৫ বছর ধরে ঘর থেকে বের হন না মা ও দুই ছেলে!
রাজধানীর বনশ্রীর মেরাদেয়া এলাকায় এক অদ্ভুত ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় পাঁচ বছর ধরে এক পরিবার ঘরে আবদ্ধ জীবনযাপন করছে। মা ও দুই ছেলে মাসের পর মাস ঘরের বাইরে যান না — এ খবর এখন পুরো এলাকাজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০১৮ সাল থেকে ওই পরিবারের কর্তা মনিরুল তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে ভবনের তৃতীয় তলায় ভাড়া থাকছেন। তবে করোনার সময় থেকেই স্ত্রী ও সন্তানদের আচরণে পরিবর্তন আসে। এরপর থেকেই তারা বাইরের জগতের সঙ্গে যোগাযোগ প্রায় বন্ধ করে দেন।
বাড়ির দারোয়ান জানান, “দুই থেকে তিন মাসে একবার মাত্র তাদের ঘর থেকে বের হতে দেখি। দুই ছেলের পড়াশোনাও বন্ধ হয়ে গেছে বহুদিন।”
বাড়িওয়ালা বলেন, “ভাড়া না দেওয়ায় নোটিশ দিয়েছিলাম, কিন্তু তারা ঘর ছাড়তে রাজি নয়। বাধ্য হয়ে পুলিশে অভিযোগ দিই।” পুলিশ ও সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গেলে মা ও দুই ছেলে দরজা খোলেননি। ভেতর থেকে শুধু কথাবার্তার শব্দ শোনা যায়।
ভেতর থেকে ওই নারী অভিযোগ করেন, “আমার স্বামী বাইরে গেলেই হত্যার আশঙ্কা থাকে।” তিনি স্বামীর বিরুদ্ধে পরকীয়া ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগও তোলেন।
এক ছেলে ভেতর থেকে বলেন, “আমি এখন স্টুডেন্ট, কিন্তু আমায় লেখাপড়া করতে দিচ্ছে না। আমাকে আটকে রাখছে।”
অন্যদিকে স্বামী মনিরুল এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “ওরা মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছে।” তিনি দরজা খোলার জন্য অনুরোধ করলেও তাতে কাজ হয়নি।
প্রতিবেশীরাও জানান, পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে অস্বাভাবিকভাবে বিচ্ছিন্ন জীবনযাপন করছে, যা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবারটি সম্ভবত সিজোফ্রেনিয়া বা ডিলিউশনাল ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত। এতে রোগীরা বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, কাছের মানুষদের সন্দেহ করে এবং ধীরে ধীরে সমাজ থেকে নিজেদের গুটিয়ে নেয়।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন—
👉 দ্রুত মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
👉 রোগীর প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ করতে হবে, জোরাজুরি নয়।











