ইতিহাস গড়া দম্পতিকে নিয়ে মালয়েশিয়াজুড়ে উদযাপন
শতকের ঘরে মালয়েশিয়ার পাওয়ার কাপল মাহাথির ১০১, সিতি হাসমাহ ১০০
মালয়েশিয়ার রাজনীতির জীবন্ত কিংবদন্তি এবং দেশটির আধুনিকায়নের রূপকার মাহাথির মোহাম্মদ শুক্রবার (১০ জুলাই) ১০১ বছরে পদার্পণ করেছেন। আর তার আজীবনের সঙ্গী, বিশিষ্ট চিকিৎসক সিতি হাসমাহ আগামী রোববার (১২ জুলাই) শতবর্ষে পা রাখতে যাচ্ছেন। ফলে মালয়েশিয়াজুড়ে এই দম্পতিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে বিশেষ আবেগ ও উদযাপনের পরিবেশ।
মাহাথিরের ১০১তম জন্মদিন উপলক্ষে তার অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করা হয়েছে বিশেষ একটি পোস্টার। সোনালি রঙের ‘১০১’ সংখ্যা ও #Mahathir101 হ্যাশট্যাগ সম্বলিত পোস্টটি প্রকাশের পরপরই হাজারো মানুষ শুভেচ্ছা ও দোয়ার বার্তায় ভরিয়ে দেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম।
১৯২৫ সালের ১০ জুলাই কেদাহ রাজ্যের আলোর সেতারে জন্ম নেওয়া মাহাথির চিকিৎসক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও পরবর্তীতে রাজনীতিতে এসে বদলে দেন মালয়েশিয়ার ইতিহাস। ১৯৮১ সালে দেশটির চতুর্থ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে টানা ২২ বছর দেশ পরিচালনা করেন তিনি। তার নেতৃত্বেই গড়ে ওঠে বিশ্বের অন্যতম আইকনিক স্থাপনা পেট্রোনাস টুইন টাওয়ার, কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (কেএলআইএ) এবং মাল্টিমিডিয়া সুপার করিডোর।
শুধু তাই নয়, ‘ভিশন ২০২০’-এর মাধ্যমে উন্নত মালয়েশিয়া গঠনের স্বপ্ন দেখান তিনি এবং জাতীয় গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান প্রোটনের বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এসব অবদানের জন্য তাকে আজও ‘মালয়েশিয়ার আধুনিকায়নের জনক’ হিসেবে সম্মান করা হয়।
২০০৩ সালে ক্ষমতা ছাড়লেও রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে দূরে সরে যাননি মাহাথির। ২০১৮ সালের সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হয়ে ৯২ বছর বয়সে আবারও প্রধানমন্ত্রী হন তিনি। এর মাধ্যমে বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক সরকারপ্রধান হিসেবে ইতিহাস গড়েন এই বর্ষীয়ান নেতা।
অন্যদিকে, তার সহধর্মিণী ড. সিতি হাসমাহও নিজ গুণে মালয়েশিয়ার ইতিহাসে উজ্জ্বল এক নাম। ১৯২৬ সালের ১২ জুলাই জন্ম নেওয়া এই চিকিৎসক ছিলেন সিঙ্গাপুরের কিং এডওয়ার্ড সপ্তম কলেজ অব মেডিসিনের সেই সময়ের একমাত্র মালয় নারী শিক্ষার্থী। ১৯৫৬ সালে মাহাথিরের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পরও তিনি জনস্বাস্থ্য খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন।
মা ও শিশুস্বাস্থ্য উন্নয়নে অসামান্য ভূমিকার জন্য ড. সিতি হাসমাহ মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য খাতে এক অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। ১৯৭৪ সালে দেশের ইতিহাসে প্রথম নারী হিসেবে রাজ্য মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য কর্মকর্তা পদে দায়িত্ব পালন করে তিনি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে জীবন, কর্ম এবং নেতৃত্বের মাধ্যমে অনুপ্রেরণা ছড়িয়ে যাওয়া এই দম্পতি আজও মালয়েশিয়ার মানুষের কাছে প্রেরণার প্রতীক। ১০১ বছরে মাহাথির এবং ১০০ বছরে সিতি হাসমাহ এ যেন ইতিহাসের পাতায় লেখা এক বিরল ভালোবাসা, সেবা ও নেতৃত্বের গল্প।










