সিউটা সীমান্তে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সমুদ্রে ১৬০০ ফুটের প্রাচীর তুলবে স্পেন
স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ভূখণ্ড সিউটা সীমান্তে ব্যাপক অনুপ্রবেশের চেষ্টার পর সমুদ্রপথে ৫০০ মিটার (প্রায় ১ হাজার ৬০০ ফুট) দীর্ঘ প্রতিরোধক প্রাচীর নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার।
স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে সিউটা ও মরক্কোর সীমান্ত দিয়ে ৫০ থেকে ৬০ হাজার অভিবাসী স্পেনে প্রবেশের চেষ্টা চালায়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৭ জনে পৌঁছেছে। নিহতদের অনেকেই সাগরে ডুবে মারা গেছেন, আবার কেউ কেউ সীমান্তের প্রতিবন্ধক পার হওয়ার সময় পদদলিত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন।
শনিবার (২ আগস্ট) সকালে সাঁতরে সিউটার তারাজাল সৈকতে পৌঁছানো বহু ক্লান্ত অভিবাসীকে স্প্যানিশ নিরাপত্তা বাহিনী আটক করে। পরে তাদের অধিকাংশকেই মরক্কোতে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সিউটা সফরকালে স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কা বলেন, সীমান্ত আইন লঙ্ঘনের চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, মরক্কো স্পেনের জন্য কোনো হুমকি নয়; বরং একটি নির্ভরযোগ্য অংশীদার। দুই দেশের সমন্বিত পদক্ষেপেই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।
কয়েক দিনের টানা অস্থিরতার পর সিউটায় পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও স্বাভাবিকতা এখনো পুরোপুরি ফিরে আসেনি। সিউটার প্রেসিডেন্ট হুয়ান হেসুস ভিভাস বলেন, এই অনুপ্রবেশের ঘটনায় শহরের স্বাভাবিক জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। সীমান্ত অতিক্রমকারীদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শেষ হলেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
এদিকে সীমান্ত থেকে ফিরে আসা হাজারো মানুষের ভিড়ে মরক্কোর তাঞ্জিয়ার রেলস্টেশন ও ফনিদেক এলাকার সড়কে মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। কঠোর পুলিশি নজরদারি ও খাদ্যসংকটের মধ্যেও অনেক অভিবাসী সিউটায় প্রবেশের চেষ্টা থেকে সরে আসতে রাজি নন।













