সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার বাংলাদেশি ওমরাহযাত্রীদের দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাত ১১টা ২০ মিনিটে তাঁদের একটি অংশের ঢাকায় পৌঁছানোর কথা ছিল। তবে তাঁদের দেশে ফেরার সর্বশেষ অবস্থা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
দেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের অভ্যর্থনা জানাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে বিশেষ আয়োজনের কথা জানিয়েছিল সরকার। ধর্মমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সরকারি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি জাতীয় ইমাম পরিষদের নেতারা ও স্বজনদের উপস্থিত থাকার কথা ছিল।
গত ১০ অক্টোবর সৌদি আরবের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তিন নম্বর টার্মিনালে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। এতে দুই বাংলাদেশি নিহত হন। আহত বাংলাদেশির সংখ্যা পরবর্তী সময়ে বেড়ে ২৭ জনে দাঁড়ায়। আহতদের মধ্যে ১৬ জন ওমরাহযাত্রী এবং ১১ জন সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি ছিলেন বলে দূতাবাসের প্রতিবেদনে জানানো হয়।
হামলার পর বিমান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় রিয়াদে বিপাকে পড়েন কয়েক শ বাংলাদেশি যাত্রী। তাঁদের মধ্যে ইহরাম পরা ৬৭ জন ওমরাহযাত্রীকে বিশেষ বাসে রিয়াদ থেকে জেদ্দায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। এ ছাড়া বাতিল হওয়া ফ্লাইটের প্রায় ৪০০ যাত্রীকে দাম্মাম বিমানবন্দর দিয়ে দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
এ ঘটনায় নিহত দুই বাংলাদেশির একজন কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের ওমরাহযাত্রী মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরি। অপরজন বগুড়ার শাহজাহানপুরের মো. শাহেদ আহম্মেদ, যিনি সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন।
সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, শাহেদ আহম্মেদের মরদেহ আগামী ২৩ অক্টোবর শুক্রবার সকালে দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তাঁর বকেয়া বেতন-ভাতা ও সার্ভিস বেনিফিট বাবদ প্রায় ৯ লাখ টাকা পরিবারের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
হামলার পর আহত বাংলাদেশিদের চিকিৎসা ও দেশে ফেরার ব্যবস্থা করতে সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলো কাজ করছে।