শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে ডানপন্থীদের উদ্বেগ

স্পেনের সেউতা সংকট ঘিরে ইউরোপে তীব্র বিতর্ক

মিরন নাজমুল বার্সেলোনা প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৩৯ পিএম
স্পেনের সেউতা সংকট ঘিরে ইউরোপে তীব্র বিতর্ক

স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ভূখণ্ড সেউতায় মরক্কো থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রবেশের ঘটনা ইউরোপে অভিবাসন ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। ঘটনাটি নিয়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক মহলে কঠোর সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের দাবি উঠলেও, সেউতার এই ঘটনাকে সরাসরি ধর্মীয় কোনো সংকট হিসেবে দেখার বিষয়ে সতর্ক থাকার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

সেউতায় সাম্প্রতিক সীমান্ত পরিস্থিতিতে মরক্কো থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রবেশের চেষ্টা করেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক হিসাবে সংখ্যাটি প্রায় ৬০ হাজার হলেও পরবর্তী বিভিন্ন প্রতিবেদনে এ সংখ্যা আরও বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। রয়টার্সের ৭ আগস্টের প্রতিবেদনে সেউতায় প্রবেশকারীর সংখ্যা প্রায় ৭২ হাজার বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একই ঘটনায় বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে; সেউতার প্রেসিডেন্ট পরবর্তীতে মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ১০০ বলে জানিয়েছেন।
বিপুলসংখ্যক মানুষের হঠাৎ আগমনে ছোট এই ভূখণ্ডে খাদ্য, আশ্রয়, চিকিৎসা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়।

ঘটনার পর স্পেন সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ জোরদার করে। অনেক প্রাপ্তবয়স্ক অভিবাসী পরে মরক্কোতে ফিরে গেলেও শিশু ও কিশোরসহ কিছু মানুষ সেউতায় থেকে যায়। এ পরিস্থিতিতে অপ্রাপ্তবয়স্কদের শনাক্তকরণ ও প্রত্যাবাসন নিয়েও স্পেন ও মরক্কোর মধ্যে আলোচনা হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

অভিবাসন ইস্যুতে কেন মুসলিম জনসংখ্যার প্রসঙ্গ:
ইউরোপে মুসলিম জনসংখ্যা গত এক দশকে বেড়েছে—এটি পরিসংখ্যানভিত্তিক তথ্য। Pew Research Center-এর ২০২৫ সালের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০১০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে ইউরোপে মুসলিম জনসংখ্যা ১৬ শতাংশ বেড়ে প্রায় ৪ কোটি ৬০ লাখে পৌঁছায়। তবে মোট জনসংখ্যার অনুপাতে এই বৃদ্ধি ছিল এক শতাংশেরও কম; ২০২০ সালে ইউরোপের প্রায় ৬ শতাংশ মানুষ মুসলিম ছিলেন। গবেষণাটিতে আরও বলা হয়েছে, এই বৃদ্ধির বড় একটি অংশ অভিবাসনের সঙ্গে সম্পর্কিত, বিশেষ করে সিরিয়াসহ মুসলিম-অধ্যুষিত দেশগুলো থেকে ইউরোপে আসা মানুষের কারণে।

এই জনমিতিক পরিবর্তন ইউরোপের অভিবাসন ও পরিচয় রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে ডানপন্থী ও কট্টর ডানপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর একটি অংশ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং ইউরোপীয় সাংস্কৃতিক পরিচয় রক্ষার আলোচনায় মুসলিম অভিবাসনকে গুরুত্ব দিয়ে থাকে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের বিভিন্ন নথিতেও ইউরোপে ডানপন্থী রাজনৈতিক শক্তির উত্থান এবং তাদের অভিবাসন ও একীভূতকরণ নীতিকে কঠোর করার দাবির বিষয়টি উঠে এসেছে।

তবে মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং ইসলামপন্থী উগ্রবাদকে এক বিষয় হিসেবে দেখা ঠিক নয়। ইউরোপে বসবাসকারী মুসলিমদের বিপুল অংশ সাধারণ নাগরিক, কর্মজীবী, শিক্ষার্থী বা দীর্ঘদিনের বাসিন্দা। ইউরোপীয় ইউনিয়নের মৌলিক অধিকার সংস্থা (FRA) ২০২৪ সালের এক প্রতিবেদনে ১৩টি দেশে প্রায় ১০ হাজার মুসলিমের অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করে জানিয়েছে, মুসলিমদের একটি বড় অংশ ধর্ম, ত্বকের রং বা জাতিগত পরিচয়ের কারণে বৈষম্য ও হয়রানির মুখোমুখি হচ্ছেন।

অন্যদিকে, কিছু ইউরোপীয় রাজনৈতিক গোষ্ঠী মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধি, অভিবাসন এবং ইসলামপন্থী রাজনৈতিক মতাদর্শ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ২০২০ সালে দাখিল করা একটি প্রশ্নেও মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও কিছু উগ্র ইসলামপন্থী গোষ্ঠীর বিস্তার নিয়ে উদ্বেগের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে এটি ছিল একজন ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্যের রাজনৈতিক প্রশ্ন; এটিকে ইউরোপের সব দেশের অভিন্ন অবস্থান হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।

ফলে সেউতা সংকটের প্রেক্ষাপটে মুসলিম জনসংখ্যার বিষয়টি আলোচনায় এলেও দুটি বিষয় আলাদা করে দেখা জরুরি: একদিকে অনিয়মিত অভিবাসন ও সীমান্ত নিরাপত্তার প্রশ্ন, অন্যদিকে ইউরোপের দীর্ঘমেয়াদি জনমিতিক পরিবর্তন। এই দুই বিষয়কে সরাসরি এক করে দেখলে বাস্তব পরিস্থিতির চেয়ে রাজনৈতিক ব্যাখ্যাই বেশি গুরুত্ব পেতে পারে।

মরক্কো মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হওয়ায় সেউতার ঘটনায় অভিবাসন ও ধর্মীয় পরিচয়ের বিষয়টি রাজনৈতিক আলোচনায় এসেছে। ইউরোপের কয়েকটি ডানপন্থী দল অনিয়মিত অভিবাসনের সঙ্গে মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টি যুক্ত করে কঠোর অভিবাসন নীতির দাবি করছে।

তবে অনিয়মিত অভিবাসন এবং মুসলিম পরিচয়কে এক করে দেখার সুযোগ নেই। ইউরোপের মুসলিম জনগোষ্ঠীর বড় একটি অংশ বহু বছর ধরে সেখানে বসবাস করছেন, অনেকে ওই দেশগুলোর নাগরিক এবং বিপুলসংখ্যক মানুষ বৈধভাবে কাজ ও ব্যবসা করছেন। ফলে কোনো সীমান্ত সংকটের দায় পুরো একটি ধর্মীয় জনগোষ্ঠীর ওপর চাপানো তথ্যভিত্তিক হবে না।

সেউতার ঘটনাতেও যারা মরক্কো থেকে প্রবেশের চেষ্টা করেছেন, তাদের প্রত্যেকের ধর্মীয় পরিচয় সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশিত হয়নি। তাই ঘটনাটিকে সরাসরি ‘ইসলামায়ন’ হিসেবে চিহ্নিত করার বদলে অনিয়মিত অভিবাসন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও মানবপাচারের দিকগুলো আলাদাভাবে দেখা জরুরি।

ইউরোপে মুসলিম জনসংখ্যার চিত্র:
ইউরোপের বিভিন্ন দেশে মুসলিম জনসংখ্যা গত কয়েক দশকে বেড়েছে। তবে দেশভেদে হিসাবের পদ্ধতি আলাদা হওয়ায় সংখ্যাগুলো তুলনা করার সময় সতর্কতা প্রয়োজন।

ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের ২০২১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, প্রায় ৩৯ লাখ মানুষ নিজেদের মুসলিম হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন, যা মোট জনসংখ্যার ৬.৫ শতাংশ। জার্মানিতে মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় ৫৫ থেকে ৫৬ লাখ, যা মোট জনসংখ্যার আনুমানিক ৬ থেকে ৭ শতাংশের কাছাকাছি।

ফ্রান্সে ধর্মীয় পরিচয়ের তথ্য সরকারি আদমশুমারিতে নিয়মিতভাবে সংগ্রহ করা হয় না। বিভিন্ন গবেষণা ও জরিপে দেশটির মুসলিম জনসংখ্যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৮ থেকে ১০ শতাংশ বলে অনুমান করা হয়।

স্পেন ও ইতালিতে মুসলিম জনসংখ্যা আনুমানিক ৪ থেকে ৫ শতাংশের মধ্যে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। নেদারল্যান্ডস ও বেলজিয়ামেও উল্লেখযোগ্য মুসলিম জনগোষ্ঠী রয়েছে। সুইডেনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন গবেষণা ও সংজ্ঞা অনুযায়ী হিসাবের মধ্যে পার্থক্য দেখা যায়।

এই পরিসংখ্যানগুলো থেকে ইউরোপের মুসলিম জনসংখ্যার একটি সামগ্রিক ধারণা পাওয়া গেলেও এগুলোকে সরাসরি অনিয়মিত অভিবাসনের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা ঠিক নয়। কারণ মুসলিম জনসংখ্যার মধ্যে স্থানীয় নাগরিক, দ্বিতীয় বা তৃতীয় প্রজন্মের পরিবার এবং বৈধ অভিবাসী—সবাই রয়েছেন।

অভিবাসন নিয়ে ইউরোপের রাজনৈতিক চাপ:
সেউতার ঘটনা ইউরোপের অভিবাসন নীতির কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশ সীমান্ত সুরক্ষা বাড়ানোর পাশাপাশি মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছে।

স্পেনও মানবপাচার ও অনিয়মিতভাবে মানুষ ইউরোপে প্রবেশ করানোর সঙ্গে জড়িত চক্রগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে। ইউরোপীয় পর্যায়েও মরক্কোর মতো গুরুত্বপূর্ণ উৎস ও ট্রানজিট দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো মনে করিয়ে দিচ্ছে, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি আশ্রয়প্রার্থীদের অধিকার, শিশুদের সুরক্ষা এবং বিপজ্জনক সমুদ্রপথে মানুষের প্রাণহানি ঠেকানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পেতে হবে।

নিরাপত্তা ও মানবিকতার মধ্যে ভারসাম্য:
সেউতার ঘটনা ইউরোপের সামনে একটি কঠিন বাস্তবতা তুলে ধরেছে। একদিকে রাষ্ট্রগুলোর সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও অনিয়মিত প্রবেশ ঠেকানোর অধিকার রয়েছে। অন্যদিকে সাগরপথে বিপজ্জনক যাত্রা করা মানুষের জীবন রক্ষা এবং আশ্রয়প্রার্থীদের মানবিক অধিকার নিশ্চিত করাও জরুরি।

এ কারণে সেউতার ঘটনাকে শুধু অভিবাসন সংকট কিংবা শুধু ধর্মীয় পরিবর্তনের প্রশ্ন হিসেবে দেখলে পুরো পরিস্থিতি বোঝা কঠিন হবে। এর সঙ্গে সীমান্ত নিরাপত্তা, মানবপাচার, ইউরোপের শ্রমবাজার, জনমিতিক পরিবর্তন এবং শরণার্থী সুরক্ষার মতো একাধিক বিষয় জড়িত।

মুসলিম জনসংখ্যা নিয়ে ইউরোপে রাজনৈতিক বিতর্ক থাকতেই পারে। কিন্তু একটি ধর্মীয় জনগোষ্ঠীর সামগ্রিক উপস্থিতিকে অনিয়মিত অভিবাসন বা নিরাপত্তা ঝুঁকির সমার্থক হিসেবে দেখলে বিষয়টি যেমন বিভ্রান্তিকর হয়, তেমনি ইউরোপের অভিবাসন সমস্যার প্রকৃত কারণগুলোও আড়ালে পড়ে যায়।

সেউতার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি তাই ইউরোপের জন্য শুধু একটি সীমান্ত সংকট নয়; এটি অভিবাসন নীতি, মানবিক দায়িত্ব এবং রাজনৈতিক মেরুকরণের মধ্যে ভারসাম্য খোঁজারও একটি বড় পরীক্ষা।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৯ এম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯ জনে। এর মধ্যে আগস্ট মাসে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৩ দিনে মারা গেছেন ১১২ জন। এছাড়া জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বুলেটিনে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৭৮২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৪৯ জনে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ৭৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৩ হাজার ৮৭৪ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৭১৬ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৮ জন, খুলনায় ২৮৬ জন, বরিশালে ১৬৪ জন, রাজশাহীতে ১৩০ জন, ময়মনসিংহে ১০৮ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ এম
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত বন্ধে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে ফিলিস্তিনসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, “স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে।”

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, “আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায় তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।”

যুদ্ধ-সংঘাতে বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট

ভাষণে বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের প্রভাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে একের পর এক মানবিক সংকট।

যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিও তীব্র চাপের মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

সংঘাতের সমাধান আলোচনায়, কূটনীতিতে

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের সমাধানে সামরিক শক্তির পরিবর্তে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে হওয়া উচিত।

বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের প্রত্যাশা এমন একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয়; বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা।”

জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে সমঝোতামূলক বিশ্ব

একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জাতিসংঘকে দেখতে চায় বাংলাদেশ—ভাষণে এমন প্রত্যাশার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিশ্বের এক প্রান্তের সংঘাত ও সংকট অন্য প্রান্তের দেশগুলোকেও প্রভাবিত করে। এ বাস্তবতায় পারস্পরিক সহযোগিতা, কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

উন্নয়নের অর্থ সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ সামরিক ব্যয়ে স্থানান্তরের প্রবণতাকে বিশ্বশান্তির পথে অন্যতম বাধা হিসেবে তুলে ধরেন তারেক রহমান।

শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের ভূমিকার বার্তা

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথাও ভাষণে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা মানবতার সেবায় কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে।

ভাষণের শেষদিকে বিশ্ব মানবতা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের যেকোনো উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।

আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান, কূটনীতি ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ চায় ডিসিসিআই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৬ এম
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ চায় ডিসিসিআই

বাংলাদেশের জ্বালানি, নবায়নযোগ্য শক্তি ও বিনিয়োগ খাতে সহযোগিতা বাড়াতে মালয়েশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন ও যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ।

বৃহস্পতিবার কুয়ালালামপুরের একটি হোটেলে মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী লিউ চিন টংয়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব আহ্বান জানান।

সাক্ষাৎকালে তাসকীন আহমেদ বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মোট বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। দুই দেশের বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণে নতুন নতুন অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি এবং সরকার পর্যায়ে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। পারস্পরিক আস্থা, অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি জ্বালানি সরবরাহ, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি প্রণোদনা ও বিনিয়োগ সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তারা এ খাতে বিনিয়োগ করতে পারেন।

এ খাতে দীর্ঘমেয়াদি ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে মালয়েশিয়া সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। পাশাপাশি প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের সহযোগিতা আরও কার্যকর ও টেকসই করা সম্ভব বলে মত দেন।

এ সময় মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী লিউ চিন টং বলেন, দেশটির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে বিপুলসংখ্যক দক্ষ জনবলের চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশের বৃহৎ তরুণ জনগোষ্ঠীকে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে তাদের জন্য উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে আন্তর্জাতিক লেনদেন ব্যবস্থা আরও আধুনিক করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ইসলামিক ফাইন্যান্সিংয়ের সম্প্রসারণ, উদ্ভাবনী আর্থিক পণ্য তৈরি এবং কার্যকর আর্থিক অবকাঠামো গড়ে তুলতে মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা ও মডেল বাংলাদেশের জন্য অনুসরণযোগ্য হতে পারে।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) খাতের সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন তাসকীন আহমেদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের এমএফএস মডেল বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে। মালয়েশিয়াও বাংলাদেশের এ খাতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারে।
ডিসিসিআই সভাপতি আরও বলেন, বাংলাদেশ প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য আমদানি করে। ফলে দেশটি একটি বড় ও সম্ভাবনাময় ভোক্তা বাজারে পরিণত হয়েছে। এই বাজারের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে মালয়েশিয়ার রপ্তানিকারকদের বাংলাদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং রপ্তানি বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

তিনি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব জোরদার, পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং পারস্পরিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন।
সাক্ষাৎকালে ডিসিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী ও সহ-সভাপতি সালিম সোলায়মান উপস্থিত ছিলেন।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক