পর্তুগাল গাজামুখী গ্লোবাল সুমুদ নৌবহরের কর্মীদের আটক ঘটনায় ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে
গাজামুখী মানবিক সহায়তা বহনকারী ‘গ্লোবাল সুমুদ’ নৌবহরের কর্মীদের আটক করার ঘটনায় ব্যাখ্যা চাইতে পর্তুগাল লিসবনে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে। পর্তুগালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাওলো রাঙ্গেল বৃহস্পতিবার এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাটি আন্তর্জাতিক জলসীমায় ঘটায় বিষয়টি কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, তেল আবিব ও এথেন্সে অবস্থিত পর্তুগালের কনস্যুলার কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্য আটক পর্তুগিজ নাগরিকদের সুরক্ষায় সক্রিয় রয়েছে। তিনি জানান, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে পর্তুগিজ নাগরিক থাকতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই আগাম কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। (সূত্র: লুসা সংবাদ সংস্থা, সিক নোটিসিয়াস)
‘গ্লোবাল সুমুদ’ নৌবহরটি দক্ষিণ ইতালির অগাস্টা বন্দর থেকে গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিল। ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির নৌবাহিনী প্রায় ২০টি জাহাজে থাকা ১৭৫ জন আন্দোলনকর্মীকে আটক করে। স্প্যানিশ সংবাদ সংস্থা এফই (ইএফই) জানায়, গাজা উপকূল থেকে প্রায় ১,২০০ কিলোমিটার দূরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় এই অভিযান চালানো হয়।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার জানিয়েছেন, আটককৃতদের গ্রিসে নিয়ে যাওয়া হবে এবং গ্রিক সরকারের সহযোগিতায় তাদের অবতরণ নিশ্চিত করা হবে। তবে গ্রিক সরকার স্পষ্ট করেছে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় সরাসরি হস্তক্ষেপ করার এখতিয়ার তাদের নেই, কারণ এ ধরনের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট জাহাজের পতাকাবাহী রাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করে।
পর্তুগালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, এথেন্সে অবস্থিত দূতাবাস ইতোমধ্যে সক্রিয় করা হয়েছে, যাতে সম্ভাব্য পর্তুগিজ নাগরিকদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা যায়। তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে নাগরিকদের দ্রুত শনাক্ত করা এবং তাদের সর্বোচ্চ কনস্যুলার সহায়তা নিশ্চিত করা।”
এদিকে, ইউরোপজুড়ে এ ঘটনায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। স্পেন এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে, ইতালি আটক নাগরিকদের মুক্তির দাবি করেছে এবং ফ্রান্স ও জার্মানি পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। (সূত্র: এএনএসএ, ইউরোপীয় কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া)
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় এই ধরনের অভিযান আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিতে পারে।













