বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

জাপানের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যাহ্নভোজে তারেক রহমান

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪৮ পিএম
জাপানের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যাহ্নভোজে তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্মানে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজে অংশ নিয়েছেন তিনি। এ সময় তাঁর স্ত্রী জুবাইদা রহমানও উপস্থিত ছিলেন।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) স্থানীয় সময় দুপুরে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কান্তেইতে এ মধ্যাহ্নভোজ অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক ও যৌথ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফরে বর্তমানে জাপানে রয়েছেন তারেক রহমান। মঙ্গলবার দুই দেশের নির্ধারিত শীর্ষ বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন দুই প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়েও তাঁরা মতবিনিময় করেন।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

এর আগে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কান্তেইতে তারেক রহমানকে স্বাগত জানান সানায়ে তাকাইচি। এ সময় জাপানের সশস্ত্র বাহিনীর একটি দল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার দেয়। দুই দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়।

পরে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী নিজ নিজ প্রতিনিধিদলের সদস্যদের পরিচয় করিয়ে দেন। এরপর তাঁরা দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে বসেন।

সোমবার সকালে টোকিও পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান জাপানের পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইয়াসুতাকা নাকাসোনে।

সফরকালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরামে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন। পাশাপাশি জাপানের ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করার কর্মসূচিও রয়েছে তাঁর।

সফরের প্রথম দিন তারেক রহমান জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসোর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের সংসদীয় প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ ছাড়া মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকি এবং জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকার সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করেন তিনি।

আপডেট

স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪, আহত দুই শতাধিক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২৪ পিএম
স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪, আহত দুই শতাধিক

স্পেনের তোলেদো প্রদেশের উর্দা এলাকায় দুটি উচ্চগতির যাত্রীবাহী ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ৬৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১৭৯ জনের বেশি। বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুর ১টা ৫৮ মিনিটে প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, হতাহতের এ সংখ্যা জানিয়েছে কাস্তিয়া-লা মাঞ্চার নাগরিক সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ। দুর্ঘটনার পর মাদ্রিদ থেকে আন্দালুসিয়াগামী উচ্চগতির রেল চলাচল দুই দিকেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। উদ্ধারকাজ চললেও দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

কীভাবে আধুনিক সংকেত ও নিরাপত্তাব্যবস্থার আওতায় পরিচালিত দুটি ট্রেন একই লাইনে সংঘর্ষে জড়াল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

সকাল ৮টা ৫৪ মিনিটে ভয়াবহ সংঘর্ষ

দুর্ঘটনাটি ঘটে বুধবার সকাল ৮টা ৫৪ মিনিটে। মাদ্রিদের আতচা স্টেশন থেকে সেভিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া রেনফের এভিই ২০৮০ নম্বর ট্রেনটি সামনে থাকা ইরিও ৬০৭৬ নম্বর ট্রেনের সঙ্গে ধাক্কা খায়। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষে ইরিওর পেছনের দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়। এতে একাধিক বগি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ট্রেনের যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

রেনফের ট্রেনটির নির্ধারিত গন্তব্য ছিল সেভিয়া। অন্যদিকে, ইরিওর ট্রেনটির যাত্রাপথে সিউদাদ রিয়াল, পুয়ের্তোয়ানো ও কর্দোবা স্টেশনে থামার কথা ছিল। দুর্ঘটনার সময় দুটি ট্রেনের অবস্থান, চলাচলের নির্দেশনা এবং সংঘর্ষের আগের মুহূর্তগুলো এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪, আহত ১৭৯-এর বেশি

দুর্ঘটনার পর প্রাথমিকভাবে ৩১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও পরবর্তী আপডেটে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৬৪ হয়েছে। আহত হয়েছেন ১৭৯ জনের বেশি বলে জানিয়েছে কাস্তিয়া-লা মাঞ্চার নাগরিক সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ। উদ্ধারকাজ চলার কারণে হতাহতের সংখ্যা আরও পরিবর্তিত হতে পারে।

 

প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, রেনফের এভিই ট্রেনে প্রায় ৩৯৭ জন এবং ইরিওর ট্রেনে প্রায় ১৪৭ জন যাত্রী ছিলেন। অর্থাৎ দুটি ট্রেনে মোট যাত্রীসংখ্যা ছিল প্রায় ৫৪৪। তবে যাত্রীসংখ্যা, নিহত ও আহতদের চূড়ান্ত হিসাব এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের অবস্থা কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তথ্যের মাধ্যমে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

উদ্ধারকাজে জরুরি পরিষেবা, আহতদের সরানো হয়েছে

দুর্ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে দমকল বাহিনী, সিভিল গার্ড, নাগরিক সুরক্ষা বাহিনী এবং জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা পৌঁছান। আহতদের ট্রেন থেকে বের করে দ্রুত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। কাস্তিয়া-লা মাঞ্চার আঞ্চলিক সরকার জরুরি পরিকল্পনা সক্রিয় করে উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রম সমন্বয় শুরু করে।

আঞ্চলিক সরকারের মুখপাত্র এস্তের পাদিয়া স্পেনের অ্যানতেনা থ্রেস টেলিভিশনকে জানিয়েছেন, আহতদের ট্রেন থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এরপর উদ্ধারকর্মীরা নিহতদের মরদেহ বের করার কাজ শুরু করবেন।

উদ্ধারকাজে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত বগিগুলো পরীক্ষা করে আটকে পড়া ব্যক্তিদের খুঁজে বের করা এবং নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করা। পাশাপাশি আহতদের চিকিৎসা ও তাঁদের পরিবারের কাছে নির্ভরযোগ্য তথ্য পৌঁছে দেওয়াও জরুরি হয়ে উঠেছে।

কীভাবে একই লাইনে সংঘর্ষে জড়াল দুটি ট্রেন?

দুর্ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, সামনে একটি ট্রেন থাকা সত্ত্বেও পেছনের ট্রেনটি কীভাবে সংঘর্ষে জড়াল। আধুনিক উচ্চগতির রেলব্যবস্থায় সংকেতপ্রযুক্তি, ট্রেনের অবস্থান পর্যবেক্ষণ এবং স্বয়ংক্রিয় ব্রেকিংয়ের মতো ব্যবস্থা থাকে। এসব প্রযুক্তির উদ্দেশ্যই হলো, সামনে কোনো ট্রেন থেমে থাকলে পেছনের ট্রেনকে সতর্ক করা এবং প্রয়োজন হলে সংঘর্ষ প্রতিরোধ করা।

স্পেনের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রেললাইনে সংকেতব্যবস্থা ও ট্রেন চলাচল নিয়ন্ত্রণের কার্যক্রম তদন্তের আওতায় রয়েছে। আদিফের আতচা নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র থেকেও ট্রেনগুলোর অবস্থান পর্যবেক্ষণ করা হয়। ফলে সংঘর্ষের আগে কোন ট্রেন কোথায় ছিল, কী নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল এবং চালকদের কাছে কী ধরনের সংকেত পৌঁছেছিল, তা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

তবে এখন পর্যন্ত সংকেতব্যবস্থার ত্রুটি, মানবিক ভুল কিংবা অন্য কোনো প্রযুক্তিগত সমস্যাকে দুর্ঘটনার নিশ্চিত কারণ হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো একটি কারণকে দায়ী করা হলে তা বিভ্রান্তিকর হতে পারে।

সংকেতব্যবস্থা ও স্বয়ংক্রিয় ব্রেকিং নিয়ে প্রশ্ন

উচ্চগতির রেলপথে ট্রেনের মধ্যে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত সংকেতব্যবস্থা সামনের ট্রেনের অবস্থান সম্পর্কে পেছনের ট্রেনকে সতর্ক করে। পরিস্থিতি অনুযায়ী চালককে গতি কমাতে বলা হয়, অথবা স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় ব্রেক প্রয়োগ করা হতে পারে।

এ দুর্ঘটনার তদন্তে কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সংঘর্ষের আগে সংকেতব্যবস্থা স্বাভাবিকভাবে কাজ করছিল কি না, ট্রেন দুটির অবস্থান নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রে সঠিকভাবে দেখা যাচ্ছিল কি না, কোনো ট্রেনকে থামার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল কি না এবং স্বয়ংক্রিয় ব্রেকিং ব্যবস্থা কার্যকর ছিল কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর জানা প্রয়োজন।

যদি প্রযুক্তিগত ত্রুটি পাওয়া যায়, তাহলে সেটি কী ধরনের ত্রুটি এবং তা প্রতিরোধ করার মতো বিকল্প নিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল কি না, সেটিও পরীক্ষা করতে হবে। আর যদি সংকেত ও ব্রেকিং ব্যবস্থা স্বাভাবিকভাবে কাজ করে থাকে, তাহলে চালকদের নির্দেশনা এবং ট্রেন পরিচালনার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে হবে।

মাদ্রিদ–আন্দালুসিয়া রেল যোগাযোগ বন্ধ

দুর্ঘটনার পর আদিফ মাদ্রিদ, সিউদাদ রিয়াল ও আন্দালুসিয়ার মধ্যে উচ্চগতির রেল চলাচল দুই দিকেই স্থগিত করেছে। এর ফলে এই পথে যাতায়াতের পরিকল্পনা করা যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। ট্রেন চলাচল কখন স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি।

রেনফে জানিয়েছে, সংস্থার কর্মীরা আহত ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের সহায়তায় কাজ করছেন। যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং দুর্ঘটনার ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, ইরিও জানিয়েছে, তারা জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা চালু করেছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করছে।

ক্ষতিগ্রস্ত রেলপথ পরীক্ষা, উদ্ধারকাজ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরই ট্রেন চলাচল পুনরায় চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে। ফলে যাত্রীদের যাত্রার আগে রেনফে ও ইরিওর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অনুসরণ করা প্রয়োজন।

স্পেনের রেল নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ

স্পেনের উচ্চগতির রেলব্যবস্থা ইউরোপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন নেটওয়ার্ক। দ্রুতগতির ট্রেন দেশটির প্রধান শহরগুলোর মধ্যে যাতায়াত সহজ করেছে এবং অভ্যন্তরীণ পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কিন্তু এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনা রেল নিরাপত্তা, অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে ট্রেন চলাচল নিয়ন্ত্রণের কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

এ ধরনের দুর্ঘটনার পর শুধু চালকের ভুল বা একটি যন্ত্রের ত্রুটি খোঁজাই যথেষ্ট নয়। পুরো নিরাপত্তাব্যবস্থা কীভাবে কাজ করেছে, সংশ্লিষ্ট কর্মীদের কাছে কী তথ্য ছিল এবং সম্ভাব্য বিপজ্জনক পরিস্থিতি শনাক্ত করার পর তা প্রতিরোধের সুযোগ ছিল কি না, সেসব বিষয়ও বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

তবে তদন্তের ফল প্রকাশের আগে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাকে দায়ী করা সমীচীন হবে না। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ শনাক্ত করা এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়াই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

তদন্তের ফলের অপেক্ষা

এখন পর্যন্ত দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। আদিফ, রেনফে, ইরিও এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের তদন্তে ট্রেনের অবস্থান, সংকেতব্যবস্থা, চলাচলের নির্দেশনা ও সংঘর্ষের সময়কার পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা হবে।

হতাহতের চূড়ান্ত সংখ্যা, নিহতদের পরিচয়, আহতদের অবস্থা এবং রেল চলাচল পুনরায় চালুর সময় সম্পর্কে নতুন তথ্য প্রকাশিত হলে পরিস্থিতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যাবে। ততক্ষণ পর্যন্ত সরকারি ঘোষণা ও নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমের হালনাগাদ তথ্য অনুসরণ করাই সবচেয়ে যুক্তিসংগত।

তথ্যসূত্র: কাস্তিয়া-লা মাঞ্চার নাগরিক সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ, আদিফ, রেনফে, ইরিও এবং স্পেনের সংবাদমাধ্যম।

আগামী ৫ বছরে ১ কোটি দক্ষ কর্মী বিদেশে পাঠানো হবে: প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:০৮ পিএম
আগামী ৫ বছরে ১ কোটি দক্ষ কর্মী বিদেশে পাঠানো হবে: প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি দক্ষ কর্মী তৈরি করে বিদেশে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের কর্মীদের চাহিদা বাড়াতে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনশক্তি তৈরির ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুরে অবস্থিত আনসার-ভিডিপি একাডেমিতে সদস্যদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিদর্শনের সময় তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, অবৈধ পথে বিদেশ যাওয়ার প্রলোভন থেকে দেশকে মুক্ত রাখতে হবে। দালালের খপ্পরে পড়ে অনেকেই প্রতারণা ও জীবনঝুঁকির মুখে পড়েন। তাই বৈধ পথে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি এবং প্রবাসীদের নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা এবং বিদেশগামী কর্মীরা যাতে হয়রানি বা প্রতারণার শিকার না হন, সে বিষয়েও মন্ত্রণালয় কঠোর তদারকি ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে।

এর আগে একাডেমিতে পৌঁছে মন্ত্রী একটি ফলজ গাছের চারা রোপণ করেন। পরবর্তীতে তিনি একাডেমির তৈরি পোশাক কারখানা, প্যান্ট্রি এবং বিভিন্ন প্রশিক্ষণ বিভাগ ঘুরে দেখেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব, গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমানসহ আনসার-ভিডিপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

 

হত্যার হুমকির মামলা নিয়ে মুখ খুললেন তানজিন তিশা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৫৩ পিএম
হত্যার হুমকির মামলা নিয়ে মুখ খুললেন তানজিন তিশা

শাড়ি নিয়ে একের পর এক অভিযোগ ও আইনি জটিলতার মধ্যে নিজের দীর্ঘদিনের সম্মান, ক্যারিয়ার ও অর্জন ধ্বংসের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন অভিনেত্রী তানজিন তিশা। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে করা একটি মামলায় আদালত সমন জারি করেছেন। আগামী ২৩ নভেম্বর তাঁকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় ফেসবুকে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছেন তিশা। পোস্টে দুটি শাড়ি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারীর ছবির কোলাজ যুক্ত করে তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর একটি বক্তব্যের রেকর্ড থেকে নিজেদের সুবিধামতো অংশ কেটে মূল বক্তব্যের অর্থ বদলে দেওয়া হয়েছে। পরে সেটি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে তাঁর সম্মানহানির চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিশা লিখেছেন, ‘এত বড় একটা পরিকল্পনা? একজন মানুষের এত বছরের সম্মান, ক্যারিয়ার আর অর্জন ধ্বংস করে দেওয়ার এমন বিশাল ঘৃণ্য প্রচেষ্টা? কেন? কিসের জন্য? আর এর পেছনে কারা?’

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

অভিযোগ উঠলেই কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা যায় কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন এই অভিনেত্রী। তাঁর মতে, কোনো অভিযোগ সামনে এলেই সেটিকে সত্য বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়। বরং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। এ ঘটনায় অনেক প্রশ্নের উত্তর ও তথ্যপ্রমাণ তাঁর কাছে রয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। তবে সেসব তথ্যপ্রমাণ জনসমক্ষে তুলে ধরার দায়িত্ব আদালতের, নাকি দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার—সেই প্রশ্নও রেখেছেন তিশা।

ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও লিখেছেন, ‘মামলা কি এতই সহজ? অভিযোগ করলেই সত্য হয়ে যায়? একজনের নাম একের পর এক অভিযোগ ছড়িয়ে সামাজিক মাধ্যমে সম্মানহানি করা হয়?’

তানজিন তিশাকে ঘিরে শাড়ি নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত গত বছরের অক্টোবরে। অনলাইন পোশাক বিক্রির প্রতিষ্ঠান অ্যাপোনিয়ার স্বত্বাধিকারী বিলকিস ওয়াজির অভিযোগ, ২৮ হাজার ৮০০ টাকা দামের একটি জামদানি শাড়ি প্রচারণার শর্তে তিশাকে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রচারণা করেননি এবং শাড়ির দামও পরিশোধ করেননি। তবে শুরু থেকেই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন তিশা। তাঁর দাবি, শাড়িটি তাঁকে উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় করা প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের মামলার আইনি প্রক্রিয়া চলছে।

এ ছাড়া ৭৫ হাজার টাকা দামের আরেকটি শাড়ি নিয়ে তিশার বিরুদ্ধে মামলা করেন নারী উদ্যোক্তা ও ফ্যাশন ডিজাইনার সানায়া আনাম ওয়াফিকাহ চৌধুরী।

বাদীর অভিযোগ, ২০২৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর একটি অনুষ্ঠানে পরার জন্য তিশা তাঁর কাছ থেকে শাড়িটি নিয়েছিলেন। পরদিন সেটি ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও ফেরত দেওয়া হয়নি। শাড়িটি ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে গালাগাল ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছিলেন তিনি।

এ ঘটনায় করা মামলায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে তিশাকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করেছিল। তবে ওই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে বাদীপক্ষ নারাজি আবেদন করলে ২৫ অক্টোবর আদালত মামলাটির অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) দেন। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর এক দিন পর, ২৬ অক্টোবর, আগের মামলাটি তুলে নিতে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করেন সানায়া চৌধুরী। বাদীপক্ষের অভিযোগ, অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের মাধ্যমে তাঁকে ভয় দেখানো হয়েছে। মামলা প্রত্যাহার না করলে বাংলাদেশে থাকতে দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক