূমিতে।

এ ছাড়া বিভিন্ন এলাকায় মাঝারি থেকে জোরালো বাতাস বইতে পারে। উপকূলীয় ও দ্বীপাঞ্চলে দমকা হাওয়া আরও শক্তিশালী হতে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া বিভাগ। কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের সতর্ক থাকার এবং প্রয়োজন ছাড়া যাতায়াত না করার আহ্বান জানিয়েছে।


২০২৫ সালে স্পেনে রেকর্ড কর্মসংস্থান, তৈরি হয়েছে সাড়ে পাঁচ লক্ষের বেশি নতুন চাকরি

২০২৫ সালে স্পেনে মোট ৫ লাখ ৬ হাজার ৪৫১টি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে দেশটিতে মোট কর্মরত মানুষের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৮ লাখ ৪৪ হাজার, যা ডিসেম্বর মাস শেষে স্পেনের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, আগের বছরের তুলনায় কর্মসংস্থান বেড়েছে ২.৪ শতাংশ। এটি ২০১৯ সালের পর তৃতীয় সর্বোচ্চ বার্ষিক বৃদ্ধি। করোনা মহামারির প্রথম বছরে বড় ধরনের ক্ষতির পর টানা পাঁচ বছর ধরে দেশটিতে চাকরির সংখ্যা বাড়ছে।

ডিসেম্বর মাসে কোনো কোনো দিনে কর্মরত মানুষের সংখ্যা ২ কোটি ১৯ লাখ ছাড়িয়ে যায়। শ্রম সংস্কার কার্যকর হওয়ার পর গত চার বছরে সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় ২০ লাখের বেশি নতুন কর্মী যুক্ত হয়েছেন।

২০২৫ সালের শেষে কর্মরত নারীর সংখ্যা প্রথমবারের মতো ১ কোটি ৩৫ লাখ ছাড়িয়েছে, যা ইতিহাসে সর্বোচ্চ। একই সময়ে পুরুষ কর্মীর সংখ্যাও বেড়ে প্রায় ১ কোটি ১৫ লাখে দাঁড়িয়েছে। তরুণ ও ৫৫ বছরের বেশি বয়সীদের কর্মসংস্থানও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিদেশি কর্মীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০ লাখের বেশি, যা মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ১৪ শতাংশ। পাশাপাশি স্বনিয়োজিত কর্মীর সংখ্যাও রেকর্ড গড়ে ৩৪ লাখ ছাড়িয়েছে।

স্বাস্থ্য, পরিবহন, শিক্ষা, বাণিজ্য ও নির্মাণ খাতে সবচেয়ে বেশি নতুন চাকরি সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্য ও পরিবহন খাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির হার উল্লেখযোগ্য।

এদিকে অস্থায়ী চুক্তিভিত্তিক চাকরির হার কমে নেমেছে ১২.৩ শতাংশে, যা আগের বছরগুলোর তুলনায় অনেক কম। সরকারের মতে, বর্তমানে স্পেনে কর্মসংস্থান শুধু বাড়ছেই না, চাকরির মানও আগের চেয়ে উন্নত হচ্ছে।


ঝড় ‘ফ্রান্সিস’-এর প্রভাবে স্পেনে তীব্র শীত, তুষারপাত ও বৃষ্টি: সড়ক যোগাযোগে চরম ভোগান্তি

স্পেনে ‘ফ্রান্সিস’ নামের শক্তিশালী ঝড়ের প্রভাবে দেশজুড়ে তীব্র শীত, তুষারপাত ও ভারী বৃষ্টি শুরু হয়েছে। এক্সত্রেমাদুরা ও ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ ছাড়া প্রায় সব স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের অনেক এলাকায় নিম্নভূমিতেও তুষারপাত হচ্ছে। কাতালোনিয়া, মাদ্রিদ, কান্তাব্রিয়া, ভ্যালেন্সিয়া, আন্দালুসিয়া, আরাগোন, কাস্তিয়া-লা মানচা ও মুরসিয়াসহ বহু প্রদেশে তুষার ও বৃষ্টির সতর্কতা জারি রয়েছে। কান্তাব্রিয়ায় তুষারপাতের কারণে উচ্চমাত্রার সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।

ঝড়ের কারণে তাপমাত্রা দ্রুত কমে গেছে। দেশের ভেতরের এলাকায় ব্যাপক তুষার জমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মঙ্গলবারকে চলতি সপ্তাহের সবচেয়ে শীতল দিন বলা হচ্ছে। কোথাও কোথাও তাপমাত্রা শূন্য ডিগ্রির কাছাকাছি নেমে যেতে পারে।

প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সারা দেশে অন্তত ৫২টি সড়কে চলাচলে সমস্যা দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে যান চলাচল সীমিতভাবে চালু আছে। আন্দালুসিয়ায় ভারী বৃষ্টির কারণে একাধিক আঞ্চলিক সড়ক পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে।

উপকূলীয় এলাকাগুলোতেও উত্তাল সাগরের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার, যাত্রার আগে আবহাওয়া ও সড়কের সর্বশেষ তথ্য জানার এবং গাড়িতে শীতকালীন সরঞ্জাম রাখার আহ্বান জানিয়েছে।


স্পেনে পুরোনো বাড়ির দাম রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে: ২০২৫ সালের শেষের দিকে বেড়েছে ১৬.২%

স্পেনে পুরোনো বা সেকেন্ড হ্যান্ড বাড়ির দাম ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকে গত বছরের তুলনায় ১৬.২ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি বর্গমিটারের গড় মূল্য দাঁড়িয়েছে ২,৬৩৯ ইউরোতে, যা দেশটির ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। আবাসন বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান আইডিয়ালিস্তার তথ্যমতে, এটি ২০০৭ সালের আবাসন বুদবুদের পর সবচেয়ে বড় বার্ষিক মূল্যবৃদ্ধি।

আগের প্রান্তিকে বাড়ির দাম বেড়েছিল ১৫.৩ শতাংশ, তবে সর্বশেষ তিন মাসে এই বৃদ্ধি আরও গতি পেয়ে ৪.৮ শতাংশে পৌঁছেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাড়ির দামের এই লাগামহীন বৃদ্ধির মূল কারণ হলো পর্যাপ্ত নতুন বাড়ির অভাব। আইডিয়ালিস্তার মুখপাত্র ফ্রান্সিসকো ইনিয়ারেতা জানান, ২০০৮ সালের অর্থনৈতিক সংকটের পর থেকে স্পেনে প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন বাড়ি নির্মাণ সম্ভব হয়নি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমান চাহিদা পূরণে দেশে অন্তত সাত লাখ নতুন বাড়ি প্রয়োজন।

আঞ্চলিকভাবে সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে মুরসিয়া অঞ্চলে, যেখানে গত এক বছরে মূল্য বেড়েছে ২৩.৬ শতাংশ। এর পরেই রয়েছে মাদ্রিদ, আন্দালুসিয়া ও কান্তাব্রিয়া। অন্যদিকে, বালেয়ারিক দ্বীপপুঞ্জ এখনো স্পেনের সবচেয়ে ব্যয়বহুল অঞ্চল, যেখানে প্রতি বর্গমিটারের দাম ছাড়িয়েছে ৫,১৬০ ইউরো।

রাজধানীগুলোর মধ্যে সান সেবাস্তিয়ান সবচেয়ে দামী শহর হিসেবে শীর্ষে রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নতুন ও বাস্তবমুখী আবাসন নীতি এবং বাড়ি নির্মাণ খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো না হলে এই সংকট সহজে কাটবে না।


ধারালো অস্ত্রের আঘাতে জায়েনে ৩৮ বছর বয়সী নারীকে হত্যা

৪ জানুয়ারি স্পেনের জায়েন প্রদেশের কেসাদা এলাকায় ৩৮ বছর বয়সী এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি পারিবারিক সহিংসতা থেকে ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে দেশটির সিভিল গার্ড। প্রাথমিকভাবে এটি নারী নির্যাতনজনিত হত্যাকাণ্ড বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। নিশ্চিত হলে এটি ২০২৬ সালের স্পেনে প্রথম নারী হত্যা (ফেমিনিসাইড) হিসেবে নথিভুক্ত হবে।

রোববার বিকেল প্রায় ৩টা ৪৫ মিনিটে জরুরি নম্বর ১১২-এ খবর আসে। কেসাদার ‘লস মোলিনোস’ নামের একটি নির্জন এলাকায় মরদেহটি পাওয়া যায়। ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্বাস্থ্যকর্মী, স্থানীয় পুলিশ ও সিভিল গার্ড মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। নিহতের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে জানা গেছে। নিহত নারীর সাবেক সঙ্গীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

ঘটনার তদন্ত এখন প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জায়েনের ফরেনসিক মেডিকেল ইনস্টিটিউট মরদেহের ময়নাতদন্ত করবে, যার ফল তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সরকারের নারী নির্যাতনবিরোধী দপ্তর জানিয়েছে, তারা সম্ভাব্য নারী হত্যার তথ্য সংগ্রহ করছে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে স্পেনে সঙ্গী বা সাবেক সঙ্গীর হাতে ৪৬ জন নারী নিহত হন। ২০০৩ সাল থেকে সরকারি হিসাব অনুযায়ী এ পর্যন্ত মোট ১,৩৪১ জন নারী এ ধরনের সহিংসতার শিকার হয়েছেন।

এ ঘটনায় জায়েনের সরকারি প্রতিনিধি ম্যানুয়েল ফের্নান্দেস গভীর নিন্দা জানিয়েছেন। নারী নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবার ২৪ ঘণ্টা চালু সহায়তা নম্বর ০১৬-এ যোগাযোগ করতে পারেন। জরুরি পরিস্থিতিতে ১১২ নম্বরে ফোন করার আহ্বান জানানো হয়েছে।


মাদ্রিদে মারধরের শিকার হয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু, সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার

মাদ্রিদের লেগানেস শহরে একটি বাসভবনের ভেতরে ভয়াবহ মারধরের ঘটনায় এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত একজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।

স্থানীয় সময় রবিবার রাত প্রায় সাড়ে আটটার দিকে ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ জানায়, ৫১ বছর বয়সী এক ব্যক্তি ৪৮ বছর বয়সী আরেকজনকে ঘুষি ও লাথি মেরে গুরুতর আহত করেন। মারধরের সময় তিনি ধারাবাহিকভাবে আঘাত করতে থাকেন। গুরুতর অবস্থায় আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন হামলাকারীকে আটক করে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নিহত ও অভিযুক্ত ব্যক্তির মধ্যে আগে থেকেই ব্যক্তিগত বিরোধ ছিল।

পুলিশ হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনার সঠিক কারণ ও প্রেক্ষাপট জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।


কাতালোনিয়ায় বিশেষ শিক্ষার্থীদের জন্যে শিক্ষাদানে ‘সহায়তা ঘণ্টা’ ১৮% বৃদ্ধি, বাজেটও বেড়েছে ৩২%

কাতালোনিয়ায় সরকারি বিদ্যালয়ে বিশেষ শিক্ষার্থীদের সহায়তা ও মনিটরিং ঘণ্টা এই জানুয়ারি থেকে ১৮% বৃদ্ধি করা হয়েছে। নতুন চুক্তির আওতায় এই পরিষেবা আগামী ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের শেষ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

শিক্ষা দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই সহায়তার জন্য মোট বাজেট ৬২.৬২ মিলিয়ন ইউরো নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের বাকি সময়ে ব্যয় হবে ২৩.৭৭ মিলিয়ন ইউরো এবং ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে ৩৮.৮৬ মিলিয়ন ইউরো। এর ফলে প্রতি শিক্ষাবর্ষে বিনিয়োগের পরিমাণ ৩২.৭% বেড়েছে।

নতুন চুক্তি অনুযায়ী সপ্তাহে ৬৪,৪৪৭ ঘণ্টা সহায়তা প্রদান করা হবে, যা আগের বছরের ৫৪,৬৯৭ ঘণ্টার চেয়ে প্রায় ১৮% বেশি। বিশেষ শিক্ষার্থীদের সহায়তা ঘণ্টাগুলো অঞ্চল এবং স্কুলের প্রয়োজন অনুযায়ী বিতরণ করা হবে, যা শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন রিপোর্ট ও শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের সুপারিশের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে।

চুক্তিতে বছরের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ত্রৈমাসিকে ঘণ্টা আরও বৃদ্ধি পাবে, কারণ এই সময়ে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি, শিক্ষামূলক কার্যক্রম, এবং বিদ্যালয়ের বাইরের কার্যক্রমে সহায়তার চাহিদা বেশি থাকে। শিক্ষা দপ্তর আশা করছে, এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের শিখন প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য সহায়তা করবে।

 

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ চায় ডিসিসিআই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৬ এম
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ চায় ডিসিসিআই

বাংলাদেশের জ্বালানি, নবায়নযোগ্য শক্তি ও বিনিয়োগ খাতে সহযোগিতা বাড়াতে মালয়েশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন ও যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ।

বৃহস্পতিবার কুয়ালালামপুরের একটি হোটেলে মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী লিউ চিন টংয়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব আহ্বান জানান।

সাক্ষাৎকালে তাসকীন আহমেদ বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মোট বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। দুই দেশের বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণে নতুন নতুন অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি এবং সরকার পর্যায়ে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। পারস্পরিক আস্থা, অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি জ্বালানি সরবরাহ, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি প্রণোদনা ও বিনিয়োগ সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তারা এ খাতে বিনিয়োগ করতে পারেন।

এ খাতে দীর্ঘমেয়াদি ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে মালয়েশিয়া সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। পাশাপাশি প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের সহযোগিতা আরও কার্যকর ও টেকসই করা সম্ভব বলে মত দেন।

এ সময় মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী লিউ চিন টং বলেন, দেশটির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে বিপুলসংখ্যক দক্ষ জনবলের চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশের বৃহৎ তরুণ জনগোষ্ঠীকে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে তাদের জন্য উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে আন্তর্জাতিক লেনদেন ব্যবস্থা আরও আধুনিক করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ইসলামিক ফাইন্যান্সিংয়ের সম্প্রসারণ, উদ্ভাবনী আর্থিক পণ্য তৈরি এবং কার্যকর আর্থিক অবকাঠামো গড়ে তুলতে মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা ও মডেল বাংলাদেশের জন্য অনুসরণযোগ্য হতে পারে।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) খাতের সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন তাসকীন আহমেদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের এমএফএস মডেল বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে। মালয়েশিয়াও বাংলাদেশের এ খাতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারে।
ডিসিসিআই সভাপতি আরও বলেন, বাংলাদেশ প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য আমদানি করে। ফলে দেশটি একটি বড় ও সম্ভাবনাময় ভোক্তা বাজারে পরিণত হয়েছে। এই বাজারের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে মালয়েশিয়ার রপ্তানিকারকদের বাংলাদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং রপ্তানি বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

তিনি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব জোরদার, পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং পারস্পরিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন।
সাক্ষাৎকালে ডিসিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী ও সহ-সভাপতি সালিম সোলায়মান উপস্থিত ছিলেন।

অক্টোবরে শুরু হবে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫১ পিএম
অক্টোবরে শুরু হবে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে প্রথম দফার আলোচনা আগামী অক্টোবরের শেষ দিকে ঢাকায় শুরু হতে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে মালয়েশিয়ার একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা সফর করবে। প্রথম দফার আলোচনায় দুই দেশের বাজারসুবিধা, ব্যবসার সুযোগ এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পাবে।

বৃহস্পতিবার কুয়ালালামপুরে এ তথ্য জানিয়েছেন মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী। একই দিন মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের (এমআইটিআই) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ড. রশিদি সাইদও ঢাকায় অক্টোবরের শেষ দিকে প্রথম দফার আলোচনা অনুষ্ঠানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি হবেন এমবিএফটিএ আলোচনায় মালয়েশিয়ার প্রধান আলোচক।

ড. রশিদি সাইদ বলেন, প্রথম দফার আলোচনায় দুই দেশ নিজেদের প্রয়োজন চিহ্নিত করার পাশাপাশি একে অপরকে কী ধরনের বাণিজ্যসুবিধা দিতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা করবে। বাজারে প্রবেশাধিকার ও ব্যবসার নতুন সুযোগসহ পারস্পরিক স্বার্থের বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় আসবে। পরবর্তী বৈঠকগুলো চুক্তি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত চলবে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে এফটিএ স্বাক্ষরের জন্য ২০২৭ সালের ডিসেম্বরকে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অক্টোবরে ঢাকায় প্রথম দফার আলোচনা চুক্তি সম্পাদনের প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে।

গত জুনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের সময় দুই দেশের সরকারপ্রধান এফটিএ আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হন। ওই সফরের যৌথ বিবৃতিতে ২০২৭ সালের মধ্যে একটি ব্যাপক, ভবিষ্যৎমুখী ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক এফটিএ সম্পন্ন করার অঙ্গীকার করা হয়।

বর্তমানে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য থাকলেও পূর্ণাঙ্গ দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নেই। ফলে দুই দেশের ব্যবসায়ীরা এফটিএর আওতায় সম্ভাব্য অগ্রাধিকারমূলক বাজারসুবিধা, শুল্কছাড় ও বাণিজ্য সহজীকরণের অতিরিক্ত সুবিধা পাচ্ছেন না।
এফটিএ হলে দুই দেশের পণ্য ও সেবার বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়ানোর পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, বাণিজ্য সহজীকরণ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রও সম্প্রসারিত হতে পারে।

মালয়েশিয়ার সরকারি বাণিজ্য উন্নয়ন সংস্থা ম্যাট্রেডের ডেপুটি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জয় শংকর বলেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সহজ করতে কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। বাংলাদেশকে গুরুত্ব দিয়ে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে মালয়েশিয়া আগ্রহী।
এফটিএ আলোচনার প্রেক্ষাপটে দুই দেশের বাণিজ্য ভারসাম্যের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশি উপহাইকমিশনার শানারা মনিকার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশ মালয়েশিয়ায় প্রায় ৩০৫ দশমিক ৫৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। বিপরীতে মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশ আমদানি করেছে প্রায় ২ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য।

বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে তৈরি পোশাক, নিট ও ওভেন পোশাক, চামড়া ও পাদুকা, খাদ্য ও পানীয়, শাকসবজি এবং মসলা। অন্যদিকে মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশে আসে খনিজ জ্বালানি, ভোজ্যতেল ও চর্বি, লোহা ও ইস্পাত, প্লাস্টিক, যন্ত্রপাতি এবং বিভিন্ন রাসায়নিক পণ্য।

এ অবস্থায় এফটিএর মাধ্যমে মালয়েশিয়ার বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়ানোর পাশাপাশি রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক, চামড়া ও পাদুকা, খাদ্য প্রক্রিয়াজাত পণ্য, কৃষিপণ্য ও অন্যান্য সম্ভাবনাময় পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে চুক্তিটি ভূমিকা রাখতে পারে।

বাংলাদেশের জন্য এফটিএর গুরুত্ব আরও বাড়ছে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রেক্ষাপটে। এলডিসি হিসেবে বাংলাদেশ বিভিন্ন বাজারে শুল্কমুক্ত বা কম শুল্কে পণ্য রপ্তানির সুবিধা পেয়ে থাকে। উত্তরণের পর এসব অগ্রাধিকারমূলক সুবিধার কিছু পরিবর্তিত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ধরে রাখতে দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক বাণিজ্য চুক্তির গুরুত্ব বাড়বে।

এফটিএর মাধ্যমে মালয়েশিয়ার বাজারে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের জন্য শুল্ক ও অশুল্ক বাধা কমানোর সুযোগ তৈরি হলে দেশটির বাজারে পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে মালয়েশিয়া থেকে আমদানি করা জ্বালানি, যন্ত্রপাতি, লোহা ও ইস্পাতসহ শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও পণ্যের বাণিজ্য কাঠামোও আরও সুসংগঠিত করা সম্ভব হবে।

এদিকে মালয়েশিয়ার হালাল পণ্যের বাজারে বাংলাদেশের সম্ভাবনা নিয়েও কথা বলেন হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বেশ কিছু পণ্যকে মালয়েশিয়ার হালাল কর্তৃপক্ষ জাকিম হালাল সনদ দিয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে হালাল সনদ প্রদানকারী সংস্থা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

তবে শুধু স্বীকৃতি পেলেই হবে না উল্লেখ করে হাইকমিশনার বলেন, আন্তর্জাতিক হালাল বাজারে আরও কার্যকরভাবে প্রবেশ করতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে কারিগরি দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়াতে হবে।
বৃহস্পতিবার কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত মালয়েশিয়া ইন্টারন্যাশনাল হালাল শোকেস (মিহাস) পরিদর্শনকালে তিনি বাংলাদেশের অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর স্টল ঘুরে দেখেন। এ সময় প্রাণ, এপেক্স কনভিনিয়েন্স ফুডস লিমিটেড, ঘরের বাজার, প্যারাগন এগ্রো লিমিটেড, তালুকদার এগ্রো ফুডস অ্যান্ড বেভারেজ, নোরিশ ফুডস লিমিটেড ও বায়োফার্মা লিমিটেডের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

এ সময় হাইকমিশনারের সঙ্গে ছিলেন মিহাসের আয়োজক মালয়েশিয়ার সরকারি বাণিজ্য উন্নয়ন সংস্থা ম্যাট্রেডের ডেপুটি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জয় শংকর।

দুই দেশের মধ্যে এফটিএ আলোচনা শুরু হলে বাজারসুবিধা, শুল্ক কাঠামো, পণ্য ও সেবার বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং বাণিজ্য সহজীকরণের মতো বিষয়গুলো ধাপে ধাপে আলোচনায় আসবে। ২০২৭ সালের মধ্যে চুক্তি চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে অক্টোবরের শেষের ঢাকার বৈঠক তাই দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন পর্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মালয়েশিয়ায় ২২তম মিহাস ফেয়ারে বাংলাদেশের হালাল হাট

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:০২ পিএম
মালয়েশিয়ায় ২২তম মিহাস ফেয়ারে বাংলাদেশের হালাল হাট

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ হালাল বাণিজ্য প্রদর্শনী ‘মালয়েশিয়া ইন্টারন্যাশনাল হালাল শোকেস’ (মিহাস)-এর ২২তম আসর বসেছে মালয়েশিয়ায়। বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৯০টি দেশের প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে এবারের আয়োজনে। প্রায় ২ হাজার ৪০০ বুথে হালাল খাদ্যপণ্য থেকে শুরু করে ওষুধ, প্রসাধনী, ফ্যাশন, লজিস্টিকস, ইসলামিক ফাইন্যান্স, প্রযুক্তি ও পর্যটনসহ ১৪টি খাতের পণ্য ও সেবা প্রদর্শন করা হচ্ছে। চার দিনব্যাপী এ আয়োজনে প্রায় ৫০ হাজার দর্শনার্থীর সমাগমের প্রত্যাশা করছেন আয়োজকরা।

২৩ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর কুয়ালালামপুরের মালয়েশিয়া ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড অ্যান্ড এক্সিবিশন সেন্টারে (মাইটেক) অনুষ্ঠিত হচ্ছে মিহাস ২০২৬। প্রদর্শনী ও ব্যবসায়িক ম্যাচমেকিং কর্মসূচির মাধ্যমে এবার ৫ বিলিয়ন মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত বা প্রায় ১২৩ কোটি মার্কিন ডলারের ব্যবসা অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
২০০৪ সালে যাত্রা শুরুর পর মিহাস শুধু হালাল খাদ্যপণ্যের প্রদর্শনীতে সীমাবদ্ধ থাকেনি। সময়ের সঙ্গে এটি হালাল অর্থনীতির বৈশ্বিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ক্রেতা, আমদানিকারক, পরিবেশক ও ব্যবসায়ীদের সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হওয়ায় রপ্তানিকারকদের জন্য নতুন বাজারে প্রবেশের পথও তৈরি হচ্ছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

এবারের মিহাসে অংশগ্রহণকারীদের জন্য প্রথমবারের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর বিশেষ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। মালয়েশিয়া এক্সটার্নাল ট্রেড ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনের (ম্যাট্রেড) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দাতো ইন্দেরা আবু বকর ইউসুফ জানান, নিবন্ধিত প্রত্যেক অংশগ্রহণকারীকে একটি নির্দিষ্ট এআই এজেন্ট ও ব্যক্তিগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

 

এআই ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যবসায়িক অংশীদার খোঁজা, প্রদর্শকদের সঙ্গে যোগাযোগ, ব্যবসায়িক ম্যাচমেকিং, বহুভাষিক সহায়তা, প্রদর্শনী কেন্দ্রের বিভিন্ন স্টল খুঁজে পাওয়া, বৈঠক ব্যবস্থাপনা এবং প্রদর্শনী-পরবর্তী যোগাযোগের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

মিহাসের আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক সংযোগ কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৪৫০ জন আন্তর্জাতিক ক্রেতার সঙ্গে ৬০০ মালয়েশিয়ান রপ্তানিকারকের প্রায় ৪ হাজার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে ৫০ জন প্রিমিয়াম ক্রেতাও রয়েছেন।

বাংলাদেশি ৬ প্রতিষ্ঠা :
এবারের মিহাসে বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর উদ্যোগে এবং কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনের ব্যবস্থাপনায় ছয়টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। এগুলো হলো, অ্যাপেক্স কনভেনিয়েন্স ফুডস লিমিটেড, ঘরের বাজার, প্যারাগন অ্যাগ্রো লিমিটেড, তালুকদার অ্যাগ্রো ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, নরিশ ফুডস লিমিটেড এবং বায়োফার্মা লিমিটেড। এর মধ্যে অন্যতম বৃহৎ খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান প্রাণও রয়েছে।

প্রাণ আটটি স্টলে স্ন্যাকস, জুস ও ড্রিংকস, কুলিনারি পণ্য, বিস্কুট, বেকারি ও কনফেকশনারিসহ বিভিন্ন হালাল পণ্য প্রদর্শন করছে। পাশাপাশি ফ্লেভারড নুডলস, চকলেট, ওয়েফারসহ নানা ধরনের ভোক্তাপণ্যও তুলে ধরা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশের তৈরি হালাল খাদ্যপণ্যের সম্ভাবনা তুলে ধরার পাশাপাশি নতুন বাজার তৈরির সুযোগ কাজে লাগাতে চায় বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো।

এফটিএ নিয়ে আশাবা :
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ হাইকমিশনার মানজুরুল করিম খান চৌধুরীর নেতৃত্বে হাইকমিশনের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন পরিদর্শন করে। হাইকমিশনারের সঙ্গে ছিলেন আয়োজক প্রতিষ্ঠানের উপ-প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জয় শংকর।
এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশ শুধু জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রেই নয়, বিনিয়োগের জন্যও সম্ভাবনাময়।

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণে অন্যতম প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কোনো বাণিজ্য চুক্তি না থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে দুই দেশের সরকার পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। ২০২৭ সালের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষর হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এফটিএ হলে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে উল্লেখ করেন হাইকমিশনার। একই সঙ্গে বাংলাদেশের এভিয়েশন, মেডিকেল, তথ্যপ্রযুক্তি ও অ্যাগ্রো-প্রসেসিংসহ বিভিন্ন খাতে মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার হালাল পণ্যের বড় বাজার রয়েছে উল্লেখ করে দেশটির দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে কার্যকর হালাল ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি। সেমিকন্ডাক্টর খাতে দক্ষ জনবল তৈরিতে প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়ার জন্যও মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

বিশ্বজুড়ে হালাল পণ্যের বাজারও দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে। মুসলিম জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি খাদ্যের নিরাপত্তা, মান, পরিচ্ছন্নতা ও উৎপাদনপ্রক্রিয়ার কারণে অমুসলিম ভোক্তাদের মধ্যেও হালাল পণ্যের চাহিদা বাড়ছে। ফলে হালাল অর্থনীতি এখন খাদ্যপণ্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে ওষুধ, প্রসাধনী, ফ্যাশন, লজিস্টিকস, পর্যটন, প্রযুক্তি ও আর্থিক সেবাসহ বিভিন্ন খাতে বিস্তৃত হয়েছে।

এ বাস্তবতায় মিহাস শুধু পণ্য প্রদর্শনীর আয়োজন নয়; বরং আন্তর্জাতিক ক্রেতা খোঁজা, নতুন বাজারে প্রবেশ, ব্যবসায়িক অংশীদার তৈরি এবং রপ্তানি সম্প্রসারণের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে কাজ করছে। বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণও দেশীয় হালাল পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণের সম্ভাবনাকে সামনে এনেছে।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক