‘কোনো পরনারীর সঙ্গে আমার হারাম সম্পর্ক নেই’ –স্ত্রী’র অভিযোগ অস্বীকার করলেন আবু ত্বহা
স্ত্রী সাবিকুন্নাহারের অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে অস্বীকার করেছেন আলোচিত ইসলামী বক্তা আবু ত্বহা মোহাম্মদ আদনান। সোমবার (১৪ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি দাবি করেন, কোনো পরনারীর সঙ্গে তার কোনো অনৈতিক বা হারাম সম্পর্ক নেই।
“আমি ব্যভিচারী নই”
নিজের বক্তব্যে আবু ত্বহা বলেন,“কাবার রবের শপথ! আমি ব্যভিচারী নই। মুহাম্মাদের রবের কসম! আমি কোনো পরনারীর সঙ্গে হারাম সম্পর্কে জড়িত নই। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, সবই মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
তিনি আরও বলেন,“স্বামী-স্ত্রী একে অপরের জন্য ভালোবাসার পবিত্র পোশাক। আমি সবসময় সেই দায়িত্বই পালন করেছি। ভবিষ্যতে যদি আমি সেই পোশাক না থাকি, তবুও যাকে একদিন আমার দায়িত্বে রেখেছিলাম, তার সম্পর্কে কোনো বাজে মন্তব্য করব না।”
‘আল্লাহর বিচারে আস্থা রাখছি’
আবু ত্বহা জানান, তিনি চাইলে অপবাদগুলোর প্রতিটি বিষয়ের উত্তর দিতে পারেন, কিন্তু তা করার কোনো কল্যাণ দেখছেন না।“আমি সব প্রমাণসহ প্রতিটি অভিযোগের জবাব দিতে পারি, কিন্তু সমাজে এতে কোনো সুফল নেই। আমি চাই, আল্লাহ নিজেই ন্যায়বিচার করুন। কারণ ক্ষমা ও শাস্তি দুটোই তাঁর হাতে।”
স্ত্রীর প্রতি ইঙ্গিত করে আবু ত্বহা বলেন—
“আমার একমাত্র ভুল ছিল, ভুল জায়গায় অতিরিক্ত ভালোবাসা দেখানো। আমি উভয় পরিবারের মধ্যে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছি, ক্ষমার পর ক্ষমা করেছি, সবর করেছি। কিন্তু অতীত টেনে বর্তমান সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করা উচিত হয়নি।”
‘শরিয়াসম্মতভাবে সমাধানের পথে’
আলোচিত এই বক্তা জানান, বিষয়টি এখন শরিয়াহ ও আইন অনুযায়ী সমাধানের পথে রয়েছে।
“আমি দেশের বরেণ্য আলেমদের উপস্থিতিতে শরিয়াসম্মত ও আইনি প্রক্রিয়ায় বিষয়টি নিষ্পত্তির দিকে যাচ্ছি। যারা আমাকে অপবাদ দিয়েছে, তাদের ব্যাপারে এক আল্লাহই যথেষ্ট হবেন, ইনশাআল্লাহ।”
সন্তানদের প্রসঙ্গে আবেগঘন বার্তা
পোস্টে তিনি দুই সন্তানের প্রতি ভালোবাসার কথাও উল্লেখ করেন।
“আমার দুটি সন্তান— আইশাহ ও উসমান— আমার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। দোয়া করবেন, তারা যেন বাবার স্নেহ থেকে বঞ্চিত না হয়। তাদের মুখের দিকে তাকিয়েই আমি বছরের পর বছর সবর করেছি।”
শেষ বার্তায় বলেন— ‘আমি মিথ্যা তহমত থেকে মুক্ত’
“আমি নবী ইউসুফ বা মা আয়েশা নই, কিন্তু আমার ওপর যে ব্যভিচারের অভিযোগ আনা হয়েছে, তার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। আল্লাহ যেন জালেম ও মজলুমের মাঝে ন্যায়বিচার করেন— এটাই আমার দোয়া।”













