শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

মালয়েশিয়া মেরদেকার সুরে উৎসবে পতাকা-পোশাক-গানে দেশপ্রেম

আহমাদুল কবির মালয়েশিয়া প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ৩:১২ পিএম
মালয়েশিয়া মেরদেকার সুরে উৎসবে পতাকা-পোশাক-গানে দেশপ্রেম

লাল-সাদা-নীল রঙে সেজেছে পুরো মালয়েশিয়া। বাড়ির ছাদ, দোকান, অফিস, সড়ক কিংবা আবাসিক এলাকা—সবখানেই উড়ছে জাতীয় পতাকা ‘জালুর জেমিলাং’। কোথাও পতাকার আদলে বর্ণিল সাজসজ্জা, কোথাও দেশাত্মবোধক গানের সুর। শিশু থেকে প্রবীণ সব বয়সী মানুষই ব্যস্ত ৩১ আগস্টের জাতীয় দিবস ‘মেরদেকা’ উদযাপনের প্রস্তুতিতে।

মেরদেকার আর মাত্র একদিন বাকি। এরই মধ্যে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে উৎসবের আবহ। পুরোনো দেশাত্মবোধক গানের সুরে জেগে উঠছে স্বাধীনতার স্মৃতি, পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের কণ্ঠে যুক্ত হচ্ছে নতুন গান। পতাকা, গান, পোশাক ও নানা ব্যতিক্রমী উদ্যোগে যেন একটাই বার্তা দেশপ্রেম কোনো নির্দিষ্ট দিনের আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বহমান এক অনুভূতি।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

দশকের পর দশক ধরে মালয়েশীয়দের হৃদয়ে জায়গা করে আছে ‘৩১ আগস্ট’, ‘ঐতিহ্য’, ‘আনুগত্য’, ‘স্বাধীনতার নৌযাত্রা’, ‘আমি মালয়েশিয়ার সন্তান’ ও ‘জালুর জেমিলাং’-এর মতো দেশাত্মবোধক গান। আগস্ট এলেই রেডিও, টেলিভিশন, স্কুল ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানস্থলে আবারও বেজে ওঠে এসব গান। সহজ সুর ও আবেগঘন কথার কারণে গানগুলো এখনো মানুষের মুখে মুখে ফেরে।

বিশিষ্ট মালয়েশীয় সুরকার দাতুক মোখজানি ইসমাইলের মতে, ১৯৫০-এর দশক থেকে দেশটিতে শত শত দেশাত্মবোধক গান তৈরি হয়েছে। জাতীয় দিবসের প্রতিপাদ্য সংগীত চালুর প্রচলন শুরু হয় ১৯৭০ সালে। এরপর বিভিন্ন সময়ে অসংখ্য দেশাত্মবোধক গান তৈরি হয়েছে। কোনো কোনো বছর জাতীয় দিবস ও মালয়েশিয়া দিবসের জন্য একই গানও ব্যবহার করা হয়েছে।

এবারের জাতীয় দিবসের প্রতিপাদ্য সংগীত ‘আমি অঙ্গীকার করছি’ লিখেছেন ও গেয়েছেন জনপ্রিয় শিল্পী ফাইজাল তাহির। নতুন এ গানও এরই মধ্যে শ্রোতাদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে।

মোখজানি বলেন, পুরোনো দেশাত্মবোধক গানগুলোর জনপ্রিয়তার পেছনে রয়েছে স্মৃতিকাতরতা, নিয়মিত প্রচার এবং সহজে মনে থাকার মতো সুর ও কথা। কোনো গানের প্রথম কয়েকটি সুর শুনলেই মানুষের মধ্যে আবেগ তৈরি হয় এবং জেগে ওঠে দেশপ্রেমের চেতনা।

তবে নতুন গান দ্রুত জনপ্রিয় হওয়া কঠিন বলে মনে করেন তিনি। তার ভাষ্য, ভালো গান দ্রুত মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হলেও দীর্ঘদিন ধরে মানুষের স্মৃতিতে জায়গা করে নিতে নিয়মিত প্রচার প্রয়োজন। জাতীয় দিবসের সময় নতুন গান ব্যাপকভাবে প্রচার পেলেও উৎসব শেষ হওয়ার পর অনেক গানই রেডিও-টেলিভিশন থেকে হারিয়ে যায়। পরের বছর নতুন গান আসায় পুরোনোগুলোর প্রচার আরও কমে যায়।

তরুণ শিল্পী ও সুরকারদের দেশাত্মবোধক গান তৈরির আগ্রহকে অবশ্য ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন মোখজানি। এরনি জাকরি, খাই বাহার, আইনা আবদুল, স্ট্যাসি, ফাইজাল তাহির ও দাতুক সেরি সিতি নূরহালিজার মতো জনপ্রিয় শিল্পীদের দেশাত্মবোধক গানে সম্পৃক্ততাকেও তিনি আশাব্যঞ্জক বলে মনে করেন।

আতুক মেরদেকা’র দেশপ্রেম

জাতীয় পতাকা এখন অনেকের কাছেই শুধু একটি প্রতীক নয়; দেশপ্রেম প্রকাশের মাধ্যম। এর ব্যতিক্রমী উদাহরণ ৬৬ বছর বয়সী সাহরান হুসিন। মেরদেকা মাসজুড়ে জাতীয় পতাকার নকশাখচিত পোশাক পরে ফল বিক্রি করছেন তিনি। মাথায় থাকে একই নকশার বিশেষ টুপি। ব্যতিক্রমী পোশাকের কারণে শিশুদের কাছে তিনি পরিচিত হয়ে উঠেছেন ‘আতুক মেরদেকা’ অর্থাৎ ‘মেরদেকার দাদু’ নামে।

কুয়ালা পিলাহ কৃষক বাজারে এক অনুষ্ঠানে সাহরান বলেন, কাউকে দেখানোর জন্য নয়, মানুষের মধ্যে দেশপ্রেমের চেতনা জাগিয়ে তুলতেই তিনি এভাবে পোশাক পরেন।

তার ভাষায়, ‘আমার বিশ্বাস, প্রত্যেকের হৃদয়ে মেরদেকার চেতনা থাকা উচিত। শিশুরা আমাকে দেখলে “আতুক মেরদেকা” বলে ডাকে। আমার পোশাকের প্রশংসা করে। এতে আমার খুব ভালো লাগে।

শিশুদেরও জাতীয় পতাকার নকশাখচিত পোশাক পরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পরেরবার তোমরাও এ ধরনের পোশাক পরবে।’ সাহরানের এ উদ্যোগে সহযোগিতা করেছেন তামপিনের এক বন্ধু। জাতীয় পতাকা কেটে সেলাই করে তিনিই তৈরি করে দিয়েছেন বিশেষ টুপিটি।

সাজসজ্জায় সম্প্রীতির বার্তা

তেরেংগানুর ফেলদা বেলারায়ও জাতীয় মাস ঘিরে চলছে ব্যতিক্রমী আয়োজন। ‘উজ্জ্বলতায় মেরদেকার উৎসব’ প্রতিপাদ্যে ১০টি আবাসিক ব্লক সাজিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করেছেন এক হাজারের বেশি বাসিন্দা।

প্রায় ১০ বছর ধরে জাতীয় দিবস উপলক্ষে এ আয়োজন করে আসছে স্থানীয় সম্প্রদায়। প্রতিটি ব্লকে রয়েছে প্রায় ২৩টি বাড়ি। সাজসজ্জার জন্য প্রতিটি ব্লককে দেওয়া হয়েছে ৪০০ রিঙ্গিত করে। এর পাশাপাশি অনেক বাসিন্দা নিজেদের অর্থ ব্যয় করছেন।

আয়োজক মোহাম্মদ নূর ইসমাইল বলেন, শিশু, তরুণ ও প্রবীণ সব বয়সী মানুষ একসঙ্গে এ কাজে অংশ নিচ্ছেন। পুরোনো টায়ার, প্লাস্টিকের বোতলসহ পুনর্ব্যবহারযোগ্য সামগ্রী দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে আকর্ষণীয় সাজসজ্জা। ফলে জাতীয় দিবস উদযাপনের পাশাপাশি পরিবেশ সচেতনতার বার্তাও ছড়িয়ে পড়ছে।

তার মতে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ছোটবেলা থেকেই শিশুদের মধ্যে দেশপ্রেমের চেতনা তৈরি করা। এখন প্রায় প্রতিটি বাড়ি ও ভবনেই উড়ছে জাতীয় পতাকা।

সারা বছর দেশাত্মবোধক গান

বিশিষ্ট গীতিকার দাতুক হাসবাহ হাসান মনে করেন, দেশাত্মবোধক গানকে জনপ্রিয় করতে সারা বছর প্রচারের ব্যবস্থা করা দরকার। শুধু সরকারি গণমাধ্যমের ওপর এ দায়িত্ব ছেড়ে দিলে হবে না। বেসরকারি সম্প্রচারমাধ্যমের পাশাপাশি শপিং মল, হোটেল, বিমানবন্দর ও গণপরিবহণেও সারা বছর এসব গান বাজানো উচিত।

তার মতে, নিয়মিত শুনতে শুনতে একসময় দেশাত্মবোধক গান মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠবে। তরুণ প্রজন্মও স্বতঃস্ফূর্তভাবে এসব গানের সঙ্গে গলা মেলাবে।

পতাকার রঙে, গানের সুরে, ঘর সাজানোর আনন্দে কিংবা ‘আতুক মেরদেকা’র ব্যতিক্রমী পোশাকে মালয়েশিয়ায় মেরদেকা এখন দেশপ্রেম প্রকাশের বহুমাত্রিক উৎসব। সাধারণ মানুষ, শিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের ছোট ছোট উদ্যোগে নতুন প্রজন্মের কাছেও পৌঁছে যাচ্ছে স্বাধীনতার চেতনা।

১৯৫৭ সালের ৩১ আগস্ট ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতা অর্জন করে মালয়েশিয়া। সেই ঐতিহাসিক দিনটি দেশটিতে ‘মেরদেকা দিবস’ হিসেবে পালিত হয়। স্বাধীনতার ৬৯ বছর পূর্তির প্রাক্কালে এবারও পতাকা, গান আর মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মেরদেকার সুরে মুখরিত হয়ে উঠবে পুরো মালয়েশিয়া।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৯ এম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯ জনে। এর মধ্যে আগস্ট মাসে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৩ দিনে মারা গেছেন ১১২ জন। এছাড়া জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বুলেটিনে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৭৮২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৪৯ জনে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ৭৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৩ হাজার ৮৭৪ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৭১৬ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৮ জন, খুলনায় ২৮৬ জন, বরিশালে ১৬৪ জন, রাজশাহীতে ১৩০ জন, ময়মনসিংহে ১০৮ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ এম
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত বন্ধে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে ফিলিস্তিনসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, “স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে।”

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, “আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায় তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।”

যুদ্ধ-সংঘাতে বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট

ভাষণে বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের প্রভাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে একের পর এক মানবিক সংকট।

যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিও তীব্র চাপের মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

সংঘাতের সমাধান আলোচনায়, কূটনীতিতে

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের সমাধানে সামরিক শক্তির পরিবর্তে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে হওয়া উচিত।

বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের প্রত্যাশা এমন একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয়; বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা।”

জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে সমঝোতামূলক বিশ্ব

একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জাতিসংঘকে দেখতে চায় বাংলাদেশ—ভাষণে এমন প্রত্যাশার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিশ্বের এক প্রান্তের সংঘাত ও সংকট অন্য প্রান্তের দেশগুলোকেও প্রভাবিত করে। এ বাস্তবতায় পারস্পরিক সহযোগিতা, কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

উন্নয়নের অর্থ সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ সামরিক ব্যয়ে স্থানান্তরের প্রবণতাকে বিশ্বশান্তির পথে অন্যতম বাধা হিসেবে তুলে ধরেন তারেক রহমান।

শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের ভূমিকার বার্তা

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথাও ভাষণে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা মানবতার সেবায় কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে।

ভাষণের শেষদিকে বিশ্ব মানবতা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের যেকোনো উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।

আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান, কূটনীতি ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ চায় ডিসিসিআই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৬ এম
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ চায় ডিসিসিআই

বাংলাদেশের জ্বালানি, নবায়নযোগ্য শক্তি ও বিনিয়োগ খাতে সহযোগিতা বাড়াতে মালয়েশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন ও যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ।

বৃহস্পতিবার কুয়ালালামপুরের একটি হোটেলে মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী লিউ চিন টংয়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব আহ্বান জানান।

সাক্ষাৎকালে তাসকীন আহমেদ বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মোট বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। দুই দেশের বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণে নতুন নতুন অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি এবং সরকার পর্যায়ে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। পারস্পরিক আস্থা, অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি জ্বালানি সরবরাহ, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি প্রণোদনা ও বিনিয়োগ সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তারা এ খাতে বিনিয়োগ করতে পারেন।

এ খাতে দীর্ঘমেয়াদি ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে মালয়েশিয়া সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। পাশাপাশি প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের সহযোগিতা আরও কার্যকর ও টেকসই করা সম্ভব বলে মত দেন।

এ সময় মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী লিউ চিন টং বলেন, দেশটির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে বিপুলসংখ্যক দক্ষ জনবলের চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশের বৃহৎ তরুণ জনগোষ্ঠীকে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে তাদের জন্য উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে আন্তর্জাতিক লেনদেন ব্যবস্থা আরও আধুনিক করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ইসলামিক ফাইন্যান্সিংয়ের সম্প্রসারণ, উদ্ভাবনী আর্থিক পণ্য তৈরি এবং কার্যকর আর্থিক অবকাঠামো গড়ে তুলতে মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা ও মডেল বাংলাদেশের জন্য অনুসরণযোগ্য হতে পারে।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) খাতের সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন তাসকীন আহমেদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের এমএফএস মডেল বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে। মালয়েশিয়াও বাংলাদেশের এ খাতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারে।
ডিসিসিআই সভাপতি আরও বলেন, বাংলাদেশ প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য আমদানি করে। ফলে দেশটি একটি বড় ও সম্ভাবনাময় ভোক্তা বাজারে পরিণত হয়েছে। এই বাজারের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে মালয়েশিয়ার রপ্তানিকারকদের বাংলাদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং রপ্তানি বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

তিনি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব জোরদার, পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং পারস্পরিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন।
সাক্ষাৎকালে ডিসিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী ও সহ-সভাপতি সালিম সোলায়মান উপস্থিত ছিলেন।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক