ইহুদীবিদ্বেষী মনোভাব থাকলে মিলবে না আমেরিকার ভিসা
মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা ইউএসসিআইএস-এর হালনাগাদ নীতিমালায় বলা হয়েছে এসব কথা। নতুন এই নীতির আওতায় অভিবাসন কর্মকর্তারা এখন থেকে আবেদনকারীদের ‘আমেরিকা-বিরোধী বা সন্ত্রাসী সংগঠনের’ সঙ্গে কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা আছে কী না, তা পরীক্ষা করবেন। বুধবার এই তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।
এ ছাড়াও, আবেদনকারীদের ‘ইহুদিবিদ্বেষী’ কোনো কাজের সঙ্গে জড়িত থাকার নজির আছে কী না, তাও যাচাই করবেন কর্মকর্তারা। যেসব বিষয় নিরীক্ষা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তার মধ্যে ওয়ার্ক বা ইমিগ্রেশন ভিসা পেতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কার্যক্রমও অন্যতম।
এই নিয়ম অনুসারে মার্কিন অভিবাসন দপ্তরের কর্মকর্তারা যদি মনে করেন, আপনি ‘আমেরিকা-বিরোধী’ তাহলে আপনি আমেরিকান ভিসা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।
হালনাগাদ নীতিমালায় ‘আমেরিকা-বিরোধী’ মনোভাবের সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা দেওয়া হয়নি। শুধু বলা হয়েছে, যারা ‘ইহুদিবিদ্বেষী সন্ত্রাস, ইহুদিবিদ্বেষী সন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িত সংগঠন ও ইহুদিবিদ্বেষী মূল্যবোধ ধারণ করেন, তারাও ‘আমেরিকা-বিরোধী’ বলে বিবেচিত।
তবে ১৯৫২ সালের অভিবাসন ও জাতীয়তা আইনের (আইএনএ) ‘আমেরিকা-বিরোধী’ মূল্যবোধের বিবরণ দেওয়া হয়েছে বলে নীতিমালায় উল্লেখ করে হয়।
ওই আইনে বলা হয়েছে, যারা বিভিন্ন সমাজতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের সদস্য, যারা ‘সারা বিশ্বে সমাজতন্ত্র’ কায়েমের পক্ষে কথা বলেন এবং যারা ‘সব ধরনের সুসংহত’ সরকারের ধারণার বিরুদ্ধে লেখেন বা এ বিষয়ে লিখিত বক্তব্য ছড়িয়ে দেন, অথবা যারা সহিংসতা বা জোর খাঁটিয়ে মার্কিন সরকারকে উৎখাত করতে চান, তারা ‘আমেরিকা-বিরোধী’।
অভিবাসন দপ্তরের ঘোষণায় তাৎক্ষণিকভাবে ইন্টারনেটে ব্যাপক বিভ্রান্তি ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনলাইন ফোরামগুলোয় ‘আমেরিকা-বিরোধীর’ নানা সংজ্ঞা নিয়ে বিবাদ চলতে থাকে। অনেকেই আশঙ্কা করেন, এই ‘অস্পষ্ট’ নীতি ও স্বচ্ছতার অভাবে কর্মকর্তারা অভিবাসন-প্রত্যাশীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারবেন।
অনেক ক্ষেত্রে আবেদনকারীর পক্ষ থেকে কোনো বাস্তবসম্মত হুমকি বা ঝুঁকি না থাকলেও তাদের অভিবাসন আবেদন নাকচ হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দেন।
সমাজমাধ্যম রেডিটে এক ইউজার লেখেন, ‘ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক হামলার বিপক্ষে কথা বলা, কিংবা গাজায় যুদ্ধবিরতির পক্ষে সুর তোলাও ও আমেরিকা-বিরোধী বা ইহুদিবিদ্বেষী মনোভাবের পরিচায়ক?’
‘এমন তো হতে পারে, যে আপনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পকে পছন্দ করেন না। সেটা আপনার ব্যক্তিগত ব্যাপার। অথবা আপনি তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ করা কার্টুন শেয়ার করলেন। সেটাও কি এসবের পরিচয়?’ প্রশ্ন তোলেন তিনি।
এ সব বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞ ও আইনজীবীরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন আবেদনকারীকে ‘আমেরিকা-বিরোধী’ নন এমন প্রমাণ দিতে অনেক কাঠ-খড় পোড়াতে হবে।
মার্কিন অভিবাসন কাউন্সিলের জ্যেষ্ঠ ফেলো অ্যারন রেইখলিন-মেলনিক এক্স পোস্টে লিখেন, ‘এই শব্দাংশটি (আমেরিকা-বিরোধী) এর আগে কখনো অভিবাসন আইনে যুক্ত করা হয়নি এবং এর সংজ্ঞা পুরোপুরি ট্রাম্প প্রশাসনের মস্তিষ্কপ্রসূত।’
ব্রিগহ্যাম ইয়াং বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক লিলি লোপেজ সংবাদ সংস্থা এপিকে বলেন, ‘আমার কাছে বড় খবর এটাই, যে তারা সূক্ষ্ম পক্ষপাত ও একপাক্ষিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার দরজা খুলে দিচ্ছে। এতে তারা (অভিবাসন আবেদনের ক্ষেত্রে) নিজেদের সুবিধামতো সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। এটা খুবই উদ্বেগজনক।’













