বার্সেলোনায় ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষায় ৬৩ হাজার মানুষ
বার্সেলোনায় ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। শহরটিতে বর্তমানে প্রায় ৬৩ হাজার মানুষ ড্রাইভিং পরীক্ষার অপেক্ষমাণ তালিকায় রয়েছেন। গত চার বছরে এই সংখ্যা প্রায় ৩৪ শতাংশ বেড়েছে। অনেক শিক্ষার্থী লিখিত পরীক্ষায় পাস করার পরও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ বা পরীক্ষার জন্য কয়েক মাস অপেক্ষা করতে বাধ্য হচ্ছেন। কারও কারও ক্ষেত্রে প্রথম ড্রাইভিং ক্লাসের জন্যও প্রায় ছয় মাস অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
বিষয়টি আরও উদ্বেগের কারণ, স্পেনে ড্রাইভিং লাইসেন্সের থিওরি পরীক্ষায় পাস করার পর সেটি দুই বছর পর্যন্ত বৈধ থাকে। এই সময়ের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা পাস করতে না পারলে আবার থিওরি পরীক্ষা দিতে হতে পারে। ফলে দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে অনেক শিক্ষার্থী সময়ের চাপের মধ্যে পড়ছেন।
বার্সেলোনার ড্রাইভিং স্কুলগুলোর সংগঠন Federació d’Autoescoles de Barcelona বা FAB-এর মতে, এই সংকটের অন্যতম প্রধান কারণ হলো পর্যাপ্ত পরীক্ষকের অভাব। পাশাপাশি DGT-এর অফিসগুলোতেও প্রশাসনিক কর্মীর ঘাটতি রয়েছে। FAB-এর প্রেসিডেন্ট তেরেসা কোলের অভিযোগ, অনেক সময় পরীক্ষকদেরই প্রশাসনিক কাজ করতে হচ্ছে। ফলে তারা পরীক্ষার বদলে অফিসের কাজেই সময় ব্যয় করছেন এবং এতে অপেক্ষার তালিকা আরও দীর্ঘ হচ্ছে।
তবে সংকটের পরিসর নিয়ে DGT এবং ড্রাইভিং স্কুলগুলোর হিসাবের মধ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে। ড্রাইভিং স্কুলগুলোর হিসাবে বার্সেলোনায় প্রায় ৬৩ হাজার শিক্ষার্থী অপেক্ষায় থাকলেও DGT জানিয়েছে, ২০২৬ সালের জুনে বিশেষ অতিরিক্ত পরীক্ষার কর্মসূচিতে তাদের মধ্যে মাত্র ১ হাজার ৪৫০ জনকে পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত অবস্থায় উপস্থাপন করা হয়েছিল। অর্থাৎ, অপেক্ষমাণ তালিকার সবাই যে একই সময়ে ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত, তা নয়। তবে উভয় পক্ষই স্বীকার করছে যে পরীক্ষার সক্ষমতার ওপর বড় ধরনের চাপ রয়েছে।
সমস্যা সমাধানে DGT অতিরিক্ত পরীক্ষক নিয়োগ ও বিশেষ পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে। ২০২৬ সালে Plan de Refuerzo Operativo de Exámenes নামে একটি বিশেষ কর্মসূচির মাধ্যমে অতিরিক্ত দিনে ব্যবহারিক পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বার্সেলোনায় জুন মাসে শনিবারেও অতিরিক্ত পরীক্ষা নেওয়ার উদ্যোগ ছিল, যাতে অপেক্ষমাণ শিক্ষার্থীদের সংখ্যা কমানো যায়।
কিন্তু নতুন পরীক্ষক নিয়োগ করাও সহজ হচ্ছে না। FAB-এর দাবি, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বার্সেলোনার জন্য ২২ জন পরীক্ষক বরাদ্দ থাকলেও শেষ পর্যন্ত মাত্র ছয়জন সেখানে যোগ দিয়েছিলেন। সংগঠনটির মতে, বার্সেলোনায় জীবনযাত্রার ব্যয় বেশি হওয়ায় অনেক নতুন পরীক্ষক শহরটিকে আকর্ষণীয় কর্মস্থল হিসেবে বিবেচনা করছেন না। ফলে কাগজে পরীক্ষকের সংখ্যা বাড়লেও বাস্তবে প্রয়োজনীয় জনবল পাওয়া যাচ্ছে না।
এই সংকটের প্রভাব পড়ছে ড্রাইভিং স্কুলগুলোর ব্যবসায়ও। দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে অনেক শিক্ষার্থী অপেক্ষার তালিকা কম এমন অন্য শহর বা এলাকায় চলে যাচ্ছেন। ফলে বার্সেলোনার অনেক ড্রাইভিং স্কুলে শিক্ষার্থী কমছে, আয়ও কমছে। FAB-এর হিসাবে, গত পাঁচ বছরে কাতালোনিয়ায় ৭৯টি ড্রাইভিং স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে।
ড্রাইভিং স্কুলগুলোর মতে, সমস্যা শুধু পরীক্ষকের ঘাটতিতে সীমাবদ্ধ নয়। প্রশাসনিক কর্মীর সংখ্যা বাড়ানো, পরীক্ষকদের বার্সেলোনায় ধরে রাখা এবং পরীক্ষার পুরো ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানো—সবকিছু একসঙ্গে করতে হবে। তাদের দাবি, চাহিদা অনেক বেড়ে গেলেও পুরোনো ব্যবস্থার সক্ষমতা সেই অনুপাতে বাড়েনি। ফলে বর্তমান সংকট কাটাতে ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষার পুরো ব্যবস্থাকে নতুন করে সাজানোর প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
বার্সেলোনায় ড্রাইভিং লাইসেন্স এখন শুধু একটি পরীক্ষা পাস করার বিষয় নয়; অনেক শিক্ষার্থীর জন্য এটি দীর্ঘ অপেক্ষা, অনিশ্চয়তা এবং বাড়তি খরচের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। DGT-এর নতুন উদ্যোগগুলো আগামী মাসগুলোতে কতটা কার্যকর হয়, তার ওপরই নির্ভর করবে এই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান কত দ্রুত সম্ভব।













