পর্তুগালের সংবিধানের ৫০ বছর
পর্তুগালের রাজনৈতিক অঙ্গনে ২ এপ্রিল ১৯৭৬দীর্ঘ ১০ মাসের টানটান বিতর্ক, ১৩২টি পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন এবং ৩২৭টি বিশেষ কমিটির বৈঠকের পর সেদিন পর্তুগাল পায় তার নতুন সংবিধান। তৎকালীন গণপরিষদে চূড়ান্ত ভোটে দলগুলোর ব্যাপক সমর্থনে সংবিধানটি অনুমোদিত হয়; শুধু সিডিএস (CDS) বিপক্ষে ভোট দেয় ।
সংবিধান অনুমোদনের ওই অধিবেশন ছিল দীর্ঘ ও আবেগঘন। ঐতিহাসিক নথি অনুযায়ী, অধিবেশন শুরু হয় সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে এবং শেষ হয় রাত ১০টা ৫০ মিনিটে। অনুমোদনের পর করতালির ঝড় ওঠে, জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া হয় এবং দেশটির গণতান্ত্রিক রূপান্তরের এক নতুন অধ্যায় সূচিত হয় ।
১৯৭৪ সালের ২৫ এপ্রিল “কার্নেশন বিপ্লব” এর পর পর্তুগালে একনায়কতান্ত্রিক শাসনের অবসান ঘটে এবং গণতন্ত্রে উত্তরণের পথ খুলে যায়। নতুন সংবিধান সেই পরিবর্তনকে আইনি ভিত্তি দেয় এবং ক্ষমতার পৃথকীকরণ, সার্বজনীন ভোটাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ব্যক্তিগত মর্যাদা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও আবাসনের মতো মৌলিক অধিকারকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেয়।
সংবিধানের প্রস্তাবনায় সশস্ত্র বাহিনী আন্দোলনের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করা হয়, যেখানে ফ্যাসিবাদী শাসনের পতনকে জনগণের দীর্ঘ প্রতিরোধের ফল হিসেবে বর্ণনা করা হয় এবং একটি “আরও মুক্ত, ন্যায়পরায়ণ ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ” দেশ গঠনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয় ।
উত্তাল সময়ের দলিল
এই সংবিধান রচিত হয় পর্তুগালের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক অত্যন্ত অস্থির সময়ে। ১৯৭৫ সালে সামরিক ও বেসামরিক শক্তির মধ্যে উত্তেজনা বাড়ে, বাম ও মধ্যপন্থী শক্তির দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসে, এবং রাষ্ট্রক্ষমতা নিয়ে নানা টানাপোড়েন চলতে থাকে ।
ঐ সময় গণপরিষদের বিতর্কে তীব্র ভাষা ব্যবহার, রাজনৈতিক দোষারোপ এবং আদর্শিক সংঘাতও ছিল চোখে পড়ার মতো। এ কারণে সংবিধানকে শুধু একটি আইনগত দলিল নয়, বরং বিপ্লবোত্তর পর্তুগালের রাজনৈতিক সমঝোতা ও সংঘর্ষের দলিল হিসেবেও দেখা হয় ।
বর্তমান পর্তুগালের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা এখনো মূলত ১৯৭৬ সালের ওই সংবিধানের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। ২৫ এপ্রিল ১৯৭৬ সালে এটি কার্যকর হয় এবং সেই থেকে দেশটির শাসনব্যবস্থার ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে ।










