শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ইউরোপজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহ: এর জন্য কি দায়ী এল নিনো, নাকি আরও গভীর কোনো কারণ?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ৪:০৭ পিএম
ইউরোপজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহ: এর জন্য কি দায়ী এল নিনো, নাকি আরও গভীর কোনো কারণ?

জুন মাসে ফ্রান্সের বড় অংশে দ্বিতীয় তাপপ্রবাহ চলাকালে প্যারিসে তাপমাত্রা বৃদ্ধির মধ্যে আইফেল টাওয়ারের কাছে ট্রোকাডেরো স্কোয়ারে একজন মহিলা। ছবি- রয়টার্স।

রেকর্ড গরমে বিপর্যস্ত ইউরোপ

ইউরোপের বিভিন্ন দেশ আবারও ভয়াবহ তাপপ্রবাহের মুখোমুখি। ফ্রান্স, স্পেন, ইতালি, পর্তুগাল, জার্মানি, বেলজিয়াম ও যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও পারদের স্তম্ভ ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে, যা জুন মাসের জন্য অস্বাভাবিক বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।

এই তাপপ্রবাহ শুধু আবহাওয়ার খবরেই সীমাবদ্ধ নেই; এর প্রভাব পড়েছে মানুষের দৈনন্দিন জীবন, জনস্বাস্থ্য, পরিবহন ব্যবস্থা, কৃষি উৎপাদন এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর। ইউরোপের বহু শহরে মানুষকে দিনের সবচেয়ে গরম সময়ে বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

এল নিনো কি এই গরমের প্রধান কারণ?

অনেকের মনে প্রশ্ন উঠছে, বর্তমান তাপপ্রবাহের জন্য কি এল নিনো দায়ী?

বিশেষজ্ঞদের মতে, এল নিনো কিছুটা ভূমিকা রাখলেও এটিই একমাত্র বা প্রধান কারণ নয়। এল নিনো হলো প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলের পানির অস্বাভাবিক উষ্ণতা, যা বিশ্বব্যাপী আবহাওয়ার ধরনে পরিবর্তন আনে। এর প্রভাব পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, খরা অথবা অতিবৃষ্টির মাধ্যমে দেখা যায়।

তবে ইউরোপের বর্তমান পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে বিজ্ঞানীরা আরও বড় একটি কারণের দিকে ইঙ্গিত করছেন—জলবায়ু পরিবর্তন।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ক্রমেই স্পষ্ট

বিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে, ইউরোপ বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হয়ে ওঠা মহাদেশগুলোর একটি। শিল্পবিপ্লবের পর থেকে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও অন্যান্য গ্রিনহাউস গ্যাসের মাত্রা বৃদ্ধির ফলে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।

এই উষ্ণতা শুধু গড় তাপমাত্রা বাড়াচ্ছে না, বরং চরম আবহাওয়ার ঘটনাগুলোকেও আরও ঘনঘন ও তীব্র করে তুলছে। ফলে আগে যেখানে কয়েক দশকে একবার তাপপ্রবাহ দেখা যেত, এখন তা প্রায় প্রতি বছরই ঘটছে।

‘হিট ডোম’ কী?

বর্তমান তাপপ্রবাহের পেছনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো “হিট ডোম” বা তাপগম্বুজ।

এটি এমন একটি আবহাওয়াগত অবস্থা, যেখানে উচ্চচাপ বলয় একটি অঞ্চলের ওপর দীর্ঘ সময় অবস্থান করে। ফলে উষ্ণ বায়ু আটকে যায় এবং তা বের হতে পারে না। সূর্যের তাপে সেই বায়ু আরও উত্তপ্ত হতে থাকে।

এই অবস্থায় মেঘ তৈরি কম হয়, বৃষ্টিপাত হ্রাস পায় এবং তাপমাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। ইউরোপের পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলে বর্তমানে এমন পরিস্থিতিই তৈরি হয়েছে।

কেন প্যারিসে কখনও কখনও সেভিয়ার চেয়েও বেশি গরম?

সাম্প্রতিক পূর্বাভাসে দেখা গেছে, স্পেনের সেভিয়ার তুলনায় ফ্রান্সের প্যারিসে তাপমাত্রা বেশি হতে পারে।

এর কারণ হলো, ইউরোপের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের বহু শহর এমন তাপমাত্রার জন্য প্রস্তুত নয়। দক্ষিণ ইউরোপে দীর্ঘদিন ধরেই গরম আবহাওয়া স্বাভাবিক হলেও ফ্রান্স, জার্মানি বা যুক্তরাজ্যের অনেক শহরে পর্যাপ্ত শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নেই।

ফলে একই তাপমাত্রা দক্ষিণ ইউরোপের তুলনায় উত্তর ইউরোপে বেশি কষ্টদায়ক হয়ে ওঠে।

জনজীবনে বাড়ছে দুর্ভোগ

তাপপ্রবাহের কারণে ইউরোপজুড়ে মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

ফ্রান্সে বহু স্কুলে ক্লাসের সময় কমিয়ে আনা হয়েছে। ইতালির বিভিন্ন অঞ্চলে নির্মাণশ্রমিকদের দুপুরের কাজ সীমিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্পেনে বয়স্ক মানুষ এবং শিশুদের জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

অন্যদিকে হাসপাতালগুলোতে হিট স্ট্রোক, পানিশূন্যতা এবং হৃদরোগজনিত সমস্যায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

কৃষি ও খাদ্য উৎপাদনে চাপ

তীব্র গরম কৃষি খাতের জন্যও বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।

মাটির আর্দ্রতা দ্রুত কমে যাচ্ছে, ফলে ফসলের উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে গম, ভুট্টা, ফল এবং আঙুরের উৎপাদন কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা।

দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকলে খাদ্যপণ্যের দামও বৃদ্ধি পেতে পারে।

দাবানলের ঝুঁকি বাড়ছে

গরমের সঙ্গে সঙ্গে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে দাবানলের আশঙ্কাও বেড়ে যাচ্ছে।

স্পেন, পর্তুগাল, গ্রিস এবং ইতালির বনাঞ্চলগুলোতে আগুন লাগার ঝুঁকি বর্তমানে অনেক বেশি। উচ্চ তাপমাত্রা, শুষ্ক বাতাস এবং কম বৃষ্টিপাত দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে।

ভবিষ্যতের জন্য সতর্কবার্তা

বিজ্ঞানীরা বলছেন, বর্তমান তাপপ্রবাহ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং এটি এমন একটি প্রবণতার অংশ, যা আগামী বছরগুলোতে আরও ঘনঘন দেখা যেতে পারে।

যদি বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো না যায়, তাহলে ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে আরও দীর্ঘস্থায়ী, তীব্র এবং প্রাণঘাতী তাপপ্রবাহ দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতি শুধু একটি আবহাওয়াগত ঘটনা নয়; এটি জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তব প্রভাবের একটি স্পষ্ট উদাহরণ, যা মানুষের জীবন, অর্থনীতি এবং পরিবেশের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ সৃষ্টি করছে।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৯ এম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯ জনে। এর মধ্যে আগস্ট মাসে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৩ দিনে মারা গেছেন ১১২ জন। এছাড়া জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বুলেটিনে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৭৮২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৪৯ জনে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ৭৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৩ হাজার ৮৭৪ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৭১৬ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৮ জন, খুলনায় ২৮৬ জন, বরিশালে ১৬৪ জন, রাজশাহীতে ১৩০ জন, ময়মনসিংহে ১০৮ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ এম
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত বন্ধে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে ফিলিস্তিনসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, “স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে।”

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, “আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায় তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।”

যুদ্ধ-সংঘাতে বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট

ভাষণে বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের প্রভাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে একের পর এক মানবিক সংকট।

যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিও তীব্র চাপের মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

সংঘাতের সমাধান আলোচনায়, কূটনীতিতে

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের সমাধানে সামরিক শক্তির পরিবর্তে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে হওয়া উচিত।

বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের প্রত্যাশা এমন একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয়; বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা।”

জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে সমঝোতামূলক বিশ্ব

একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জাতিসংঘকে দেখতে চায় বাংলাদেশ—ভাষণে এমন প্রত্যাশার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিশ্বের এক প্রান্তের সংঘাত ও সংকট অন্য প্রান্তের দেশগুলোকেও প্রভাবিত করে। এ বাস্তবতায় পারস্পরিক সহযোগিতা, কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

উন্নয়নের অর্থ সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ সামরিক ব্যয়ে স্থানান্তরের প্রবণতাকে বিশ্বশান্তির পথে অন্যতম বাধা হিসেবে তুলে ধরেন তারেক রহমান।

শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের ভূমিকার বার্তা

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথাও ভাষণে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা মানবতার সেবায় কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে।

ভাষণের শেষদিকে বিশ্ব মানবতা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের যেকোনো উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।

আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান, কূটনীতি ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ চায় ডিসিসিআই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৬ এম
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ চায় ডিসিসিআই

বাংলাদেশের জ্বালানি, নবায়নযোগ্য শক্তি ও বিনিয়োগ খাতে সহযোগিতা বাড়াতে মালয়েশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন ও যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ।

বৃহস্পতিবার কুয়ালালামপুরের একটি হোটেলে মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী লিউ চিন টংয়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব আহ্বান জানান।

সাক্ষাৎকালে তাসকীন আহমেদ বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মোট বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। দুই দেশের বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণে নতুন নতুন অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি এবং সরকার পর্যায়ে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। পারস্পরিক আস্থা, অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি জ্বালানি সরবরাহ, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি প্রণোদনা ও বিনিয়োগ সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তারা এ খাতে বিনিয়োগ করতে পারেন।

এ খাতে দীর্ঘমেয়াদি ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে মালয়েশিয়া সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। পাশাপাশি প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের সহযোগিতা আরও কার্যকর ও টেকসই করা সম্ভব বলে মত দেন।

এ সময় মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী লিউ চিন টং বলেন, দেশটির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে বিপুলসংখ্যক দক্ষ জনবলের চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশের বৃহৎ তরুণ জনগোষ্ঠীকে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে তাদের জন্য উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে আন্তর্জাতিক লেনদেন ব্যবস্থা আরও আধুনিক করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ইসলামিক ফাইন্যান্সিংয়ের সম্প্রসারণ, উদ্ভাবনী আর্থিক পণ্য তৈরি এবং কার্যকর আর্থিক অবকাঠামো গড়ে তুলতে মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা ও মডেল বাংলাদেশের জন্য অনুসরণযোগ্য হতে পারে।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) খাতের সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন তাসকীন আহমেদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের এমএফএস মডেল বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে। মালয়েশিয়াও বাংলাদেশের এ খাতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারে।
ডিসিসিআই সভাপতি আরও বলেন, বাংলাদেশ প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য আমদানি করে। ফলে দেশটি একটি বড় ও সম্ভাবনাময় ভোক্তা বাজারে পরিণত হয়েছে। এই বাজারের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে মালয়েশিয়ার রপ্তানিকারকদের বাংলাদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং রপ্তানি বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

তিনি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব জোরদার, পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং পারস্পরিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন।
সাক্ষাৎকালে ডিসিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী ও সহ-সভাপতি সালিম সোলায়মান উপস্থিত ছিলেন।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক