তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে নতুন প্রশ্ন, ট্রাভেল পাস–পাসপোর্ট ইস্যুতে ধোঁয়াশা
তারেক রহমান। ফাইল ছবি
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরাকে ঘিরে অনিশ্চয়তা বাড়তে থাকা সময়েই নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, তিনি এখনো ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করেননি। তবে কমিশন অনুমতি দিলে তার ভোটার হওয়া এবং প্রার্থী হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
এদিকে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন রবিবার বলেছেন, তারেক রহমান চাইলে একদিনেই ট্রাভেল পাস দেওয়া সম্ভব। তার এই মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে, কারণ সাধারণত পাসপোর্ট না থাকলেই নাগরিকদের দেশে ফেরার জন্য ট্রাভেল পাস প্রদান করা হয়। এতে প্রশ্ন উঠেছে—তারেক রহমানের কাছে কি বর্তমানে বাংলাদেশি পাসপোর্ট নেই, কিংবা তিনি এখনো তা গ্রহণ করেননি?
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এ বিষয়ে বলেন, উপদেষ্টা সদিচ্ছার জায়গা থেকে মন্তব্য করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাস—কোনো দিক থেকেই সমস্যার সৃষ্টি হবে না, কারণ সরকারের পক্ষেও সহযোগিতার মনোভাব রয়েছে। তবে তারেক রহমান পাসপোর্ট নিয়েছেন কি না—এ ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না বলে মন্তব্য করেন।
শনিবার তারেক রহমান ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিতে ‘একক নিয়ন্ত্রণের অভাব’ থাকার ইঙ্গিত দিলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। এর পরপরই পররাষ্ট্র উপদেষ্টার ট্রাভেল পাস মন্তব্য আরও প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।
কূটনীতিকদের একটি অনুষ্ঠানে উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেন, পাসপোর্ট না থাকলে বা মেয়াদোত্তীর্ণ হলে দেশে ফেরার জন্য একবারের ট্রাভেল পাস দেওয়া হয়। তিনি জানান, চাইলে খুব দ্রুতই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব, এবং সরকারের পক্ষ থেকে দেশে ফেরায় কোনো বাধা নেই।
এদিকে সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির জানান, ট্রাভেল পাস কেবলমাত্র দেশে ফেরার জন্য ব্যবহৃত একটি অস্থায়ী নথি, যা পাসপোর্ট না থাকলেই প্রদান করা হয়। তার বক্তব্য থেকেও অনুমান করা যাচ্ছে—তারেক রহমানের বর্তমানে বৈধ বাংলাদেশি পাসপোর্ট নেই বা তা ব্যবহারের উপযোগী নয়।
অন্যদিকে সোমবার আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছেন, তারেক রহমানের দেশে ফেরায় আইনগত কোনো বাধা নেই। প্রয়োজনে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব সহযোগিতা করা হবে।
আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির ঘোষিত প্রার্থী তালিকায় তারেক রহমানের নাম আছে। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের সচিব জানিয়েছেন, তিনি এখনো ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত নন। কমিশন চাইলে দেশে ফিরে তাকে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব। প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে নির্দিষ্ট নথিপত্র প্রয়োজন হয়, যার মধ্যে পাসপোর্ট বা নাগরিকত্ব সংক্রান্ত কাগজও আছে।
২০০৮ সাল থেকে লন্ডনে থাকা তারেক রহমানের বর্তমানে বাংলাদেশি পাসপোর্ট আছে কি না—তা স্পষ্ট নয়। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার দাবি করেছিল, তিনি নাকি নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন, যদিও বিএনপি তা অস্বীকার করে।
সব মিলিয়ে, তারেক রহমানের দেশে ফেরা এবং পাসপোর্ট–ট্রাভেল পাস ইস্যু ঘিরে একধরনের অস্বচ্ছতা তৈরি হয়েছে। তবে তিনি দেশে ফিরলে পরিচয়পত্র গ্রহণ, ভোটার নিবন্ধন এবং পাসপোর্টের জন্য আবেদন করা তার জন্য সম্ভব বলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা মনে করছেন।













