শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

বৈধপথে ইউরোপে আসতে চান?জেনে নিন কিছু বাস্তবসম্মত পরামর্শ

অভিবাসন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৫, ৫:২২ পিএম
বৈধপথে ইউরোপে আসতে চান?জেনে নিন কিছু বাস্তবসম্মত পরামর্শ

ইউরোপে বৈধভাবে বসবাস বা কাজ করার সুযোগ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি বৈচিত্র্যময় ও বাস্তবসম্মত। প্রধান পথগুলোর মধ্যে রয়েছে ভ্রমণ বা শর্ট-স্টে ভিসা (শেঙ্গেন), শিক্ষার্থী ভিসা, চাকরি-ভিত্তিক ভিসা (জাতীয় কর্মভিসা ও ইইউ ব্লু-কার্ড), ডিজিটাল-নোমাড বা টেলিওয়ার্ক ভিসা, বিনিয়োগ বা রেসিডেন্সি-বাই-ইনভেস্টমেন্ট (গোল্ডেন ভিসা) এবং পারিবারিক পুনর্মেলন। প্রতিটি পথের নিজস্ব যোগ্যতা, খরচ ও সময়সীমা আছে। বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য সবচেয়ে বাস্তবসম্মত বিকল্পগুলোর মধ্যে বর্তমানে ডিজিটাল-নোমাড ভিসা, উচ্চযোগ্যতাসম্পন্ন পেশার জন্য জার্মানির ইইউ ব্লু-কার্ড এবং উচ্চশিক্ষা-ভিত্তিক ভিসা সবচেয়ে কার্যকর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যদিও বিনিয়োগ-ভিত্তিক রুট সাধারণ মানুষের জন্য ব্যয়বহুল, তবুও এটি এখনও কার্যকর একটি বৈধ পথ।

ডিজিটাল-নোমাড ভিসা বর্তমানে ইউরোপে সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল সুযোগগুলোর একটি। স্পেন, পর্তুগাল, গ্রিস, ইস্টোনিয়া, ক্রোয়েশিয়া ও ইতালির মতো দেশগুলো দূরবর্তী কর্মীদের জন্য আলাদা রেসিডেন্সি পারমিট চালু করেছে। এই ভিসা পেতে সাধারণত নির্দিষ্ট মাসিক আয়ের প্রমাণ, বিদেশি চাকরির চুক্তি বা ফ্রিল্যান্স আয়ের হিসাব, ক্লিন ক্রিমিনাল রেকর্ড এবং স্বাস্থ্যবীমার প্রমাণ দেখাতে হয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, স্পেনে ২০২৫ সালের জন্য ডিজিটাল-নোমাড ভিসার ন্যূনতম মাসিক আয় প্রমাণের শর্ত ধরা হয়েছে প্রায় ২,৭০০ থেকে ২,৭৬০ ইউরো। এই রুট তুলনামূলকভাবে কম খরচে রেসিডেন্সির সুযোগ দেয় এবং আবেদনকারী স্থানীয়ভাবে থেকে আন্তর্জাতিক কাজ চালিয়ে যেতে পারেন। তবে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে গেলে অতিরিক্ত আয়ের প্রমাণ দিতে হয়।

চাকরি-ভিত্তিক ভিসা বা ইইউ ব্লু-কার্ড মূলত উচ্চশিক্ষিত ও দক্ষ পেশাজীবীদের জন্য তৈরি একটি সুযোগ। জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, আয়ারল্যান্ডসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসন ব্যবস্থা চালু করেছে। ইইউ ব্লু-কার্ড পেতে হলে বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি, সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের চাকরির প্রস্তাব এবং নির্দিষ্ট পরিমাণ বেতনের নিশ্চয়তা থাকতে হয়। জার্মানিতে ২০২৫ সালের জন্য বার্ষিক ন্যূনতম মোট বেতনসীমা নির্ধারিত হয়েছে প্রায় ৪৮,৩০০ ইউরো। এই ভিসা পাওয়ার পর ধারাবাহিকভাবে কয়েক বছর কাজ করলে স্থায়ী বসবাসের অনুমতিও পাওয়া যায়। আবেদন প্রক্রিয়ায় নিয়োগকর্তার সহায়তা পাওয়া গেলে অনুমোদন দ্রুত হয়। দক্ষতা, পেশাগত অভিজ্ঞতা ও স্থানীয় ভাষা জানার যোগ্যতা এই পথে সফলতার সম্ভাবনা বাড়ায়।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

উচ্চশিক্ষা-ভিত্তিক ভিসা ইউরোপে স্থায়ীভাবে বসবাসের অন্যতম সহজ ও জনপ্রিয় পথ। জার্মানি, ফিনল্যান্ড, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স ও অন্যান্য ইউরোপীয় দেশে মাস্টার্স বা পিএইচডি করতে গেলে শিক্ষার্থী ভিসা পাওয়া যায়, যা পরবর্তীতে কাজের অনুমতিতে রূপান্তরিত হতে পারে। অধিকাংশ দেশ পড়াশোনা শেষে ১ থেকে ২ বছরের পোস্ট-স্টাডি ওয়ার্ক পারমিট দেয়, যা স্থায়ী রেসিডেন্সির সুযোগ তৈরি করে। সরকারি ও বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক বিভিন্ন স্কলারশিপ প্রোগ্রাম বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য ভালো সুযোগ তৈরি করছে।

বিনিয়োগ বা গোল্ডেন ভিসা তুলনামূলকভাবে দ্রুত রেসিডেন্সি দেয়, তবে এটি মূলত ধনী বিনিয়োগকারীদের জন্য। কোনো দেশে নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পত্তি কিনে বা বিনিয়োগ প্রকল্পে অর্থ প্রদান করলে দীর্ঘমেয়াদি রেসিডেন্সি অনুমতি মেলে। উদাহরণ হিসেবে, পর্তুগালের গোল্ডেন-ভিসা প্রোগ্রামে ২০২৪–২৫ সালে কিছু নতুন শর্ত যোগ হয়েছে, যাতে স্থানীয় আবাসনবাজারে চাপ কমানো যায়। এই রুটে সময়, আইনগত কাগজপত্র ও শুল্কের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি।

পারিবারিক পুনর্মেলন ভিসা মূলত তাদের জন্য, যাদের পরিবারের কেউ ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা শেঙ্গেনভুক্ত দেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করছে। স্বামী-স্ত্রী, অবিবাহিত সন্তান বা বাবা-মায়ের জন্য এই ভিসা পাওয়া যায়, তবে বৈধ সম্পর্কের প্রমাণ, বাসস্থান ও আয়-সক্ষমতার প্রমাণ দেখাতে হয়। অনেকেই অস্থায়ী কাজের অনুমতি, স্থানীয় স্পন্সরশিপ বা স্টার্ট-আপ ভিসার মাধ্যমে ইউরোপে রেসিডেন্সি অর্জন করেন। প্রতিটি দেশের নিয়ম আলাদা হওয়ায় কনস্যুলেট বা ইমিগ্রেশন অফিসের ওয়েবসাইট থেকে আপডেট জেনে আবেদন করা জরুরি।

সফলভাবে ইউরোপে বৈধভাবে যাওয়ার সম্ভাবনা বাড়াতে প্রথমে নিজের লক্ষ্য স্পষ্ট করতে হবে—শিক্ষা, কাজ, বিনিয়োগ না স্থায়ী বসবাস, কোন উদ্দেশ্যে যাচ্ছেন তা নির্ধারণ করা জরুরি। এরপর নির্বাচিত দেশের অফিসিয়াল নির্দেশিকা পড়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করতে হবে। ভাষাজ্ঞান ও পেশাগত যোগ্যতা বাড়ালে অনেক দেশে সুযোগ বেড়ে যায়। আবেদন প্রক্রিয়ায় কোনো দালাল বা অবৈধ চ্যানেল ব্যবহার না করে অফিসিয়াল কনস্যুলেট বা লাইসেন্সপ্রাপ্ত এজেন্টের সহায়তা নেওয়াই নিরাপদ।

সতর্ক থাকতে হবে অনিয়মিত অভিবাসন, মানবপাচার বা জাল তথ্য ব্যবহারের মতো ঝুঁকির ব্যাপারে। এতে ভিসা বাতিল, নিষেধাজ্ঞা এমনকি আইনি জটিলতায়ও পড়তে হয়। আশ্রয় বা শরণার্থী আবেদন করতে চাইলে আন্তর্জাতিক সংস্থা বা অনুমোদিত আইনজীবীর মাধ্যমে বৈধভাবে আবেদন করাই শ্রেয়।

সংক্ষেপে বলা যায়, ইউরোপে বৈধভাবে বসবাস বা কাজের জন্য বর্তমান সময়ে সবচেয়ে কার্যকর ও বাস্তব পথ হলো ডিজিটাল-নোমাড ভিসা, শিক্ষার্থী ভিসা এবং ইইউ ব্লু-কার্ড বা চাকরি-ভিত্তিক রেসিডেন্সি। বিনিয়োগভিত্তিক রুট সামর্থ্যবানদের জন্য দ্রুত হলেও খরচসাপেক্ষ। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রেই সঠিক পরিকল্পনা, দক্ষতা ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করলেই ইউরোপে বৈধভাবে স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ নিতে পারে।

মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২০ পিএম
মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে শোষণ ও অনিয়ম ঠেকাতে নতুন একটি কার্যকর ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া ও নেপাল। এ ব্যবস্থায় শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও জবাবদিহিমূলক করার পাশাপাশি শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত খরচের বোঝা চাপানো এবং অসাধু মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আর. রামানান এ তথ্য জানিয়েছেন। নেপালের যুব, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী রামজি যাদবের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ঐকমত্য হয়। আলোচনায় শ্রম ও কর্মসংস্থান খাতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ও উঠে আসে।

বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক পোস্টে রামানান বলেন, মালয়েশিয়া ও নেপাল উভয় দেশই অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে আরও সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছে। একই সঙ্গে এমন সব চর্চা বন্ধ করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেগুলো শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা চাপায় কিংবা তাদের শোষণ ও প্রতারণার ঝুঁকিতে ফেলে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, বিদেশি শ্রমিক ব্যবস্থাপনায় মালয়েশিয়া সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও শ্রমিক সুরক্ষার নীতিতে অটল থাকবে। একই সঙ্গে দেশের শিল্প ও শ্রমবাজারের প্রকৃত চাহিদাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

রামানানের ভাষায়, নীতিটি পরিষ্কার ব্যবস্থাকে অবশ্যই শ্রমিকদের সুরক্ষা দিতে হবে, নিয়োগকর্তাদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে এবং একই সঙ্গে শোষণ ও নির্যাতনের কোনো সুযোগ রাখা যাবে না।
তিনি বলেন, ১৯৬০ সাল থেকে মালয়েশিয়া ও নেপালের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। দুই দেশ শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে যথাযথ দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ ও আলোচনার ধারা অব্যাহত রাখবে।

এদিকে গত মাসে নেপালে ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় নেপাল সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী।
রামানান বলেন, ওই দুর্যোগের পর এখনো ৫৫ জন মালয়েশীয় নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাদের বিষয়ে মাদানি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে নজর রাখছে এবং তাদের ভাগ্য সম্পর্কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও সংশ্লিষ্ট দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৪৫০ ছাড়িয়েছে। নেপাল ও চীন মিলিয়ে এখনো ৬ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৯ এম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯ জনে। এর মধ্যে আগস্ট মাসে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৩ দিনে মারা গেছেন ১১২ জন। এছাড়া জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বুলেটিনে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৭৮২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৪৯ জনে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ৭৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৩ হাজার ৮৭৪ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৭১৬ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৮ জন, খুলনায় ২৮৬ জন, বরিশালে ১৬৪ জন, রাজশাহীতে ১৩০ জন, ময়মনসিংহে ১০৮ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ এম
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত বন্ধে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে ফিলিস্তিনসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, “স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে।”

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, “আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায় তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।”

যুদ্ধ-সংঘাতে বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট

ভাষণে বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের প্রভাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে একের পর এক মানবিক সংকট।

যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিও তীব্র চাপের মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

সংঘাতের সমাধান আলোচনায়, কূটনীতিতে

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের সমাধানে সামরিক শক্তির পরিবর্তে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে হওয়া উচিত।

বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের প্রত্যাশা এমন একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয়; বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা।”

জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে সমঝোতামূলক বিশ্ব

একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জাতিসংঘকে দেখতে চায় বাংলাদেশ—ভাষণে এমন প্রত্যাশার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিশ্বের এক প্রান্তের সংঘাত ও সংকট অন্য প্রান্তের দেশগুলোকেও প্রভাবিত করে। এ বাস্তবতায় পারস্পরিক সহযোগিতা, কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

উন্নয়নের অর্থ সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ সামরিক ব্যয়ে স্থানান্তরের প্রবণতাকে বিশ্বশান্তির পথে অন্যতম বাধা হিসেবে তুলে ধরেন তারেক রহমান।

শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের ভূমিকার বার্তা

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথাও ভাষণে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা মানবতার সেবায় কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে।

ভাষণের শেষদিকে বিশ্ব মানবতা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের যেকোনো উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।

আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান, কূটনীতি ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক