স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, চায়ের দোকানে গিয়ে স্বামী বললো ‘আমি মুক্ত’
রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় যুথি খাতুন (৩০) নামে এক নারীকে ধারালো হাঁসুয়া দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামী জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর চায়ের দোকানে গিয়ে স্ত্রীকে হত্যার কথা জানানোর পর অভিযুক্ত স্বামী পালিয়ে গেছেন।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার আড়ানী খোর্দ্দবাউসা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার মাঠে কাজ শেষে বাড়ি ফেরেন জহুরুল ইসলাম। এ সময় তাঁদের দেড় বছর বয়সী সন্তান জায়ান হোসেন কান্নাকাটি করছিল। শিশুটিকে থামানো নিয়ে স্ত্রী যুথির সঙ্গে জহুরুলের কথা-কাটাকাটি হয়। এর আগে ঋণের কিস্তির টাকা নিতে তাঁদের বাড়িতে আসা একটি বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) কর্মী গালমন্দ করে চলে যান বলেও জানা গেছে। এসব বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধের একপর্যায়ে জহুরুল ধারালো হাঁসুয়া দিয়ে যুথিকে কুপিয়ে হত্যা করেন বলে অভিযোগ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, স্ত্রীকে হত্যার পর জহুরুল বাড়ির পাশের খোর্দ্দবাউসা বাজারের একটি চায়ের দোকানে যান। সেখানে তিনি বলেন, ‘আমার আগে-পিছে কেউ নেই, আমি আজ থেকে মুক্ত।’ এরপর সেখান থেকে পালিয়ে যান তিনি।
জহুরুলের ভাই রুহুল হোসেন বলেন, তাঁদের সংসারে আর্থিক অনটন ছিল। কয়েকটি এনজিও থেকে ঋণ নেওয়া ছিল বলে তিনি শুনেছেন। মাঝেমধ্যে এনজিওর লোকজন বাড়িতে এসে ঋণের বিষয়ে কথা বলতেন। ঘটনার আগের দিন যুথি তাঁর নানার বাড়ি থেকে ঘুরে এসেছিলেন। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কও ভালো ছিল বলে জানান তিনি।
রুহুল হোসেন আরও বলেন, তাঁদের দুই সন্তান রয়েছে। বড় ছেলে জিহাদ হোসেনের বয়স সাত বছর এবং ছোট ছেলে জায়ান হোসেনের বয়স দেড় বছর। তবে বুধবার তাঁর ভাই এভাবে স্ত্রীকে হত্যা করবেন, তা তিনি কল্পনাও করতে পারেননি।
বাঘা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সুপ্রভাত মন্ডল বলেন, ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।










