পর্তুগালে বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রদূতের পরিচয়পত্র পেশ
পর্তুগালের প্রেসিডেন্টের কাছে পরিচয়পত্র পেশ করেছেন পর্তুগালে নিযুক্ত বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রদূত ড. এস এম কামরুল হাসান। সোমবার লিসবনের বেলেম প্রাসাদে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয়পত্র পেশের মধ্য দিয়ে তিনি পর্তুগালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বাংলাদেশ দূতাবাস, লিসবনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পরিচয়পত্র পেশের এই আনুষ্ঠানিকতা বাংলাদেশ ও পর্তুগালের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
পর্তুগালের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত ড. এস এম কামরুল হাসান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও সরকারপ্রধানের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও আন্তরিক অভিনন্দন পৌঁছে দেন।
এ সময় তিনি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় পর্তুগালের একটি স্থায়ী কূটনৈতিক মিশন প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁর মতে, ঢাকায় পর্তুগালের আবাসিক দূতাবাস প্রতিষ্ঠিত হলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ আরও সহজ হবে, প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক জোরদার হবে এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
বৈধ অভিবাসন ও শ্রমিক চলাচল কাঠামো কার্যকরের ওপর গুরুত্ব
বাংলাদেশ ও পর্তুগালের মধ্যে অভিবাসন সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়টিও আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায়। রাষ্ট্রদূত দুই দেশের মধ্যে প্রস্তাবিত দ্বিপক্ষীয় শ্রমিক ও অভিবাসন চলাচল কাঠামো কার্যকর করার পাশাপাশি নিয়মিত, সুশৃঙ্খল ও বৈধ অভিবাসন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।
এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের মধ্যে বৈধ অভিবাসন ও শ্রমিক চলাচলসংক্রান্ত সহযোগিতা আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এ ছাড়া দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত। জনগণের মধ্যে যোগাযোগ ও সম্পর্ক বৃদ্ধির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ও পর্তুগালের মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালুর বিষয়েও আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।
বাংলাদেশি কমিউনিটির অবদানের প্রশংসা পর্তুগিজ প্রেসিডেন্টের
সাক্ষাৎকালে পর্তুগালের প্রেসিডেন্ট দেশটিতে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির অবদানের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে পর্তুগিজ সমাজে বাংলাদেশিদের যথাযথ একীভূতকরণ বা সামাজিক অন্তর্ভুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি।
আলোচনায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, সামুদ্রিক বিষয়াবলি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ ও সম্পর্ক বৃদ্ধির বিভিন্ন সম্ভাবনাও উঠে আসে।
বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, দুই দেশের অভিন্ন স্বার্থ এগিয়ে নেওয়া, অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক শক্তিশালী করা এবং দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে বাস্তব সহযোগিতায় রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে দূতাবাস কাজ করে যাবে।
বিশ্লেষকদের মতে, অভিবাসন সহযোগিতা, শ্রমিক চলাচলের কাঠামো কার্যকর করা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং সরাসরি বিমান যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার মতো বিষয়গুলো বাংলাদেশ ও পর্তুগালের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি পর্তুগালে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।













