শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

রন্ধনশিল্পের শিক্ষার্থী থেকে টেকসই উন্নয়ন গবেষক: ইদ্রিস ও বৃষ্টির অনন্য যাত্রা

আহমাদুল কবির মালয়েশিয়া প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬, ২:২২ এম
রন্ধনশিল্পের শিক্ষার্থী থেকে টেকসই উন্নয়ন গবেষক: ইদ্রিস ও বৃষ্টির অনন্য যাত্রা

সানওয়ে ইউনিভার্সিটি স্কুল অব হসপিটালিটি অ্যান্ড সার্ভিস ম্যানেজমেন্টে রন্ধনশিল্পের শিক্ষার্থী হিসেবে শুরু হয়েছিল ইদ্রিস হপি ও বৃষ্টি খাতুনের বন্ধুত্ব। সেই বন্ধুত্ব সময়ের সঙ্গে রূপ নিয়েছে মানবতা, টেকসই উন্নয়ন এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণাভিত্তিক এক অনুপ্রেরণামূলক যাত্রায়।

ব্যাচেলর অব সায়েন্স (অনার্স) ইন কালিনারি ম্যানেজমেন্ট অধ্যয়নকালে তারা একসঙ্গে ক্লাস, কিচেন প্রশিক্ষণ এবং আতিথেয়তা শিক্ষার কঠিন ও ব্যস্ত সময় পার করেছেন। খাবার ও সেবার শিল্প শেখার পাশাপাশি দু’জনের মধ্যেই মানুষের জন্য কাজ করার এবং সমাজে ইতিবাচক অবদান রাখার গভীর আগ্রহ তৈরি হয়।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারির কঠিন সময়ে এই দুই সহপাঠী নিজেদের উদ্যোগে “ওয়ান ওয়ার্ল্ড ওয়ান ফ্যামিলি” নামে একটি মানবিক কার্যক্রম শুরু করেন। “মানবতা সবকিছুর ঊর্ধ্বে” এই বিশ্বাসকে সামনে রেখে গড়ে ওঠা উদ্যোগটি মহামারির অনিশ্চিত সময়ে সহমর্মিতা, ঐক্য এবং কমিউনিটি সহায়তায় কাজ করে।

পৃথিবীর দুই ভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা এই দুই তরুণ-তরুণীর বন্ধুত্বও যেন তাদের উদ্যোগের মূল দর্শনের প্রতিচ্ছবি। বৃষ্টি বাংলাদেশের এবং ইদ্রিস যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হলেও, মানবসেবার অভিন্ন লক্ষ্য তাদের এক সুতোয় বেঁধেছে।

পরবর্তীতে তাদের একাডেমিক যাত্রা নতুন ও অর্থবহ মোড় নেয়। কালিনারি ডিগ্রি সম্পন্ন করার পর তারা মাস্টার্স ইন সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজমেন্টে ভর্তি হন। এ সময় পরিবেশগত টেকসই উন্নয়ন, খাদ্যব্যবস্থা এবং খাদ্য অপচয় কমানোর বিষয়ে তাদের আগ্রহ আরও গভীর হয়।

বর্তমানে ইদ্রিস ও বৃষ্টি সানওয়ে ইউনিভার্সিটির জেফ্রি স্যাকস সেন্টার অন সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্টে পিএইচডি গবেষণা করছেন। তাদের গবেষণার মূল বিষয় খাদ্য অপচয় রোধ, টেকসই উদ্ভাবন এবং সার্কুলার ইকোনমি বা পুনঃব্যবহারভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, যা বৈশ্বিক পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বৃষ্টির গবেষণার মূল ক্ষেত্র খাদ্য বর্জ্যের পুনঃব্যবহার, কম্পোস্টিং ব্যবস্থা, মাটির উর্বরতা এবং টেকসই কৃষি। তার লক্ষ্য হলো পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী সমাধানের মাধ্যমে কৃষকদের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সহায়তা করা।

অন্যদিকে ইদ্রিস খাদ্য অপচয় প্রতিরোধ এবং হাইড্রোজেন উৎপাদন নিয়ে গবেষণা করছেন। তিনি বর্জ্যকে কীভাবে পরিচ্ছন্ন ও টেকসই জ্বালানিতে রূপান্তর করা যায়, সেই উদ্ভাবনী পদ্ধতি নিয়ে কাজ করছেন।

রন্ধনশিল্পের শিক্ষার্থী থেকে টেকসই উন্নয়ন গবেষকে পরিণত হওয়ার এই যাত্রা সত্যিই অনন্য। একসময় যারা শেফ জ্যাকেট পরে রান্নাঘরে কাজ শিখতেন, আজ তারা টেকসই কৃষি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং বৈশ্বিক টেকসই উন্নয়নের সমাধান তৈরিতে অবদান রাখছেন।

জলবায়ু পরিবর্তন, ক্রমবর্ধমান বর্জ্য এবং সম্পদ সংকটে ভরা বর্তমান বিশ্বে ইদ্রিস ও বৃষ্টি নতুন প্রজন্মের এমন এক প্রতিচ্ছবি, যারা প্রমাণ করছেন শিক্ষা, বন্ধুত্ব এবং মানবিকতা একত্রে মানবতা ও পৃথিবীর জন্য ইতিবাচক পরিবর্তনের শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে তুলতে পারে।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৯৫৫

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫৫ পিএম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৯৫৫

দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৯৫৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক দিনে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ডেঙ্গুতে একজন করে মারা গেছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে দেশে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১১ জনে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী ভর্তির দিক থেকে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে। এ বিভাগে ২৪৬ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া ঢাকা বিভাগে ২৪১ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৩৩ জন, খুলনা বিভাগে ১৩০ জন এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৭৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

একই সময়ে বরিশাল ও রংপুর বিভাগে ৪৪ জন করে, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩৭ জন এবং সিলেট বিভাগে চারজন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের হিসাব অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট ২১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগেই মারা গেছেন ১০২ জন। এই হিসাবের মধ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মৃত্যুর সংখ্যাও রয়েছে।

এ ছাড়া একই সময়ে খুলনা বিভাগে ৩৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২১ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ২০ জন, বরিশাল বিভাগে ১৬ জন, রাজশাহী বিভাগে ১০ জন, রংপুর বিভাগে চারজন এবং সিলেট বিভাগে একজন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য বলছে, চলতি সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৫ দিনেই ডেঙ্গুতে ১১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলে হার বাংলাদেশের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫৪ পিএম
মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলে হার বাংলাদেশের

আসিয়ান কাপে নিজেদের অভিষেক ম্যাচেই মালয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলে পরাজিত হয়েছে বাংলাদেশ। শুক্রবার ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তার গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় দুপুর ৩টায় শুরু হওয়া ম্যাচে শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছে মালয়েশিয়া।

আসিয়ান কাপে প্রথমবারের মতো মাঠে নেমে শুরু থেকেই চাপে ছিল হামজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দল। ম্যাচের ১৮ মিনিটে আরিফ আইমানের গোলে এগিয়ে যায় মালয়েশিয়া। এরপর ৩৭ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে দলের ব্যবধান ২-০ করেন আইমান। দুই গোলের ঘাটতি নিয়েই বিরতিতে যেতে হয় বাংলাদেশকে।

বিরতির পরও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখে মালয়েশিয়া। ৫২ মিনিটে বাংলাদেশের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে বক্সের ভেতর থেকে গোল করেন বার্গুসন। তার গোলে মালয়েশিয়ার লিড বেড়ে দাঁড়ায় ৩-০।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

এরপর গোল পরিশোধে কয়েক দফা আক্রমণ গড়ে তোলে বাংলাদেশ। তবে সুযোগ তৈরি করেও সেগুলো কাজে লাগাতে পারেনি লাল-সবুজের দল। শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলের পরাজয় নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় বাংলাদেশকে।

এর আগে চার বছর আগে এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বে মালয়েশিয়ার মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচেও ৪-১ গোলে হেরেছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এবার আসিয়ান কাপেও মালয়েশিয়ার বিপক্ষে জয়ের দেখা পেল না বাংলাদেশ।

সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা রক্ষায় সেনা পাঠাচ্ছে ফ্রান্স

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩৭ পিএম
সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা রক্ষায় সেনা পাঠাচ্ছে ফ্রান্স

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি মিলিশিয়ার হামলার পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা সুরক্ষায় সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে ফ্রান্স। তবে এই সামরিক মোতায়েন কোনো সংঘাতে অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে নয়, বরং সৌদির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্যারিস।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সৌদি আরবে সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্তের কথা জানান। একই দিন দুই দেশের মধ্যে হওয়া একটি চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের উপকূলীয় শহর ইয়ানবুর জ্বালানি অবকাঠামো সুরক্ষায় ফ্রান্স সেনা, রাডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠাবে বলে জানান তিনি।

সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম ফ্রান্স ২-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ম্যাক্রোঁ বলেন, কোনো সংঘাতে জড়ানোর জন্য নয়, বরং জ্বালানি স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এসব সামরিক সরঞ্জাম ও সেনা পাঠানো হবে। পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে সৌদি আরবকে আরও সামরিক সহায়তা দেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি তিনি।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ম্যাক্রোঁ জানান, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ছয় মাসের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের মধ্যে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দেশের বাজারে গ্যাসের দাম কমাতে ফ্রান্স বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। সৌদি আরবে সামরিক সহায়তা পাঠানোর সিদ্ধান্তও সেই উদ্যোগের অংশ।

চলমান সংঘাতের প্রভাবে তেল ও গ্যাস পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানের মিত্র হুথি মিলিশিয়া সৌদি আরবে একাধিক হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার কারণে লোহিত সাগরসংলগ্ন বন্দরগুলো থেকে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছে। দীর্ঘদিনের উত্তেজনা আবারও সশস্ত্র সংঘাতে রূপ নেওয়ার প্রেক্ষাপটেই সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা সুরক্ষায় সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিল ফ্রান্স।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক