শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

বহু আলোচিত আর আতঙ্ক সৃষ্টির ১৩ নভেম্বর আজ: দেশজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা

▪️ সারা দেশে অস্থিরতা: তিন দিনে ২০ অগ্নিসংযোগ। আজ শেখ হাসিনার রায়কে কেন্দ্র করে হাই অ্যালার্ট, রাজধানী ঘিরে কড়া নিরাপত্তা বলয়।

প্রবাহ বাংলা প্রতিবেদন প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর, ২০২৫, ৪:১৯ এম
বহু আলোচিত আর আতঙ্ক সৃষ্টির ১৩ নভেম্বর আজ: দেশজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা

রাজধানী ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন এলাকায় টানা তিন দিনে সহিংসতার ঘটনা বেড়েছে। মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে বুধবার রাত ১২টা পর্যন্ত অন্তত ২০টি চোরাগোপ্তা হামলার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে একটি ব্যাংক, ১০টি বাস, একটি ট্রেন ও একটি অটোরিকশায় আগুন দেওয়া হয়। এছাড়া পাঁচ স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ ও দুই জায়গায় পেট্রোল বোমা হামলার ঘটনাও ঘটেছে।

ঢাকায় টানা অগ্নিসংযোগ

রাজধানীর মিরপুর, দোলাইরপাড়, রমনা, তেজগাঁও ও ফার্মগেটসহ পাঁচটি এলাকায় বাসে আগুন দেওয়া হয়। মঙ্গলবার গভীর রাতে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রবেশপথে ককটেল বিস্ফোরণে আহত হন এক আনসার সদস্য।

বুধবার রাতে তেজগাঁও রেলস্টেশনের পরিত্যক্ত একটি ট্রেনে আগুন দেওয়া হয়। স্থানীয়দের সহায়তায় তাৎক্ষণিকভাবে আগুন নেভানো হলেও দুটি বগি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে রাত ৯টার দিকে দুটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়, এতে একজন পথচারী আহত হন এবং একটি মোটরসাইকেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্যাংকে অগ্নিসংযোগ

বিজয়নগরে গ্রামীণ ব্যাংকের একটি শাখায় দুর্বৃত্তরা পেট্রোল ঢেলে আগুন দেয়। ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ নথি ও আসবাবপত্র পুড়ে যায়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি পরিকল্পিত নাশকতার অংশ হতে পারে।

ড. ইউনূসের প্রতিষ্ঠানে হামলা

গাজীপুরের কালীগঞ্জে গ্রামীণ টেলিকম ট্রাস্টের নিসর্গ রিসোর্টে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করা হয়। সৌভাগ্যক্রমে বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি। পুলিশ বলছে, রিসোর্টে ফেলা বোতলগুলোতে কেরোসিন জাতীয় তরল পদার্থ ছিল।

বিভিন্ন জেলায় হামলা-বিস্ফোরণ

নারায়ণগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, সাভার ও গাজীপুরে একাধিক স্থানে বাসে আগুন ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। গাজীপুরে পাঁচ ঘণ্টার ব্যবধানে তিনটি বাস পুড়ে যায়। আশুলিয়ায় পার্ক করা একটি বাসে আগুন দিলে ভেতরে থাকা চালক আহত হন।

নারায়ণগঞ্জের জালকুড়িতে যাত্রীবেশে দুর্বৃত্তরা একটি অটোরিকশায় আগুন দেয়।

ঢাবিতে নিরাপত্তাকর্মী বরখাস্ত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি ভবনের ফটকে তালা ঝোলানোর ঘটনায় পাঁচ নিরাপত্তাকর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের নেতাকর্মীরা ঘটনাটির সঙ্গে জড়িত।

বোমা উদ্ধার অভিযান

র‌্যাব-২ মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার থেকে ছয়টি পেট্রোল বোমা ও চারটি ককটেল উদ্ধার করেছে। ধানমন্ডি ও আগারগাঁও থেকেও বিস্ফোরকসদৃশ বস্তু উদ্ধার হয়।

বর্ধিত নিরাপত্তা ও গ্রেপ্তার অভিযান

আওয়ামী লীগের আজকের ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচি ঘিরে জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রাজধানীসহ সারা দেশে কড়া নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পুলিশ ৮৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, সিলেট ও নোয়াখালীতে অভিযান চালিয়ে আরও শতাধিক ব্যক্তি আটক হন।

হাই অ্যালার্টে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

আজ বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী মামলার রায় ঘোষণা হবে। এ নিয়ে সারাদেশে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

পুলিশ সদর দপ্তর থেকে সকল রেঞ্জ ও মেট্রোপলিটন ইউনিটকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আইজিপি বাহারুল আলম জানিয়েছেন, র‌্যাব, পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যৌথভাবে নিরাপত্তা তদারক করছে।

তিনি বলেন, “নাশকতা ঠেকাতে প্রতিটি প্রবেশপথে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। গ্রামীণ ব্যাংকসহ সংবেদনশীল স্থাপনায় বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা।”

রাজধানী ঘিরে কড়া নজরদারি

ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, বিমানবন্দর, সচিবালয়, আদালত এলাকা, প্রধান বিচারপতির বাসভবন, কাকরাইল চার্চ, হাইকোর্ট, পুলিশ সদর দপ্তর, রাজারবাগ, মৎস্যভবন, বঙ্গভবনসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে।

ডিএমপি কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলী জানিয়েছেন, “আমরা পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিয়েছি। কেউ নাশকতার চেষ্টা করলে সঙ্গে সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হবে।”

 

মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২০ পিএম
মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে শোষণ ও অনিয়ম ঠেকাতে নতুন একটি কার্যকর ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া ও নেপাল। এ ব্যবস্থায় শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও জবাবদিহিমূলক করার পাশাপাশি শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত খরচের বোঝা চাপানো এবং অসাধু মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আর. রামানান এ তথ্য জানিয়েছেন। নেপালের যুব, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী রামজি যাদবের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ঐকমত্য হয়। আলোচনায় শ্রম ও কর্মসংস্থান খাতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ও উঠে আসে।

বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক পোস্টে রামানান বলেন, মালয়েশিয়া ও নেপাল উভয় দেশই অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে আরও সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছে। একই সঙ্গে এমন সব চর্চা বন্ধ করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেগুলো শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা চাপায় কিংবা তাদের শোষণ ও প্রতারণার ঝুঁকিতে ফেলে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, বিদেশি শ্রমিক ব্যবস্থাপনায় মালয়েশিয়া সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও শ্রমিক সুরক্ষার নীতিতে অটল থাকবে। একই সঙ্গে দেশের শিল্প ও শ্রমবাজারের প্রকৃত চাহিদাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

রামানানের ভাষায়, নীতিটি পরিষ্কার ব্যবস্থাকে অবশ্যই শ্রমিকদের সুরক্ষা দিতে হবে, নিয়োগকর্তাদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে এবং একই সঙ্গে শোষণ ও নির্যাতনের কোনো সুযোগ রাখা যাবে না।
তিনি বলেন, ১৯৬০ সাল থেকে মালয়েশিয়া ও নেপালের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। দুই দেশ শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে যথাযথ দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ ও আলোচনার ধারা অব্যাহত রাখবে।

এদিকে গত মাসে নেপালে ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় নেপাল সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী।
রামানান বলেন, ওই দুর্যোগের পর এখনো ৫৫ জন মালয়েশীয় নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাদের বিষয়ে মাদানি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে নজর রাখছে এবং তাদের ভাগ্য সম্পর্কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও সংশ্লিষ্ট দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৪৫০ ছাড়িয়েছে। নেপাল ও চীন মিলিয়ে এখনো ৬ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৯ এম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯ জনে। এর মধ্যে আগস্ট মাসে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৩ দিনে মারা গেছেন ১১২ জন। এছাড়া জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বুলেটিনে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৭৮২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৪৯ জনে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ৭৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৩ হাজার ৮৭৪ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৭১৬ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৮ জন, খুলনায় ২৮৬ জন, বরিশালে ১৬৪ জন, রাজশাহীতে ১৩০ জন, ময়মনসিংহে ১০৮ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ এম
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত বন্ধে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে ফিলিস্তিনসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, “স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে।”

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, “আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায় তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।”

যুদ্ধ-সংঘাতে বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট

ভাষণে বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের প্রভাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে একের পর এক মানবিক সংকট।

যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিও তীব্র চাপের মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

সংঘাতের সমাধান আলোচনায়, কূটনীতিতে

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের সমাধানে সামরিক শক্তির পরিবর্তে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে হওয়া উচিত।

বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের প্রত্যাশা এমন একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয়; বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা।”

জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে সমঝোতামূলক বিশ্ব

একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জাতিসংঘকে দেখতে চায় বাংলাদেশ—ভাষণে এমন প্রত্যাশার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিশ্বের এক প্রান্তের সংঘাত ও সংকট অন্য প্রান্তের দেশগুলোকেও প্রভাবিত করে। এ বাস্তবতায় পারস্পরিক সহযোগিতা, কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

উন্নয়নের অর্থ সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ সামরিক ব্যয়ে স্থানান্তরের প্রবণতাকে বিশ্বশান্তির পথে অন্যতম বাধা হিসেবে তুলে ধরেন তারেক রহমান।

শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের ভূমিকার বার্তা

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথাও ভাষণে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা মানবতার সেবায় কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে।

ভাষণের শেষদিকে বিশ্ব মানবতা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের যেকোনো উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।

আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান, কূটনীতি ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক