যুক্তরাষ্ট্র–ইরান নতুন সমঝোতার পথে, যুদ্ধবিরতি আরও ৬০ দিন বাড়বে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা কমাতে একটি নতুন সমঝোতা চুক্তির বিষয়ে আলোচনা এগিয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই দেশ যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানো এবং হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়ে নীতিগতভাবে কাছাকাছি অবস্থানে পৌঁছেছে। তবে এখনো চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত বা চূড়ান্ত হয়নি।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সম্ভাব্য এই চুক্তি কার্যকর হলে যুদ্ধবিরতির সময়সীমা আরও দুই মাস বাড়বে। এই সময়ের মধ্যে উভয় পক্ষ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার সুযোগ পাবে।
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া সংঘাতের পর এটি হতে পারে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক অগ্রগতি। যদিও এপ্রিলের শুরুতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল, তারপরও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে উভয় পক্ষের মধ্যে সীমিত হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। ফলে পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি।
মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আলোচনায় অগ্রগতি হচ্ছে এবং সমঝোতার সম্ভাবনা আগের তুলনায় বেশি। তবে তারা এখনো শতভাগ নিশ্চয়তা দিতে রাজি নয়। অন্যদিকে ইরানের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে, আলোচনার খসড়া নিয়ে কাজ চললেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আরও কিছু সময় লাগতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্ভাব্য চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা। বিশ্বের মোট জ্বালানি পরিবহনের একটি বড় অংশ এই সমুদ্রপথ দিয়ে যাতায়াত করে। সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে সেখানে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে গিয়েছিল। নতুন সমঝোতার খবর প্রকাশের পর তেলের বাজারে কিছুটা স্বস্তি দেখা গেছে।
চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানের কিছু বন্দর ও তেল রপ্তানির ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আংশিক শিথিলতার বিষয়ও আলোচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে। এর ফলে ইরানের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যও সহজ হবে।
তবে যুদ্ধবিরতির মধ্যেও উত্তেজনা পুরোপুরি থেমে নেই। সাম্প্রতিক সময়ে উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের অভিযোগ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, তারা ইরানের কয়েকটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে এবং একটি ড্রোন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে ইরানও পাল্টা প্রতিক্রিয়ার কথা জানিয়েছে এবং ভবিষ্যতে হামলা হলে আরও কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
এই সংকট সমাধানে বিভিন্ন দেশ মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে আঞ্চলিক কয়েকটি দেশ উভয় পক্ষকে আলোচনার টেবিলে ধরে রাখতে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলোর ধারণা, আগামী কয়েক সপ্তাহের আলোচনা সফল হলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা অনেকটাই কমে আসতে পারে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত নাজুক। যুদ্ধবিরতি দীর্ঘমেয়াদি শান্তিতে রূপ নিতে হলে শুধু সামরিক সংঘাত বন্ধ করাই যথেষ্ট নয়, বরং পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা, আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার এবং নিরাপত্তা ইস্যুতে টেকসই সমাধানে পৌঁছাতে হবে। তাই সম্ভাব্য নতুন চুক্তিকে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হলেও স্থায়ী শান্তির পথ এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয়।













