শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

গাজায় ইসরায়েলি হামলা আরো তীব্র, একদিনে ৮০ জনের বেশি ফিলিস্তিনের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৫:১৪ পিএম
গাজায় ইসরায়েলি হামলা আরো তীব্র, একদিনে ৮০ জনের বেশি ফিলিস্তিনের মৃত্যু

ফাইরাস বাজারের কাছে নিহত ফিলিস্তিনিদের মরদেহ আল-আহলি হাসপাতালে আনা হয়েছে। ছবি- রয়াটার্স

গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি সেনাদের হামলায় বুধবার অন্তত ৮০ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের অধিকাংশই গাজা সিটির বাসিন্দা বলে জানিয়েছে স্থানীয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সেন্ট্রাল দারাজ এলাকার ফাইরাস মার্কেটের কাছে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুত পরিবারদের উপর রাতভর চালানো হামলায় একাই নিহত হন অন্তত ২০ জন, যাদের মধ্যে নারী ও শিশু ছিল।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তাদের লক্ষ্য ছিল হামাসের দুই যোদ্ধা এবং হতাহতের সংখ্যা তাদের তথ্যের সঙ্গে মেলে না। তবে এদিকে শহরের কেন্দ্রে ট্যাংক ও সৈন্য নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। তারা বলছে, অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো হামাসের হাতে থাকা জিম্মিদের মুক্ত করা এবং ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীর “চূড়ান্ত পরাজয়” নিশ্চিত করা।

গাজার সবচেয়ে বড় শহর থেকে এরই মধ্যে লাখ লাখ মানুষ নিরাপত্তার খোঁজে পালিয়েছে। জাতিসংঘের এক সংস্থা সম্প্রতি জানিয়েছে, এলাকায় দুর্ভিক্ষ ছড়িয়ে পড়েছে এবং যারা রয়ে গেছে তারা ভয়াবহ মানবিক সংকটে দিন কাটাচ্ছে। চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সেবাও প্রায় ভেঙে পড়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

হাসপাতালগুলো জানায়, বুধবার বিকেল পর্যন্ত মধ্যরাত থেকে চালানো হামলায় অন্তত ৬০টি মরদেহ তাদের কাছে আনা হয়েছে। হামাস-নিয়ন্ত্রিত সিভিল ডিফেন্স এজেন্সি জানায়, ফাইরাস মার্কেটের কাছে একটি ওয়্যারহাউসে চালানো বোমা হামলায় নিহতদের এক-তৃতীয়াংশ নারী ও শিশু।

তবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর সাংবাদিকদের গাজায় প্রবেশের অনুমতি না থাকায় এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই সম্ভব হয়নি। স্থানীয়দের সরবরাহ করা ভিডিও ফুটেজে ধ্বংসস্তূপ থেকে মরদেহ উদ্ধার করতে দেখা গেছে। আল আহলি হাসপাতালের বাইরে একাধিক মরদেহ সাদা কাফন ও প্লাস্টিকের ব্যাগে রাখা অবস্থায় শোক পালন করতে দেখা যায় স্বজনদের।

এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মোহাম্মদ হাজ্জাজ নামে এক ব্যক্তি জানান, রাতে মানুষ যখন ঘুমাচ্ছিল তখন বোমা বর্ষণ চালানো হয়। “আমরা এসে শিশু ও নারীদের ছিন্নভিন্ন দেহ দেখেছি। এটি এক ভয়াবহ দৃশ্য।” একইভাবে তালা আল-দীব নামের এক নারী জানান, নিহতদের মধ্যে তার বোনের স্বামী, দুই সন্তান ও শ্বশুরও রয়েছে।

ইসরায়েলি সেনারা জানিয়েছে, হাসপাতালের দিকে সরাসরি কোনো হামলা চালানো হয়নি। তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, দক্ষিণ-পশ্চিম তেল আল-হাওয়া ও উত্তর-পশ্চিম রিমাল এলাকায় ইসরায়েলি ট্যাংক দেখা গেছে। আল-কুদস হাসপাতালের অক্সিজেন স্টেশন গুলিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে অকেজো হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট।

ইসরায়েলি সেনাদের মতে, তাদের আকাশ থেকে তোলা ফুটেজে দেখা গেছে আল-শিফা হাসপাতাল কম্পাউন্ড থেকে হামাস যোদ্ধারা গুলি চালাচ্ছে। তবে হামাস দাবি করেছে, ওই গুলি কম্পাউন্ডের বাইরে থেকে চালানো হয়েছিল।

ইসরায়েলি চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জমির বুধবার গাজা সিটি সফরে জানান, তাদের সেনারা বিপুল পরিসরে অভিযান চালাচ্ছে জিম্মি মুক্তি এবং হামাসকে পরাজিত করার লক্ষ্যে। তিনি গাজার বাসিন্দাদের উদ্দেশে বলেন, “হামাস থেকে বিচ্ছিন্ন হন। তাদের জন্যই তোমরা দুর্ভোগে আছো।”

অন্যদিকে, হামাস সতর্ক করেছে যে, গাজা সিটিতে ইসরায়েলি অভিযান তীব্র হলে তাদের হাতে থাকা ৪৮ জন জিম্মির জীবন হুমকিতে পড়বে। এদের মধ্যে অন্তত ২০ জন জীবিত বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, গাজার দক্ষিণাঞ্চলে আশ্রয় নিতে গিয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ আবারও মানবিক সংকটে পড়েছে। শুধু মঙ্গলবার পর্যন্ত প্রায় ৩ লাখ ৪০ হাজার মানুষকে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। তবে “মানবিক এলাকা” হিসেবে মনোনীত আল-মাওয়াসি ইতিমধ্যেই জনাকীর্ণ ও অনিরাপদ হয়ে উঠেছে।

এক প্রত্যক্ষদর্শী থায়ের সাকর জানান, স্ত্রী, সন্তান ও বোনকে নিয়ে দক্ষিণে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। কিন্তু কোস্টাল রোডে ট্যাংকের গুলিতে তার বোন নিহত হন। এখন তারা আল-শিফা হাসপাতালে আশ্রয় নিয়েছেন।

জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় ইসরায়েলি বাহিনীর কৌশলের তীব্র সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করা এবং ঘরবাড়ি ধ্বংস করা স্থায়ীভাবে বাস্তুচ্যুতির পরিস্থিতি তৈরি করছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আকস্মিক হামলায় ইসরায়েলে প্রায় ১,২০০ জন নিহত এবং ২৫১ জন জিম্মি হওয়ার পর ইসরায়েল গাজায় বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছে অন্তত ৬৫ হাজার ৪১৯ জন।

মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২০ পিএম
মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে শোষণ ও অনিয়ম ঠেকাতে নতুন একটি কার্যকর ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া ও নেপাল। এ ব্যবস্থায় শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও জবাবদিহিমূলক করার পাশাপাশি শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত খরচের বোঝা চাপানো এবং অসাধু মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আর. রামানান এ তথ্য জানিয়েছেন। নেপালের যুব, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী রামজি যাদবের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ঐকমত্য হয়। আলোচনায় শ্রম ও কর্মসংস্থান খাতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ও উঠে আসে।

বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক পোস্টে রামানান বলেন, মালয়েশিয়া ও নেপাল উভয় দেশই অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে আরও সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছে। একই সঙ্গে এমন সব চর্চা বন্ধ করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেগুলো শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা চাপায় কিংবা তাদের শোষণ ও প্রতারণার ঝুঁকিতে ফেলে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, বিদেশি শ্রমিক ব্যবস্থাপনায় মালয়েশিয়া সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও শ্রমিক সুরক্ষার নীতিতে অটল থাকবে। একই সঙ্গে দেশের শিল্প ও শ্রমবাজারের প্রকৃত চাহিদাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

রামানানের ভাষায়, নীতিটি পরিষ্কার ব্যবস্থাকে অবশ্যই শ্রমিকদের সুরক্ষা দিতে হবে, নিয়োগকর্তাদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে এবং একই সঙ্গে শোষণ ও নির্যাতনের কোনো সুযোগ রাখা যাবে না।
তিনি বলেন, ১৯৬০ সাল থেকে মালয়েশিয়া ও নেপালের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। দুই দেশ শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে যথাযথ দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ ও আলোচনার ধারা অব্যাহত রাখবে।

এদিকে গত মাসে নেপালে ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় নেপাল সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী।
রামানান বলেন, ওই দুর্যোগের পর এখনো ৫৫ জন মালয়েশীয় নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাদের বিষয়ে মাদানি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে নজর রাখছে এবং তাদের ভাগ্য সম্পর্কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও সংশ্লিষ্ট দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৪৫০ ছাড়িয়েছে। নেপাল ও চীন মিলিয়ে এখনো ৬ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৯ এম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯ জনে। এর মধ্যে আগস্ট মাসে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৩ দিনে মারা গেছেন ১১২ জন। এছাড়া জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বুলেটিনে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৭৮২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৪৯ জনে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ৭৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৩ হাজার ৮৭৪ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৭১৬ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৮ জন, খুলনায় ২৮৬ জন, বরিশালে ১৬৪ জন, রাজশাহীতে ১৩০ জন, ময়মনসিংহে ১০৮ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ এম
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত বন্ধে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে ফিলিস্তিনসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, “স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে।”

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, “আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায় তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।”

যুদ্ধ-সংঘাতে বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট

ভাষণে বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের প্রভাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে একের পর এক মানবিক সংকট।

যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিও তীব্র চাপের মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

সংঘাতের সমাধান আলোচনায়, কূটনীতিতে

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের সমাধানে সামরিক শক্তির পরিবর্তে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে হওয়া উচিত।

বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের প্রত্যাশা এমন একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয়; বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা।”

জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে সমঝোতামূলক বিশ্ব

একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জাতিসংঘকে দেখতে চায় বাংলাদেশ—ভাষণে এমন প্রত্যাশার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিশ্বের এক প্রান্তের সংঘাত ও সংকট অন্য প্রান্তের দেশগুলোকেও প্রভাবিত করে। এ বাস্তবতায় পারস্পরিক সহযোগিতা, কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

উন্নয়নের অর্থ সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ সামরিক ব্যয়ে স্থানান্তরের প্রবণতাকে বিশ্বশান্তির পথে অন্যতম বাধা হিসেবে তুলে ধরেন তারেক রহমান।

শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের ভূমিকার বার্তা

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথাও ভাষণে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা মানবতার সেবায় কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে।

ভাষণের শেষদিকে বিশ্ব মানবতা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের যেকোনো উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।

আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান, কূটনীতি ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক