চিকিৎসার জন্য রোববার লন্ডনে নেয়া হতে পারে
খালেদা জিয়াকে দেখতে এভারকেয়ারে এসেছেন পুত্রবধূ জুবাইদা রহমান
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে আজ শুক্রবার লন্ডনে নেওয়ার পরিকল্পনা স্থগিত করা হয়েছে। কাতারের আমিরের পাঠানো বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে প্রযুক্তিগত ত্রুটি দেখা দেওয়ায় তাঁকে বিদেশে নেওয়ার প্রক্রিয়াটি এক দিন পিছিয়ে যায়। সবকিছু স্বাভাবিক থাকলে আগামী রোববার চিকিৎসার জন্য লন্ডনে নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে বিএনপি।
আজ সকাল ১০টায় দলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে জানানো হয়, এয়ার অ্যাম্বুলেন্স আজ ঢাকায় নামতে পারছে না। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, যান্ত্রিক সমস্যার কারণে বিমানের সময়সূচি পরিবর্তন হয়েছে এবং শনিবার আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা যাত্রার উপযোগী হলে এবং মেডিকেল বোর্ড অনুমতি দিলে ৭ ডিসেম্বর লন্ডনে নেওয়া হবে।
এদিকে গুরুতর অসুস্থ খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে দেশজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার আলোচনা গত কয়েক দিন ধরেই চলছিল। ১৩ দিন ধরে তিনি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি আছেন। ফুসফুসে সংক্রমণ ও হৃদ্যন্ত্রের জটিলতার জন্য তাঁর চিকিৎসা চলছে বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে।
আজ সকালে খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নেওয়ার প্রস্তুতিতে সহায়তা করতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমান ঢাকায় পৌঁছান। সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে তাঁর বিমান হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামে। পরে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়ে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন। তাঁর আগমনকে কেন্দ্র করে হাসপাতালে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান এবং মহিলা দলের নেতারাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা তখন হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় বিএনপির উদ্যোগে আজ দেশের সব মসজিদে জুমার নামাজের পর বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়। একই সঙ্গে সব ধর্মীয় উপাসনালয়ে তাঁর রোগমুক্তির জন্য প্রার্থনার আহ্বান জানিয়েছে দলটি। অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকেও আজ বাদ জুমা সারাদেশে দোয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
গত জানুয়ারিতে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে গিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। চার মাস চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরে তিনি বাসা ও হাসপাতালে পর্যায়ক্রমে সেবা নিচ্ছিলেন। বর্তমান শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় আবারও বিদেশে পাঠানোর উদ্যোগ চলছে।













