‘আমরা নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই’ -সংবর্ধনাস্থলে পৌঁছে লক্ষ জনতার উদ্দেশ্যে বক্তব্য দিলেন তারেক রহমান
দীর্ঘ সময় পর দেশে ফিরে রাজধানীর পূর্বাচলে আয়োজিত এক বিশাল গণসংবর্ধনায় বক্তব্য দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেখানে তিনি নিরাপদ, গণতান্ত্রিক ও ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে পূর্বাচল ৩০০ ফিট সড়কসংলগ্ন ‘৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়ে’ এলাকায় আয়োজিত গণসংবর্ধনায় তারেক রহমান বলেন, তারা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চান, যেখানে একজন মানুষ নিরাপদে ঘর থেকে বের হতে পারবে এবং নিরাপদেই ঘরে ফিরতে পারবে। তিনি বলেন, দেশ পুনর্গঠনের জন্য তার একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে এবং সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়েই সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে তারেক রহমানকে বহনকারী উড়োজাহাজটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। দীর্ঘদিন পর মাতৃভূমিতে পা রেখে তিনি আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। বিমানবন্দর থেকে বের হয়ে তিনি মাটিতে বসে দু’হাতে দেশের মাটি স্পর্শ করেন, যা উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করে।
বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ফুল দিয়ে তাকে স্বাগত জানান। সেখানে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ শীর্ষ নেতারা তার সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এ সময় তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, কন্যা জাইমা রহমান ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
বিমানবন্দর থেকে ‘বাংলাদেশ’ লেখা লাল-সবুজ রঙের একটি বুলেটপ্রুফ বাসে করে তারেক রহমান সরাসরি গণসংবর্ধনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হন। বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটের দিকে তিনি সভামঞ্চে পৌঁছালে লাখো নেতাকর্মী স্লোগানে স্লোগানে তাকে অভিনন্দন জানান। কয়েক মিনিট পর তিনি বক্তব্য শুরু করেন ‘প্রিয় বাংলাদেশ’ সম্বোধনের মাধ্যমে।
বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে যেমন মানুষ স্বাধীনতা অর্জন করেছিল, তেমনি ২০২৪ সালে দেশের সর্বস্তরের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ভূমিকা রেখেছে। তিনি বলেন, জনগণ এখন তাদের কথা বলার অধিকার ও গণতন্ত্র ফিরে পেতে চায়।
তিনি আরও বলেন, পাহাড়-সমতল, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিককে নিয়ে একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। নারী, পুরুষ ও শিশু—সবাই যেন সমানভাবে নিরাপত্তা পায়, সেটিই তাদের লক্ষ্য।
শহীদ ওসমান হাদিকে স্মরণ করে তিনি বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানাতে হলে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। তরুণ প্রজন্মই ভবিষ্যতে দেশ গড়ার প্রধান শক্তি হবে উল্লেখ করে তিনি শক্তিশালী গণতন্ত্র ও অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর রাষ্ট্র গঠনের আহ্বান জানান। বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি পরপর তিনবার বলেন, তারা দেশের শান্তি চান।
মার্টিন লুথার কিংয়ের বিখ্যাত উক্তির প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, তার স্বপ্ন নয়, একটি বাস্তব পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া চান এবং দেশ গড়ার কাজে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
বক্তব্য শেষে বিকেল সাড়ে চারটার কিছু আগে তিনি বাসে উঠে এভারকেয়ার হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা হন। এরপর বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে গণসংবর্ধনার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।










