শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

পর্তুগালে আবাসন সংকট, পথে নেমেছেন হাজারো মানুষ

পর্তুগাল প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৪:২৯ এম
পর্তুগালে আবাসন সংকট, পথে নেমেছেন হাজারো মানুষ

শনিবার বিকেলে লিসবন, পোর্তো, কইম্ব্রা, ব্রাগা, ফারোসহ কমপক্ষে ১৬টি শহরে একযোগে বিক্ষোভ হয়েছে, যার আয়োজন করেছে আবাসনের অধিকার নিয়ে কাজ করা প্ল্যাটফর্ম ‘Casa para Viver’ ও সহযোগী নেটওয়ার্ক ‘Porta a Porta’। “Já não dá” (আর চলছে না) স্লোগানে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে ৮০–৯০টির বেশি সংগঠন ও নেটওয়ার্ক সমর্থন জানিয়েছে; আয়োজকদের ভাষ্য, বর্তমান আবাসন নীতি সংকট সমাধান না করে বরং আরও গভীর করছে। লিসবনে মিছিল শুরু হয় মেরকেশ দ্য পম্বাল ও অ্যাভেনিদা দা লিবার্দাদে ’ এবং দেশটির বিভিন্ন সহর হাজার হাজার নাগরিক বিক্ষোভে অংশ নেন।

‘বেঁচে থাকা খুব কঠিন’: ভাড়াটিয়াদের কণ্ঠ

৪৫ বছর বয়সী আনা মারিয়া জানান, ভাড়া বাড়তে বাড়তে এমন অবস্থায় পৌঁছেছে যে তাঁকে বাধ্য হয়ে লিসবনের এনকার্নাসাঁও এলাকায় একটি এক কামরার ছোট ঘরে উঠতে হয়েছে, যার ভাড়া মাসে ৫০০ ইউরো; আয় ও ব্যয়ের ফারাকে মাসের শেষে তাঁর হাতে প্রায় কোনো টাকা থাকে না। তাঁর কথায়, বারবার বাড়ি ছাড়ার হুমকি আসছে মালিকের কাছ থেকে এবং খাদ্য পেতে ‘Refood’–এর মতো সামাজিক উদ্যোগের সাহায্য ছাড়া তিনি চলতে পারতেন না।​

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

অন্য এক বিক্ষোভকারী জানান, তিনি প্রায় ৩০ বর্গমিটারের স্যাঁতসেঁতে একটি বাসায় থাকেন; ১১ বছর আগে স্বামীর সঙ্গে লিসবনে আসার পর থেকে যতটুকু সঞ্চয় হয়েছে, তা দিয়ে বাড়ি কেনা কল্পনাতীত হয়ে পড়েছে। ২৩ বছর বয়সী মার্টা কোয়েলহো বলেন, চাকরি এবং স্নাতক–স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকা সত্ত্বেও উচ্চ ভাড়ার কারণে এখনো বাবা–মায়ের সঙ্গে একই বাসায় থাকতে বাধ্য তিনি, নিজের মতো করে শহরে থাকার সুযোগ তৈরি হচ্ছে না।

​

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ক্যাটরিনা সিল্ভা অভিযোগ করেন, সরকারের নতুন আবাসন নীতিতে ২৩০০ ইউরো মাসিক আয়কে ‘পরিমিত’ বলে ধরায় বাস্তবে তরুণ তরুণীদের অধিকাংশই ৩০ বছর বা তার বেশি বয়স পর্যন্ত বাবা–মায়ের বাসা ছেড়ে বেরোতে পারছেন না। আনাবেলা নামের আরেক প্রতিবাদকারী বলেন, “বেঁচে থাকা খুব কঠিন। বাড়ি ভাড়া অনেক বেশি, আমি বেকার; এই আয়ে ভাড়া ও খাবারের খরচ মেটানো প্রায় অসম্ভব।”

রাকেল পেরেইরা মতো অনেকেই জানাচ্ছেন, আয় কমে যাওয়া আর ভাড়া বেড়ে যাওয়ার চাপ সামলে তারা আর বর্তমান বাসায় টিকে থাকতে পারছেন না; তিনি জানিয়েছেন, সামাজিক আবাসনের জন্য আবেদন করলেও কবে অনুমোদন পাবেন এ বিষয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন এবং নির্ধারিত সময়সীমার (৩১ অক্টোবর) মধ্যেই হয়তো নতুন থাকার জায়গা খুঁজতে হবে।

সরকারের ৩০ দফা প্যাকেজ ও অভিযোগ

পর্তুগিজ সরকার আবাসন সংকট মোকাবিলায় নির্মাণ ও ভাড়াবাজারে প্রণোদনা, কর ছাড়, ভাড়া সহায়তাসহ প্রায় ৩০টি পদক্ষেপের প্যাকেজ ঘোষণা করেছে, যাকে সরকার ‘নীতিগত ধাক্কা’ হিসেবে উপস্থাপন করেছিল। এর মধ্যে আছে মাঝারি ভাড়ার বাড়ির মালিকদের কর ছাড়, ভাড়া ব্যয়ের ওপর বাড়তি আয়কর ছাড় এবং নির্দিষ্ট মূল্যসীমার মধ্যে থাকা আবাসন নির্মাণে কম হারে ভ্যাট আরোপের মতো ব্যবস্থা।

তবে বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, এসব পদক্ষেপ আসলে বাজারে বিনিয়োগকারীদের মুনাফা বাড়াচ্ছে, কিন্তু ভাড়াটিয়াদের চাপ কমাচ্ছে না; বরং বাসাভাড়া ও বাড়ির দাম আরও দ্রুত বাড়ছে। বামপন্থি ও নাগরিক সংগঠনগুলো বলছে, সরকার যে নীতিগুলোকে সমাধান হিসেবে তুলে ধরছে, সেগুলোই আগের বছরগুলোতে সংকটকে ত্বরান্বিত করেছে; তাদের দাবি, শক্তভাবে ভাড়া নিয়ন্ত্রণ, দীর্ঘমেয়াদি ভাড়াচুক্তি (কমপক্ষে ১০ বছর) এবং ২০১৩ সালের ‘Lei dos Despejos’ (উচ্ছেদ আইন) বাতিল না করলে বাস্তব পরিবর্তন সম্ভব নয়।

বাড়ির দাম ১৮%–২৭% পর্যন্ত বেড়েছে

সরকারি প্যাকেজের পরও গত এক বছরে আবাসন বাজারে মূল্যবৃদ্ধি থামেনি; পর্তুগালের জাতীয় পরিসংখ্যান দফতর এবং বিভিন্ন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ত্রৈমাসিক তুলনায় দেশে বাড়ির গড় দাম প্রায় ১৮ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে বলে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। কিছু প্ল্যাটফর্ম, বিশেষ করে ‘Casa para Viver’ এর প্রচারসামগ্রীতে দাবি করা হয়েছে, প্রথম বড় প্যাকেজ ঘোষণার পর থেকে মোটামুটি ২৭ শতাংশ পর্যন্ত দাম বেড়েছে এবং লিসবনে প্রতি বর্গমিটারের গড় মূল্য ৫ হাজার ইউরোর বেশি পর্যায়ে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে ভাড়ার বাজারেও উচ্চচাপ বজায় আছে; বিশ্লেষকেরা আশঙ্কা করছেন, কর–প্রণোদনার বেশির ভাগই শেষ পর্যন্ত মালিক ও বিনিয়োগকারীদের অতিরিক্ত আয় হিসেবে থেকে যাবে, ভাড়া বা বিক্রিমূল্য কমার বদলে।

বিক্ষোভকারীদের দাবি ও পরবর্তী পদক্ষেপ

শনিবারের বিক্ষোভে অংশ নেওয়া সংগঠনগুলো পরিষ্কারভাবে কয়েকটি দাবি তুলে ধরেছে—প্রথম আবাসনের মর্টগেজ কিস্তি নির্দিষ্ট সীমার (আয়–এর সর্বোচ্চ ৩৫ শতাংশ) বেশি না রাখা, বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভাড়া নিয়ন্ত্রণ, অন্তত ১০ বছরের স্থিতিশীল ভাড়াচুক্তি এবং দ্রুত সামাজিক আবাসনের সংখ্যা বাড়ানো। আন্দোলনকারীরা বলছেন, পর্তুগালে প্রায় সাত লক্ষাধিক বাসা খালি থাকলেও সরকার এখনো মূল সমাধান হিসেবে বাজার–নির্ভর নীতিকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে, যা বাস্তবে সংকট আরও বাড়িয়ে তুলছে। ‘Casa para Viver’ প্ল্যাটফর্ম জানিয়েছে, সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত কার্যকর প্রতিক্রিয়া না এলে এই বছর জুড়েই তারা ধারাবাহিক কর্মসূচি ও নতুন বিক্ষোভের ডাক দিতে পারে

মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২০ পিএম
মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে শোষণ ও অনিয়ম ঠেকাতে নতুন একটি কার্যকর ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া ও নেপাল। এ ব্যবস্থায় শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও জবাবদিহিমূলক করার পাশাপাশি শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত খরচের বোঝা চাপানো এবং অসাধু মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আর. রামানান এ তথ্য জানিয়েছেন। নেপালের যুব, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী রামজি যাদবের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ঐকমত্য হয়। আলোচনায় শ্রম ও কর্মসংস্থান খাতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ও উঠে আসে।

বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক পোস্টে রামানান বলেন, মালয়েশিয়া ও নেপাল উভয় দেশই অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে আরও সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছে। একই সঙ্গে এমন সব চর্চা বন্ধ করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেগুলো শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা চাপায় কিংবা তাদের শোষণ ও প্রতারণার ঝুঁকিতে ফেলে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, বিদেশি শ্রমিক ব্যবস্থাপনায় মালয়েশিয়া সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও শ্রমিক সুরক্ষার নীতিতে অটল থাকবে। একই সঙ্গে দেশের শিল্প ও শ্রমবাজারের প্রকৃত চাহিদাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

রামানানের ভাষায়, নীতিটি পরিষ্কার ব্যবস্থাকে অবশ্যই শ্রমিকদের সুরক্ষা দিতে হবে, নিয়োগকর্তাদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে এবং একই সঙ্গে শোষণ ও নির্যাতনের কোনো সুযোগ রাখা যাবে না।
তিনি বলেন, ১৯৬০ সাল থেকে মালয়েশিয়া ও নেপালের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। দুই দেশ শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে যথাযথ দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ ও আলোচনার ধারা অব্যাহত রাখবে।

এদিকে গত মাসে নেপালে ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় নেপাল সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী।
রামানান বলেন, ওই দুর্যোগের পর এখনো ৫৫ জন মালয়েশীয় নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাদের বিষয়ে মাদানি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে নজর রাখছে এবং তাদের ভাগ্য সম্পর্কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও সংশ্লিষ্ট দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৪৫০ ছাড়িয়েছে। নেপাল ও চীন মিলিয়ে এখনো ৬ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৯ এম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯ জনে। এর মধ্যে আগস্ট মাসে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৩ দিনে মারা গেছেন ১১২ জন। এছাড়া জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বুলেটিনে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৭৮২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৪৯ জনে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ৭৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৩ হাজার ৮৭৪ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৭১৬ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৮ জন, খুলনায় ২৮৬ জন, বরিশালে ১৬৪ জন, রাজশাহীতে ১৩০ জন, ময়মনসিংহে ১০৮ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ এম
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত বন্ধে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে ফিলিস্তিনসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, “স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে।”

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, “আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায় তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।”

যুদ্ধ-সংঘাতে বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট

ভাষণে বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের প্রভাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে একের পর এক মানবিক সংকট।

যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিও তীব্র চাপের মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

সংঘাতের সমাধান আলোচনায়, কূটনীতিতে

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের সমাধানে সামরিক শক্তির পরিবর্তে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে হওয়া উচিত।

বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের প্রত্যাশা এমন একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয়; বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা।”

জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে সমঝোতামূলক বিশ্ব

একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জাতিসংঘকে দেখতে চায় বাংলাদেশ—ভাষণে এমন প্রত্যাশার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিশ্বের এক প্রান্তের সংঘাত ও সংকট অন্য প্রান্তের দেশগুলোকেও প্রভাবিত করে। এ বাস্তবতায় পারস্পরিক সহযোগিতা, কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

উন্নয়নের অর্থ সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ সামরিক ব্যয়ে স্থানান্তরের প্রবণতাকে বিশ্বশান্তির পথে অন্যতম বাধা হিসেবে তুলে ধরেন তারেক রহমান।

শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের ভূমিকার বার্তা

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথাও ভাষণে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা মানবতার সেবায় কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে।

ভাষণের শেষদিকে বিশ্ব মানবতা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের যেকোনো উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।

আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান, কূটনীতি ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক