মিশরে ঈদে মিলাদুন্নবী, যোগ দিলেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা
পবিত্র কুরআনে মিশর (مصر) শব্দটি পাঁচবার উল্লেখিত হয়েছে। এই দেশে যেমন জন্ম নিয়েছিলেন ফেরাউন, তেমনি জন্মগ্রহণ করেছেন নবী মুসা (আঃ)-সহ বহু নবী ও রাসূল। যদিও সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন, তাঁর একজন সহধর্মিণী ছিলেন মিশরীয়।
গতকাল (বৃহস্পতিবার) দেশটিতে গভীর শ্রদ্ধা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ১৫০০তম জন্মদিন ‘ঈদে মিলাদুন্নবী’।

১২ই রবিউল আওয়াল উপলক্ষে ইসলামী কায়রোর ঐতিহাসিক সাইয়্যিদ হোসেন (রাঃ) মসজিদ ও বিখ্যাত আল-আজহার মসজিদে বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে দেশটির সুফি তরীকার অনুসারীরা পালন করে বিশেষ এই দিনটি।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ড. সালামা জুমা দাউদ। আরও উপস্থিত ছিলেন আল-আজহারের প্রতিনিধি ড. মুহাম্মদ আল-জুয়াইনি, মিশরের দারুল ইফতার প্রধান মুফতি ড. নজীর আয়াদ, কায়রো সিটির গভর্নর ড. ইব্রাহিম সাবের, সুফি তরীকার শায়খ ড. আবদুল হাদি আল-কাসাবি, সাবেক প্রধান মুফতি ড. আলী জুমা এবং ইসলামী গবেষণা কমপ্লেক্সের মহাসচিব ড. মুহাম্মদ আবদুল-দাইম আল-জুন্দি। এছাড়াও হাজারো ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও বিশিষ্টজন এতে অংশগ্রহণ করেন।
এবারের আয়োজনে বিশেষ ভাবে অংশ নেয় মিশরে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সুফি সংগঠন ‘আহলুস সুন্নত ওয়াল জামায়াত বাংলাদেশ’। তারা নিজেদের ব্যানারে প্রথমবারের মতো জশনে জুলুসে অংশগ্রহণ করে। “যিকরে মাওলুদুন্নবী ﷺ” শীর্ষক র্যালিটি শুরু হয় সলেহ জা’ফারি (রহ.) প্রাঙ্গণ থেকে এবং শেষ হয় সাইয়্যিদুনা ইমাম হোসাইন (রা.) মসজিদে)।জুলুস শেষে ইমাম হোসাইন (রা.)- এর মাজার শরিফে আহলুস সুন্নত ওয়াল জামায়াত মিশর-বাংলাদেশ শাখার সহ-সভাপতি আম্মার হোসাইন মিমন আল-আজহারীর মোনাজাতের মাধ্যমে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে।

এ সময় ড. আলী জুমা তাঁর বক্তব্যে বলেন, “প্রিয় নবী (সা.)-এর জন্ম মানবতার জন্য রহমত, নূর ও হিদায়াতের উৎস।” তিনি আরও ঘোষণা দেন “মুহাম্মাদী আখলাক প্রকল্প” উদ্বোধনের, যার মূল লক্ষ্য হলো কর্ম, দয়া, সৎকর্ম, সততা ও নিষ্ঠা—এই পাঁচটি আদর্শ সমাজে প্রতিষ্ঠা করা।
অন্যান্য বক্তারাও নবী করিম (সা.)-এর জন্মের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, তাঁর আগমন মানবতাকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে পরিচালিত করেছে এবং সমগ্র দুনিয়ায় এনে দিয়েছে মুক্তি ও সঠিক দিশা।













