শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩

খাদ্যনিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকিতে দেশের ১ কোটি ৮১ লাখ মানুষ

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৩ পিএম
খাদ্যনিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকিতে দেশের ১ কোটি ৮১ লাখ মানুষ

দেশে খাদ্যনিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকিতে থাকা মানুষের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে তীব্র খাদ্যনিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকিতে থাকা মানুষের সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৮১ লাখে পৌঁছাতে পারে। বছরের শুরুর তুলনায় এ সংখ্যা ২৮ লাখ বেশি।

গত ২২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ডব্লিউএফপির প্রতিবেদনে মূল্যস্ফীতি, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়া, বন্যায় কৃষির ক্ষতি, শিশুদের অপুষ্টি এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের খাদ্যসহায়তা নিয়ে অনিশ্চয়তার বিষয়গুলো উঠে এসেছে।

আজ ১৬ অক্টোবর বিশ্ব খাদ্য দিবস। ১৯৭৯ সালে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) ২০তম সম্মেলনে দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে ১৯৮১ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্ব খাদ্য দিবস পালিত হয়। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘আজকের উদ্ভাবন, আগামী দিনের পুষ্টি’।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

এমন এক সময়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে, যখন দেশের অর্থনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ রয়েছে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ কমেছে। কয়েকটি জরিপেও দেশে দারিদ্র্য বৃদ্ধির চিত্র উঠে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, দেশের একটি জনগোষ্ঠী সব সময় খাদ্যনিরাপত্তাহীনতায় ভুগলেও ডব্লিউএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে এ ঝুঁকিতে থাকা মানুষের সংখ্যা আরও বেড়েছে।

ডব্লিউএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খাদ্যসংকট ও পুষ্টিহীনতার কারণে শিশুদের স্বাভাবিক বেড়ে ওঠা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পর্যাপ্ত খাবার না পাওয়া এবং খাদ্যে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি শিশুদের বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। দেশে পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রতি চার শিশুর একজন খর্বকায়, অর্থাৎ বয়সের তুলনায় উচ্চতা কম। এ ছাড়া ১১ শতাংশ শিশু ক্ষীণকায়, অর্থাৎ উচ্চতার তুলনায় তাদের ওজন কম। অন্যদিকে, প্রতি পাঁচটি পরিবারের দুটিতে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় অণুপুষ্টির ঘাটতি রয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে দেশে বন্যা ও জলাবদ্ধতায় প্রায় ৮০ হাজার হেক্টর কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ২ লাখ ৩০ হাজার কৃষক পরিবার ও ১৩ লাখ মানুষ ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এর ফলে খাদ্য উৎপাদন এবং মানুষের জীবিকা ব্যাহত হয়েছে।

বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তা পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক ঝুঁকির প্রভাব রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, দেশের মোট প্রবাসী আয়ের প্রায় অর্ধেক আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। তবে সেখান থেকে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

২০২২ সালের শুরুতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই দেশে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়তে থাকে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১৪ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়, যা বিগত এক যুগের মধ্যে সর্বোচ্চ। এরপর কয়েক মাস খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশের ওপরে ছিল। বর্তমানে তা ১০ শতাংশের নিচে নেমেছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ওই মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ২২ শতাংশ। একই সময়ে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৩০ শতাংশ। তবে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমার অর্থ পণ্যের দাম কমে যাওয়া নয়; বরং দাম বৃদ্ধির হার কিছুটা কমেছে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) গত ১৩ অক্টোবর এক পূর্বাভাসে জানিয়েছে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি কমে ৩ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়াতে পারে। একই সময়ে গড় মূল্যস্ফীতি বেড়ে ১০ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। এ পরিস্থিতিতে অর্থনীতির পুনরুদ্ধার, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা এবং বিনিয়োগের পরিবেশ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরির আশঙ্কা রয়েছে।

সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে, বর্তমানে বাজারে মোটা চালের কেজি কমপক্ষে ৫০ টাকা। খোলা আটার দামও কেজিপ্রতি একই।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, গত ১ জুলাই থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন কর্মসূচির আওতায় ৮ লাখ ৩৪ হাজার টন চাল ও গম বিতরণ করা হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এ পরিমাণ ৪৮ হাজার টন কম। তবে বর্তমানে দেশে প্রায় সাড়ে ২৩ লাখ টন খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে, যা যথেষ্ট ভালো অবস্থান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও সানেমের নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে খাদ্যসংকটের ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারের প্রথম কাজ হওয়া উচিত সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীকে চিহ্নিত করে দ্রুত ও কার্যকর সহায়তা নিশ্চিত করা। নিম্ন আয়ের পরিবার, দিনমজুর, কৃষিশ্রমিক, নারীপ্রধান পরিবার এবং দুর্যোগকবলিত এলাকার মানুষের জন্য খাদ্যসহায়তা, ন্যায্যমূল্যে চাল-ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি এবং লক্ষ্যভিত্তিক নগদ সহায়তার পরিধি বাড়াতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বাজারে কৃত্রিম সংকট, মজুতদারি ও কারসাজি ঠেকাতে নিয়মিত নজরদারি জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সরবরাহব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।

সৌদি আরব-যাত্রী ১০৭ ফ্লাইট বাতিল, ১৬ হাজার যাত্রীর ভোগান্তি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৪৬ পিএম
সৌদি আরব-যাত্রী ১০৭ ফ্লাইট বাতিল, ১৬ হাজার যাত্রীর ভোগান্তি

সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলার পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির বিমানবন্দরগুলোয় বিধিনিষেধ আরোপের প্রভাব পড়েছে ঢাকা-সৌদি রুটের ফ্লাইট চলাচলে। এ পর্যন্ত ১০৭টি ফ্লাইট ব্যাহত বা বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে ৪৪টি সরাসরি এবং ৬৩টি ট্রানজিট ফ্লাইট। এসব ফ্লাইটের ১৬ হাজার ৬২০ জন যাত্রী অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তিতে পড়েছেন।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সরাসরি ফ্লাইটগুলোর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১৭টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ১০টি এবং রিয়াদ এয়ারের ৭টি ফ্লাইট ব্যাহত হয়েছে।

অন্যদিকে, ট্রানজিট ফ্লাইটগুলোর মধ্যে ইন্ডিগোর ২২টি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, সালাম এয়ারের ৭টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৬টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৪টি এবং ইজিপ্টএয়ারের একটি ফ্লাইট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ফ্লাইট চলাচলে এ বিঘ্নের কারণে সৌদি আরবগামী ও সেখান থেকে দেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েছে। নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন অনেক যাত্রী। ট্রানজিট ফ্লাইট ব্যাহত হওয়ায় বিকল্প রুটে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও তৈরি হয়েছে জটিলতা।

বেবিচক জানিয়েছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে ফ্লাইটের সময়সূচি পুনর্নির্ধারণে কাজ চলছে। পরিস্থিতির উন্নতি ও বিমানবন্দরগুলোর বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ার ওপর ফ্লাইট চলাচলের স্বাভাবিকতা নির্ভর করছে।

লেহরা দো তিরঙ্গা

অভিজিৎ দীপকের পর এবার আটক নেহা বোরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০৫ পিএম
অভিজিৎ দীপকের পর এবার আটক নেহা বোরা

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ মার্চ ঠেকাতে পুলিশের ধরপাকড় অব্যাহত রয়েছে। সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপককে আটকের পর এবার অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) সভাপতি নেহা বোরাকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ।

 

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) মধ্য দিল্লির মান্ডি হাউস এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

 

ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং সিজেপির দুই নেতার গ্রেফতারের প্রতিবাদে শুক্রবার বিকেলে দিল্লির কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে জাতীয় পতাকা নিয়ে সমবেত হওয়ার কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল সিজেপি।

 

তবে ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ নামের এই কর্মসূচি শুরু হওয়ার কয়েক মিনিট আগেই আন্দোলনের নেতাদের আটক করল দিল্লি।

 

এরআগে অভিজিৎ দীপককে তার ঝান্ডেওয়ালানের বাসা থেকে আটক করা হয়।

 

এনডিটিভি জানিয়েছে, আটকের আগে দিল্লি পুলিশ দীপকেকে একটি নোটিশ দেয়।

 

নোটিশে বলা হয়, কনট প্লেস এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারার অধীনে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে। অনুমতি ছাড়া মিছিল বা বড় ধরনের জমায়েত করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

 

পুলিশ জানিয়েছে, জাতীয় পতাকা ওড়ানো নিষিদ্ধ নয়; তবে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অনুমতিহীন সমাবেশ করা যাবে না।

 

তবে সেই নোটিশের জবাবে অভিজিৎ দীপকে বলেন, জাতীয় পতাকা ওড়ানোর জন্য কারাগারে যেতে হলেও তিনি প্রস্তুত। এরপরই তাকে আটক করা হয়।

 

আটক হওয়ার আগে তিনি আরও বলেন, সিজেপির নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ দমনের চেষ্টা করছে সরকার। যদিও তাদের দাবি সরকার পরিবর্তন নয়; বরং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে সরিয়ে নিরপেক্ষ ও স্বাধীনভাবে নতুন নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দেওয়া।

 

এরআগে গত বুধবার সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে শুক্রবার বিকেল ৫টায় কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে জাতীয় পতাকা নিয়ে সমবেত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

 

মূলত, দলের দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকাকে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের ঘটনায় কারাগারে পাঠানো প্রতিবাদে ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ কর্মসূচির ডাক দেয় সিজেপি। জন্তর মন্তরকে নির্ধারিত প্রতিবাদস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার পর নতুন কর্মসূচির জন্য সেন্ট্রাল পার্ককে বেছে নেয় দলটি।

 

তবে পুলিশ জানিয়েছে, এই জমায়েতের জন্য অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সমাবেশ করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

 

সূত্র: এনডিটিভি, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

যুক্তরাষ্ট্রে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বন্দুক হামলায় তিন শিশুসহ নিহত ৫

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০২ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বন্দুক হামলায় তিন শিশুসহ নিহত ৫

যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন অঙ্গরাজ্যের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরের গুলিতে তিন শিশু ও একজন শিক্ষক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও এক শিশু ও একজন শিক্ষক গুরুতর আহত হয়েছেন। হামলাকারী কিশোরও গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) স্থানীয় সময় দুপুর ১টার দিকে ওরেগনের বেন্ড শহরের সিলভার রেইল এলিমেন্টারি স্কুলে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

নিহত তিন শিশুর বয়স পাঁচ, আট ও ১১ বছর। অন্যদিকে, গুরুতর আহত সাত বছর বয়সী শিশু ও ৫৪ বছর বয়সী শিক্ষককে স্থানীয় সেন্ট চার্লস বেন্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বেন্ড পুলিশের প্রধান মাইক ক্রান্টজ এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে মোট পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিন শিশু, একজন শিক্ষক এবং সন্দেহভাজন হামলাকারী রয়েছে। হামলাকারী ১৬ বছর বয়সী বেন্ড শহরেরই বাসিন্দা।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় দুপুর ১টার কিছুক্ষণ আগে এক ব্যক্তি জরুরি সেবা নম্বরে ফোন করে জানান, এক ব্যক্তি তার গাড়ি লক্ষ্য করে একাধিকবার গুলি চালিয়েছে। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই স্কুলের ভেতর থেকে জরুরি সেবা নম্বরে একের পর এক ফোন আসতে থাকে। এরপর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়।

প্রথম ফোন পাওয়ার প্রায় তিন মিনিটের মধ্যে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ততক্ষণে স্কুলটি লকডাউন করে দেওয়া হয়েছিল।

পুলিশপ্রধান মাইক ক্রান্টজ জানিয়েছেন, হামলাকারী কিশোর স্কুলের তালাবদ্ধ দরজা লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে।

হামলায় কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, কতগুলো গুলি ছোড়া হয়েছে, তা জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, হামলাকারীর কাছে একটি লম্বা বন্দুক ছিল।

তবে সেটি ঠিক কোন ধরনের বন্দুক, তা এখনো প্রকাশ করেননি তিনি। এছাড়াও হামলাকারী ওই স্কুলের শিক্ষার্থী ছিল কিনা কিংবা স্কুলের কাউকে আগে থেকে চিনতো কি না, সেই বিষয়েও পুলিশ এখনো নিশ্চিত নয়।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে এসে তারা হামলাকারীকে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।

পুলিশপ্রধান মাইক ক্রান্টজ বলেন, একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক ব্যক্তি হামলাকারী কিশোরকে স্কুলে প্রবেশ করতে দেখেছিলেন। এরপর ওই ব্যক্তিও হামলাকারী কিশোরকে অনুসরণ করে স্কুলের ভেতরে প্রবেশ করেন।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ওই ব্যক্তির গুলিতেই হামলাকারী নিহত হয়েছে।

বেন্ড পুলিশ বিভাগের যোগাযোগ বিষয়ক ব্যবস্থাপক শিলা মিলার সাংবাদিকদের জানান, দুপুর ১টা ২ মিনিটের দিকে সন্দেহভাজন হামলাকারী কিশোর গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।

হামলাকারী কিশোর কিংবা কিশোরকে গুলি করা সন্দেহভাজন ব্যক্তি সম্বন্ধে আর কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি পুলিশ।

তবে এই ঘটনার পর পুলিশ স্কুলের প্রতিটি কক্ষ তল্লাশি করে এবং পুরো ভবন নিরাপদ বলে নিশ্চিত করে। এরপর শিক্ষার্থীদের কাছের একটি গির্জায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানেই শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ অভিভাবকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

ওরেগনের গভর্নর টিনা কোটেক বলেছেন, এই মর্মান্তিক ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের জীবন চিরতরে বদলে গেছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সিলভার রেইল এলিমেন্টারি স্কুলে প্রায় ৪৫০ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। সেখানে শিক্ষকসহ ৪০ জনের বেশি কর্মী রয়েছেন।

এ ঘটনার পর ওই এলাকার সব স্কুল শুক্রবারের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ‘কে-১২ স্কুল শুটিং ডেটাবেস’ এর তথ্য অনুযায়ী, গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের স্কুলগুলোতে ২৩৫টি গুলির ঘটনা ঘটেছিল এবং চলতি বছর এখন পর্যন্ত অন্তত ১৪০টি ঘটনা ঘটেছে।

সূত্র: বিবিসি

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক