অভিবাসন নীতিতে আরো কড়াকড়ি
পর্তুগালে বিদেশিদের বহিষ্কারে নতুন আইন সংসদে
পর্তুগালে অনিয়মিতভাবে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের দ্রুত বহিষ্কারের লক্ষ্য নিয়ে নতুন একটি ‘ডিপোর্ট আইন’ সংসদে উপস্থাপন করেছে সরকার। শুক্রবার বিলটি আলোচনায় ওঠার পর দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গন, মানবাধিকার সংগঠন এবং আন্তর্জাতিক শরণার্থী সংস্থাগুলোর মধ্যে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে।
সরকারের প্রস্তাব অনুযায়ী, অবৈধভাবে বসবাসরত বিদেশিদের অস্থায়ী আটক কেন্দ্রে রাখার সময়সীমা বর্তমান ৬০ দিন থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ১৮০ দিন করা হবে। বিশেষ পরিস্থিতিতে, যেমন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অসহযোগিতা বা প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহে বিলম্ব হলে এই সময় আরও অতিরিক্ত ১৮০ দিন পর্যন্ত বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।
প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, বহিষ্কার কার্যক্রম সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট বিদেশি নাগরিককে আটক রাখা যেতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদি আটকের সুযোগ রাখায় মানবাধিকার সংগঠনগুলো উদ্বেগ জানিয়েছে।
সরকার আটক ব্যবস্থার পাশাপাশি বিকল্প নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিও চালুর প্রস্তাব দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আর্থিক জামানত জমা রাখা, ভ্রমণ নথি কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া এবং উন্মুক্ত ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত অস্থায়ী কেন্দ্রে বাধ্যতামূলক অবস্থান।
এ ছাড়া স্বেচ্ছায় দেশত্যাগের বর্তমান নোটিশ ব্যবস্থা বাতিলেরও প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে জোরপূর্বক বহিষ্কৃত বিদেশিদের জন্য পর্তুগালে পুনঃপ্রবেশ নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ পাঁচ বছর পর্যন্ত বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। গুরুতর ক্ষেত্রে এই সময়সীমা আরও বৃদ্ধি করা যেতে পারে।
আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারায় বলা হয়েছে, যেসব বিদেশির পর্তুগিজ নাগরিক সন্তান রয়েছে তাদের সরাসরি বহিষ্কার করা যাবে না। তবে এ সুবিধা পেতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে পর্তুগালে জন্মগ্রহণকারী হতে হবে এবং অন্তত পাঁচ বছর দেশটিতে বসবাসের প্রমাণ দেখাতে হবে।
নতুন প্রস্তাবের মাধ্যমে আটক কেন্দ্র পরিচালনা, বিদেশিদের অবস্থান নিয়ন্ত্রণ এবং আশ্রয়সংক্রান্ত বিদ্যমান আইনেও পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এসব কেন্দ্র পরিচালনা করে দেশটির পাবলিক সিকিউরিটি পুলিশ।
এদিকে, বিলটি নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় সংস্থা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। পর্তুগিজ রিফিউজি কাউন্সিল, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা এবং বিচার বিভাগ সংশ্লিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠান মনে করছে, দীর্ঘমেয়াদি আটক ও কঠোর বহিষ্কার প্রক্রিয়া মানবাধিকার এবং আন্তর্জাতিক আশ্রয়নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।
একই দিনে সংসদে ডানপন্থি দল শেগার আরও কঠোর সীমান্ত নিয়ন্ত্রণবিষয়ক প্রস্তাবও আলোচনা হচ্ছে। অন্যদিকে বামপন্থি দল লিভ্রে শিশু, অসুস্থ ব্যক্তি এবং মানবিক সুরক্ষাপ্রার্থীদের আটক কেন্দ্রে না রাখার দাবিতে আলাদা প্রস্তাব দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপজুড়ে অভিবাসন নীতিতে কঠোর অবস্থানের ধারাবাহিকতায় পর্তুগালও এখন আরও কড়া নীতির দিকে এগোচ্ছে। তবে মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনের ভারসাম্য নিয়ে বিতর্ক আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকতে পারে।












