শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চার বছরে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে আমূল পরিবর্তন, বাংলাদেশ থেকে ৪ লাখ কর্মীর পুরোনো রেকর্ড এখন ইতিহাস

আহমাদুল কবির মালয়েশিয়া প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ১০:৪০ পিএম
চার বছরে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে আমূল পরিবর্তন, বাংলাদেশ থেকে ৪ লাখ কর্মীর পুরোনো রেকর্ড এখন ইতিহাস

মাত্র চার বছরের ব্যবধানে মালয়েশিয়ার বিদেশি শ্রমবাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। একসময় যেখানে বাংলাদেশ ছিল সবচেয়ে বড় শ্রমশক্তি সরবরাহকারী দেশ, সেখানে এখন শীর্ষস্থান দখল করেছে ইন্দোনেশিয়া। একই সঙ্গে বিদেশি কর্মী নিয়োগের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে কমে এসেছে এবং পুরো নিয়োগব্যবস্থা দ্রুত ডিজিটাল ও কঠোর নিয়ন্ত্রণভিত্তিক কাঠামোয় রূপ নিচ্ছে।

মঙ্গলবার ৩০ জুন, মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি সাইফুদ্দিন নাসুশন ইসমাইল পার্লামেন্টে লিখিত জবাবে জানিয়েছেন, ২০২৫ সালে দেশটিতে মোট ৭৭ হাজার ৮০৭ জন বিদেশি কর্মী প্রবেশ করেছেন, যা ২০২৩ সালের তুলনায় প্রায় ৯১ শতাংশ কম।

এর মধ্যে ইন্দোনেশিয়া থেকে এসেছে ৩৫ হাজার ১১ জন (৪৫ শতাংশ), নেপাল থেকে ২৫ হাজার ২৬ জন (৩২.২ শতাংশ) এবং ভারত থেকে ৬ হাজার ২৪৫ জন (৮ শতাংশ)। বাংলাদেশ শীর্ষ তিন উৎস দেশের তালিকায় নেই।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

এই তথ্য দেন কোটা মেলাকা আসনের সংসদ সদস্য খু পোয়ে তিয়ং-এর প্রশ্নের লিখিত উত্তরে। প্রশ্নে ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিদেশি কর্মীদের দেশভিত্তিক ও খাতভিত্তিক আগমনের পরিসংখ্যান এবং ওয়ান-স্টপ সেন্টার ব্যবস্থার কার্যকারিতা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়েছিল।

কোভিড-১৯ পরবর্তী সময়ে ২০২২ সালে শ্রমবাজার পুনরায় খুলে দেওয়ার পর বাংলাদেশ থেকে ব্যাপক সংখ্যক কর্মী মালয়েশিয়ায় যান। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৩ সালে নতুন রেকর্ড গড়ে।

ইমিগ্রেশন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ওই বছর মোট ৮ লাখ ৬৭ হাজার ৭৩১ জন বিদেশি কর্মী মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করেন। এর মধ্যে বাংলাদেশ থেকেই যান ৩ লাখ ৯৭ হাজার ৫৪৮ জন, যা মোট আগমনের প্রায় ৪৬ শতাংশ। একই সময়ে নেপাল থেকে আসে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৮৯৫ জন এবং ইন্দোনেশিয়া থেকে ১ লাখ ২২ হাজার ৯০৮ জন কর্মী।

তবে এই রেকর্ড সংখ্যার আড়ালেই সামনে আসে অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়, সীমিতসংখ্যক রিক্রুটিং এজেন্সির প্রভাব, চাকরি না পাওয়া, ঋণের বোঝা এবং শ্রমিক শোষণের অভিযোগ। এসব বিষয় নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ তৈরি হয়।

২০২৪ সালের মাঝামাঝি মালয়েশিয়া সরকার নতুন বিদেশি কর্মী নিয়োগে কড়াকড়ি আরোপ করে। সরকার জানায়, বিদ্যমান কোটার ব্যবহার, শ্রমবাজারের ভারসাম্য এবং নিয়োগব্যবস্থার সংস্কার শেষ না হওয়া পর্যন্ত নতুন নিয়োগ সীমিত থাকবে। ফলে ওই বছর বিদেশি কর্মী আগমন কমে দাঁড়ায় ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৯৭২ জনে।

সেই বছর ইন্দোনেশিয়া থেকে আসে ১ লাখ ২৪ হাজার ১০৭ জন (৩৪.৮ শতাংশ), ভারত থেকে ৭৮ হাজার ৪৭৫ জন এবং কাজাখস্তান থেকে ৫১ হাজার ৩৬২ জন কর্মী।

২০২৫ সালে বিদেশি কর্মী আগমন আরও কমে দাঁড়ায় মাত্র ৭৭ হাজার ৮০৭ জনে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি নিয়োগদাতাদের বিদেশি কর্মী নিয়োগের হার কমে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয়। একই সঙ্গে সরকার নিয়োগব্যবস্থাকে আরও দক্ষ ও স্বচ্ছ করতে ধারাবাহিক সংস্কার চালিয়ে যাচ্ছে।

বর্তমানে বিদেশি কর্মীর কোটা আবেদন অনলাইনে গ্রহণ করা হচ্ছে। ফলে নিয়োগদাতাদের কেবল একবারই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাক্ষাৎকারে উপস্থিত হতে হচ্ছে। সরকারের মতে, এতে সময়, ব্যয় এবং প্রশাসনিক জটিলতা কমবে।

দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি কর্মী নিয়োগ ও ব্যবস্থাপনায় ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এফডব্লিউসিএমএস) ব্যবহৃত হলেও এর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

এদিকে ২০২৬ সালে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে ইউনিভার্সাল রিক্রুটমেন্ট অ্যাডভান্সড প্ল্যাটফর্ম (তুরাপ)। সরকারের দাবি, এটি নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর ও দ্রুত করবে। তবে কয়েকজন সংসদ সদস্য এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এর স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বাস্তবায়ন স্থগিত রেখে পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন।

দীর্ঘমেয়াদে সরকার ন্যাশনাল ইন্টিগ্রেটেড ইমিগ্রেশন সিস্টেম (নাইস) চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে। এর মাধ্যমে বিদেশি কর্মী নিয়োগ, ভিসা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং অভিবাসন-সংক্রান্ত সেবাগুলো একটি সমন্বিত ডিজিটাল কাঠামোর আওতায় আনা হবে।

অভিবাসন ও শ্রমবাজার বিশ্লেষকদের মতে, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে যে পরিবর্তন ঘটছে, তা সাময়িক নয়; বরং এটি দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত রূপান্তরের অংশ। তাদের মতে, ভবিষ্যতে কেবল বেশি সংখ্যক কর্মী পাঠাতে পারলেই হবে না। নিয়োগব্যবস্থার স্বচ্ছতা, আন্তর্জাতিক শ্রমমান অনুসরণ, প্রযুক্তিনির্ভর তথ্য যাচাই এবং কম অভিবাসন ব্যয় নিশ্চিত করতে পারলেই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা সম্ভব হবে।

বিশ্লেষকদের ভাষ্য, ২০২৩ সালের অভিজ্ঞতা থেকে মালয়েশিয়া সরকার বুঝতে পেরেছে যে অনিয়ন্ত্রিত নিয়োগ ভবিষ্যতে সামাজিক ও প্রশাসনিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই এখন তারা সংখ্যার চেয়ে গুণগত মান, দক্ষতা এবং নিয়ন্ত্রণকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

তাদের মতে, বাংলাদেশের জন্য এটি সতর্কবার্তা হলেও একই সঙ্গে নতুন সুযোগও। যদি দক্ষ কর্মী তৈরি, ব্যয় কমানো এবং স্বচ্ছ নিয়োগব্যবস্থা নিশ্চিত করা যায়, তাহলে বাংলাদেশ আবারও মালয়েশিয়ার অন্যতম প্রধান শ্রমশক্তির উৎস হয়ে উঠতে পারে।

মালয়েশিয়ায় কর্মরত প্রবাসীরা বলছেন, গত দুই বছরে নিয়োগ কমে যাওয়ায় শ্রমবাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে তারা এটিকে স্থায়ী সংকট হিসেবে দেখছেন না।

তাদের মতে, বর্তমানে মালয়েশিয়া সরকার নিয়োগব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করছে। নতুন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, কেন্দ্রীয় তথ্য যাচাই এবং কঠোর নিয়ন্ত্রণ চালু হওয়ার পর ধীরে ধীরে শ্রমবাজার আবারও স্থিতিশীল হবে।

ব্যবসায়ীদের মতে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো অভিবাসন ব্যয় কমানো, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং দুই দেশের মধ্যে নীতিগত সমন্বয় জোরদার করা। একই সঙ্গে তারা মনে করেন, সরকার ও বেসরকারি খাত একসঙ্গে কাজ করলে বাংলাদেশ আবারও মালয়েশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শ্রমশক্তি সরবরাহকারী দেশে পরিণত হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সামনে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ রয়েছে, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক নিয়োগব্যবস্থা নিশ্চিত করা। কর্মী পাঠানোর ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে অতিরিক্ত ঋণের বোঝা হ্রাস করা। দক্ষ ও প্রযুক্তিনির্ভর জনশক্তি তৈরিতে বিনিয়োগ বাড়ানো।

তাদের মতে, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ হয়নি; বরং এটি নতুন যুগে প্রবেশ করেছে। ভবিষ্যতের নিয়োগব্যবস্থা হবে আরও ডিজিটাল, তথ্যনির্ভর এবং কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত। সেই বাস্তবতায় বাংলাদেশের সাফল্য নির্ভর করবে শুধু কতজন কর্মী পাঠানো হলো তার ওপর নয়, বরং কীভাবে, কত কম খরচে এবং কতটা স্বচ্ছ ও নিরাপদ প্রক্রিয়ায় তাদের বিদেশে পাঠানো সম্ভব হলো তার ওপর।

মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২০ পিএম
মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে শোষণ ও অনিয়ম ঠেকাতে নতুন একটি কার্যকর ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া ও নেপাল। এ ব্যবস্থায় শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও জবাবদিহিমূলক করার পাশাপাশি শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত খরচের বোঝা চাপানো এবং অসাধু মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আর. রামানান এ তথ্য জানিয়েছেন। নেপালের যুব, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী রামজি যাদবের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ঐকমত্য হয়। আলোচনায় শ্রম ও কর্মসংস্থান খাতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ও উঠে আসে।

বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক পোস্টে রামানান বলেন, মালয়েশিয়া ও নেপাল উভয় দেশই অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে আরও সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছে। একই সঙ্গে এমন সব চর্চা বন্ধ করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেগুলো শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা চাপায় কিংবা তাদের শোষণ ও প্রতারণার ঝুঁকিতে ফেলে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, বিদেশি শ্রমিক ব্যবস্থাপনায় মালয়েশিয়া সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও শ্রমিক সুরক্ষার নীতিতে অটল থাকবে। একই সঙ্গে দেশের শিল্প ও শ্রমবাজারের প্রকৃত চাহিদাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

রামানানের ভাষায়, নীতিটি পরিষ্কার ব্যবস্থাকে অবশ্যই শ্রমিকদের সুরক্ষা দিতে হবে, নিয়োগকর্তাদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে এবং একই সঙ্গে শোষণ ও নির্যাতনের কোনো সুযোগ রাখা যাবে না।
তিনি বলেন, ১৯৬০ সাল থেকে মালয়েশিয়া ও নেপালের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। দুই দেশ শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে যথাযথ দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ ও আলোচনার ধারা অব্যাহত রাখবে।

এদিকে গত মাসে নেপালে ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় নেপাল সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী।
রামানান বলেন, ওই দুর্যোগের পর এখনো ৫৫ জন মালয়েশীয় নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাদের বিষয়ে মাদানি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে নজর রাখছে এবং তাদের ভাগ্য সম্পর্কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও সংশ্লিষ্ট দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৪৫০ ছাড়িয়েছে। নেপাল ও চীন মিলিয়ে এখনো ৬ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৯ এম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯ জনে। এর মধ্যে আগস্ট মাসে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৩ দিনে মারা গেছেন ১১২ জন। এছাড়া জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বুলেটিনে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৭৮২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৪৯ জনে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ৭৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৩ হাজার ৮৭৪ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৭১৬ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৮ জন, খুলনায় ২৮৬ জন, বরিশালে ১৬৪ জন, রাজশাহীতে ১৩০ জন, ময়মনসিংহে ১০৮ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ এম
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত বন্ধে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে ফিলিস্তিনসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, “স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে।”

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, “আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায় তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।”

যুদ্ধ-সংঘাতে বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট

ভাষণে বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের প্রভাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে একের পর এক মানবিক সংকট।

যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিও তীব্র চাপের মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

সংঘাতের সমাধান আলোচনায়, কূটনীতিতে

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের সমাধানে সামরিক শক্তির পরিবর্তে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে হওয়া উচিত।

বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের প্রত্যাশা এমন একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয়; বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা।”

জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে সমঝোতামূলক বিশ্ব

একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জাতিসংঘকে দেখতে চায় বাংলাদেশ—ভাষণে এমন প্রত্যাশার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিশ্বের এক প্রান্তের সংঘাত ও সংকট অন্য প্রান্তের দেশগুলোকেও প্রভাবিত করে। এ বাস্তবতায় পারস্পরিক সহযোগিতা, কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

উন্নয়নের অর্থ সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ সামরিক ব্যয়ে স্থানান্তরের প্রবণতাকে বিশ্বশান্তির পথে অন্যতম বাধা হিসেবে তুলে ধরেন তারেক রহমান।

শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের ভূমিকার বার্তা

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথাও ভাষণে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা মানবতার সেবায় কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে।

ভাষণের শেষদিকে বিশ্ব মানবতা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের যেকোনো উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।

আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান, কূটনীতি ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক