শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩

ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে এক মাসে গ্রেপ্তার ১,২৬০

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১৫ পিএম
ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে এক মাসে গ্রেপ্তার ১,২৬০

শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে এক মাস আগে ফ্রান্সে শুরু হওয়া আন্দোলন এখনো অব্যাহত রয়েছে। আন্দোলনে সম্পৃক্ততার অভিযোগে রাজধানী প্যারিসের মহানগর এলাকায় এক মাসে রেকর্ড ১ হাজার ২৬০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের ৮৬ শতাংশই নাবালক। দেশটিতে এর আগে কোনো আন্দোলনে এত বেশি মানুষ গ্রেপ্তারের নজির নেই। এদিকে শনিবার দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার্দ জেফ্রে জানিয়েছেন, দেশজুড়ে প্রায় ২০০টি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা এখনো আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু বলেছেন, বিক্ষোভ এখন আর শুধু শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি ‘শহুরে সহিংসতার আন্দোলনে’ রূপ নিয়েছে। রাজধানী প্যারিসসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় ‘সহিংসতার উসকানি দেওয়ার মতো অত্যন্ত জঘন্য আহ্বান’-এরও তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন তিনি।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

লেকর্নু জানান, স্কুল ভবনসংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে আঞ্চলিক পরিষদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। একই সঙ্গে বিক্ষোভের শেষ পর্যায়ে ঘটে যাওয়া সহিংস ঘটনার সমালোচনাও করেন তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী জেফ্রে জানান, ফ্রান্সের উচ্চশিক্ষায় ভর্তির প্ল্যাটফর্ম ‘পারকুরসুপ’-এর মাধ্যমে সরকার পুরো ভর্তি প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করছে। অক্টোবরের শেষ নাগাদ এ বিষয়ে নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

বৃহস্পতিবার দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সের গ্রাদিগনান এলাকার একটি উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে তিনি বলেন, “সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় ঘনিয়ে আসছে, তবে আপাতত আমরা এ নিয়ে কাজ করছি।”

জেফ্রে আরও জানান, সরকার ৩ হাজার বিকল্প শিক্ষক নিয়োগের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তাঁদের দুই-তৃতীয়াংশকে ইতিমধ্যে বিভিন্ন স্কুলে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, গ্রাদিগনানে বিশেষ সমস্যার মুখে থাকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সংখ্যা বৃহস্পতিবারের ১১৪টি থেকে কমে ৪৭টিতে দাঁড়িয়েছে।

“আশা করি, শরতের ছুটির পর যখন ফের স্কুলগুলোতে ক্লাস শুরু হবে, তখন কোনো হাই স্কুল আর ‘রেড জোন’ বা ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় থাকবে না”, গ্রাদিগনানে বলেছেন জেফ্রে।

এর আগে ৮ অক্টোবরের এক বৈঠকে ‘লে লিসিয়েনস!’ ও ‘ইউনিয়ন সিন্ডিকাল লিসিয়েন’-এর মতো শিক্ষার্থী সংগঠনগুলো আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল।

প্যারিসের পশ্চিমে জুই-এন-জোসা এলাকায় অবস্থিত ব্যবসায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এইচইসি প্যারিসেও ছড়িয়ে পড়েছে বিক্ষোভ। সেখানে উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সমর্থনে বিক্ষোভ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা। আন্দোলন শুরুর পর এই প্রথম সেখানে এমন ঘটনা ঘটল।

লিওঁ শহরের প্রশাসন বৃহস্পতিবার সকালে নির্ধারিত একটি ছাত্র বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করেছে। প্রশাসনের ভাষ্য, আগের বিক্ষোভগুলোতে জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়া, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষয়ক্ষতি এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলার ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল।

প্যারিস, মার্সেই ও লিওঁ শহরের বেশ কয়েকটি স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অবরোধ কর্মসূচি এখনো চলছে। প্যারিস পুলিশ জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে প্যারিস মহানগর এলাকায় ১ হাজার ২৬০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের ৮৬ শতাংশই নাবালক।

পরিস্থিতি নিয়ে হালনাগাদ তথ্যে প্যারিস পুলিশ আরও জানিয়েছে, প্রায় এক মাসের বিক্ষোভে ২৮৬ জন পুলিশ ও জেন্ডার্ম এবং শিক্ষা বিভাগের ১৩ জন কর্মী আহত হয়েছেন।

এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, “সহিংসতা বারবার ঘটছে এবং এর তীব্রতা বাড়ছে। গত ১৩ অক্টোবর বিক্ষোভের সময় অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর ৭১ জন সদস্য আহত হয়েছেন।”

গত ১৭ সেপ্টেম্বর প্যারিসের একটি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অপর্যাপ্ত শিক্ষক, স্কুলের দীর্ঘ সময়সীমা এবং শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তির প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু করেন।

রাজধানীর শহরতলির ওই বিদ্যালয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা একত্র হয়ে এসব সমস্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভে নামেন। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বা ‘ক্লাস সাইজ’ নিয়েও অভিযোগ তোলেন তাঁরা।

পরে এই বিক্ষোভ রাজধানীসহ ফ্রান্সের বিভিন্ন এলাকার বিদ্যালয়ে ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তা শিক্ষাব্যবস্থার সার্বিক সংস্কারের দাবিতে রূপ নেয়। আন্দোলনে শত শত শিক্ষক ও শিক্ষার্থী অংশ নেন। বর্তমানে পুরো ফ্রান্সে ছড়িয়ে পড়েছে এই আন্দোলন।

সৌদি আরব-যাত্রী ১০৭ ফ্লাইট বাতিল, ১৬ হাজার যাত্রীর ভোগান্তি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৪৬ পিএম
সৌদি আরব-যাত্রী ১০৭ ফ্লাইট বাতিল, ১৬ হাজার যাত্রীর ভোগান্তি

সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলার পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির বিমানবন্দরগুলোয় বিধিনিষেধ আরোপের প্রভাব পড়েছে ঢাকা-সৌদি রুটের ফ্লাইট চলাচলে। এ পর্যন্ত ১০৭টি ফ্লাইট ব্যাহত বা বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে ৪৪টি সরাসরি এবং ৬৩টি ট্রানজিট ফ্লাইট। এসব ফ্লাইটের ১৬ হাজার ৬২০ জন যাত্রী অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তিতে পড়েছেন।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সরাসরি ফ্লাইটগুলোর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১৭টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ১০টি এবং রিয়াদ এয়ারের ৭টি ফ্লাইট ব্যাহত হয়েছে।

অন্যদিকে, ট্রানজিট ফ্লাইটগুলোর মধ্যে ইন্ডিগোর ২২টি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, সালাম এয়ারের ৭টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৬টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৪টি এবং ইজিপ্টএয়ারের একটি ফ্লাইট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ফ্লাইট চলাচলে এ বিঘ্নের কারণে সৌদি আরবগামী ও সেখান থেকে দেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েছে। নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন অনেক যাত্রী। ট্রানজিট ফ্লাইট ব্যাহত হওয়ায় বিকল্প রুটে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও তৈরি হয়েছে জটিলতা।

বেবিচক জানিয়েছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে ফ্লাইটের সময়সূচি পুনর্নির্ধারণে কাজ চলছে। পরিস্থিতির উন্নতি ও বিমানবন্দরগুলোর বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ার ওপর ফ্লাইট চলাচলের স্বাভাবিকতা নির্ভর করছে।

লেহরা দো তিরঙ্গা

অভিজিৎ দীপকের পর এবার আটক নেহা বোরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০৫ পিএম
অভিজিৎ দীপকের পর এবার আটক নেহা বোরা

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ মার্চ ঠেকাতে পুলিশের ধরপাকড় অব্যাহত রয়েছে। সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপককে আটকের পর এবার অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) সভাপতি নেহা বোরাকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ।

 

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) মধ্য দিল্লির মান্ডি হাউস এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

 

ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং সিজেপির দুই নেতার গ্রেফতারের প্রতিবাদে শুক্রবার বিকেলে দিল্লির কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে জাতীয় পতাকা নিয়ে সমবেত হওয়ার কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল সিজেপি।

 

তবে ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ নামের এই কর্মসূচি শুরু হওয়ার কয়েক মিনিট আগেই আন্দোলনের নেতাদের আটক করল দিল্লি।

 

এরআগে অভিজিৎ দীপককে তার ঝান্ডেওয়ালানের বাসা থেকে আটক করা হয়।

 

এনডিটিভি জানিয়েছে, আটকের আগে দিল্লি পুলিশ দীপকেকে একটি নোটিশ দেয়।

 

নোটিশে বলা হয়, কনট প্লেস এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারার অধীনে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে। অনুমতি ছাড়া মিছিল বা বড় ধরনের জমায়েত করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

 

পুলিশ জানিয়েছে, জাতীয় পতাকা ওড়ানো নিষিদ্ধ নয়; তবে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অনুমতিহীন সমাবেশ করা যাবে না।

 

তবে সেই নোটিশের জবাবে অভিজিৎ দীপকে বলেন, জাতীয় পতাকা ওড়ানোর জন্য কারাগারে যেতে হলেও তিনি প্রস্তুত। এরপরই তাকে আটক করা হয়।

 

আটক হওয়ার আগে তিনি আরও বলেন, সিজেপির নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ দমনের চেষ্টা করছে সরকার। যদিও তাদের দাবি সরকার পরিবর্তন নয়; বরং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে সরিয়ে নিরপেক্ষ ও স্বাধীনভাবে নতুন নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দেওয়া।

 

এরআগে গত বুধবার সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে শুক্রবার বিকেল ৫টায় কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে জাতীয় পতাকা নিয়ে সমবেত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

 

মূলত, দলের দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকাকে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের ঘটনায় কারাগারে পাঠানো প্রতিবাদে ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ কর্মসূচির ডাক দেয় সিজেপি। জন্তর মন্তরকে নির্ধারিত প্রতিবাদস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার পর নতুন কর্মসূচির জন্য সেন্ট্রাল পার্ককে বেছে নেয় দলটি।

 

তবে পুলিশ জানিয়েছে, এই জমায়েতের জন্য অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সমাবেশ করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

 

সূত্র: এনডিটিভি, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

যুক্তরাষ্ট্রে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বন্দুক হামলায় তিন শিশুসহ নিহত ৫

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০২ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বন্দুক হামলায় তিন শিশুসহ নিহত ৫

যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন অঙ্গরাজ্যের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরের গুলিতে তিন শিশু ও একজন শিক্ষক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও এক শিশু ও একজন শিক্ষক গুরুতর আহত হয়েছেন। হামলাকারী কিশোরও গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) স্থানীয় সময় দুপুর ১টার দিকে ওরেগনের বেন্ড শহরের সিলভার রেইল এলিমেন্টারি স্কুলে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

নিহত তিন শিশুর বয়স পাঁচ, আট ও ১১ বছর। অন্যদিকে, গুরুতর আহত সাত বছর বয়সী শিশু ও ৫৪ বছর বয়সী শিক্ষককে স্থানীয় সেন্ট চার্লস বেন্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বেন্ড পুলিশের প্রধান মাইক ক্রান্টজ এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে মোট পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিন শিশু, একজন শিক্ষক এবং সন্দেহভাজন হামলাকারী রয়েছে। হামলাকারী ১৬ বছর বয়সী বেন্ড শহরেরই বাসিন্দা।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় দুপুর ১টার কিছুক্ষণ আগে এক ব্যক্তি জরুরি সেবা নম্বরে ফোন করে জানান, এক ব্যক্তি তার গাড়ি লক্ষ্য করে একাধিকবার গুলি চালিয়েছে। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই স্কুলের ভেতর থেকে জরুরি সেবা নম্বরে একের পর এক ফোন আসতে থাকে। এরপর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়।

প্রথম ফোন পাওয়ার প্রায় তিন মিনিটের মধ্যে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ততক্ষণে স্কুলটি লকডাউন করে দেওয়া হয়েছিল।

পুলিশপ্রধান মাইক ক্রান্টজ জানিয়েছেন, হামলাকারী কিশোর স্কুলের তালাবদ্ধ দরজা লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে।

হামলায় কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, কতগুলো গুলি ছোড়া হয়েছে, তা জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, হামলাকারীর কাছে একটি লম্বা বন্দুক ছিল।

তবে সেটি ঠিক কোন ধরনের বন্দুক, তা এখনো প্রকাশ করেননি তিনি। এছাড়াও হামলাকারী ওই স্কুলের শিক্ষার্থী ছিল কিনা কিংবা স্কুলের কাউকে আগে থেকে চিনতো কি না, সেই বিষয়েও পুলিশ এখনো নিশ্চিত নয়।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে এসে তারা হামলাকারীকে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।

পুলিশপ্রধান মাইক ক্রান্টজ বলেন, একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক ব্যক্তি হামলাকারী কিশোরকে স্কুলে প্রবেশ করতে দেখেছিলেন। এরপর ওই ব্যক্তিও হামলাকারী কিশোরকে অনুসরণ করে স্কুলের ভেতরে প্রবেশ করেন।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ওই ব্যক্তির গুলিতেই হামলাকারী নিহত হয়েছে।

বেন্ড পুলিশ বিভাগের যোগাযোগ বিষয়ক ব্যবস্থাপক শিলা মিলার সাংবাদিকদের জানান, দুপুর ১টা ২ মিনিটের দিকে সন্দেহভাজন হামলাকারী কিশোর গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।

হামলাকারী কিশোর কিংবা কিশোরকে গুলি করা সন্দেহভাজন ব্যক্তি সম্বন্ধে আর কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি পুলিশ।

তবে এই ঘটনার পর পুলিশ স্কুলের প্রতিটি কক্ষ তল্লাশি করে এবং পুরো ভবন নিরাপদ বলে নিশ্চিত করে। এরপর শিক্ষার্থীদের কাছের একটি গির্জায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানেই শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ অভিভাবকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

ওরেগনের গভর্নর টিনা কোটেক বলেছেন, এই মর্মান্তিক ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের জীবন চিরতরে বদলে গেছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সিলভার রেইল এলিমেন্টারি স্কুলে প্রায় ৪৫০ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। সেখানে শিক্ষকসহ ৪০ জনের বেশি কর্মী রয়েছেন।

এ ঘটনার পর ওই এলাকার সব স্কুল শুক্রবারের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ‘কে-১২ স্কুল শুটিং ডেটাবেস’ এর তথ্য অনুযায়ী, গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের স্কুলগুলোতে ২৩৫টি গুলির ঘটনা ঘটেছিল এবং চলতি বছর এখন পর্যন্ত অন্তত ১৪০টি ঘটনা ঘটেছে।

সূত্র: বিবিসি

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক