ঈদে শাকিব খানের ‘প্রিন্স’ ঘিরে শো বন্ধ,ভাঙচুর
প্রযোজনা ও পরিবেশনা প্রতিষ্ঠান ক্রিয়েটিভ ল্যান্ড ফিল্মস আগে থেকেই ঘোষণা দেয়, পবিত্র ঈদুল ফিতরে শতাধিক সিনেমা হলে একযোগে মুক্তি পাবে ‘প্রিন্স: ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন ঢাকা’। নির্ধারিত সময়ে ডিজিটাল কপি বা সার্ভারে ছবি না পৌঁছানোয় অনেক হল টিকিট বিক্রি করেও শো চালাতে পারেনি। এ কারণে ময়মনসিংহের ত্রিশালের চিত্রপুরী সিনেমা হল, সৈয়দপুরের তামান্না সিনেমা হল ও মাদারীপুরের টেকেরহাটের সোনালী সিনেমা হলসহ বেশ কয়েকটি হলে ক্ষুব্ধ দর্শকেরা ভাঙচুর চালান বলে স্থানীয় হলমালিকেরা অভিযোগ করেছেন।
হলমালিকদের অভিযোগ ও ক্ষয়ক্ষতি
ত্রিশালের চিত্রপুরী সিনেমা হলের কর্ণধার আখতারুজ্জামান কাজল জানান, তিনি প্রায় আড়াই লাখ টাকায় ‘প্রিন্স’ সিনেমাটি নিয়েছেন, কিন্তু সার্ভারে ছবি না থাকায় ঈদিনের দুপুর ১২টা ও বেলা ৩টার শো চালানো সম্ভব হয়নি। তাঁর ভাষ্য, নির্ধারিত সময়ে ছবি না পাওয়ায় দর্শকেরা ক্ষুব্ধ হয়ে প্রেক্ষাগৃহের ভেতরে প্রায় ৩০০টি চেয়ার, জেনারেটর ও লাইটসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ভাঙচুর করেন। দিনের পর বিকেল ৫টার দিকে সার্ভারে সিনেমার ফাইল পেলেও সেখানে সাউন্ড না আসায় তিনি তখনও কোনো শো চালু করতে পারেননি, ফলে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি হলের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ।
মাদারীপুরের টেকেরহাটের সোনালী সিনেমা হলের কর্ণধার রাহুল খান জানান, নির্ধারিত সময়ে ছবি মিলবে এই আশায় দুপুর ও বিকেলের শোর টিকিট আগে থেকেই বিক্রি করেছিলেন। কিন্তু সার্ভারে সিনেমা না ওঠায় শো বন্ধ রাখতে বাধ্য হন তিনি; এতে ক্ষুব্ধ হয়ে দর্শকেরা হলের চেয়ার–টেবিল ভাঙচুর করেন এবং শেষ পর্যন্ত তাঁকে টিকিটের সম্পূর্ণ মূল্য ফেরত দিতে হয়। দিনভর টানটান অবস্থার পর সন্ধ্যায় সার্ভারে ‘প্রিন্স’ পেয়ে তিনি রাতের শো চালু করেছেন বলে জানান।
প্রযুক্তিগত জটিলতা ও ব্যাখ্যা
হলমালিকেরা বলছেন, ঈদের আগের রাতে পরিবেশক প্রতিষ্ঠানের সার্ভারে ছবি তোলার কথা ছিল, যাতে সেখান থেকে দ্রুত ডাউনলোড করে ঈদিন সকাল থেকেই শো শুরু করা যায়। কিন্তু অনেক হলে ঈদের দিন দুপুর পর্যন্তও সার্ভারে ছবি দেওয়া হয়নি; কোথাও আবার শেষ মুহূর্তে ফাইল এলেও অডিও–ভিডিও সিঙ্ক বা সাউন্ড না আসার মতো কারিগরি সমস্যায় শো চালানো সম্ভব হয়নি। সমিতি–সংশ্লিষ্ট একাধিক প্রদর্শক জানান, নতুন সার্ভার সিস্টেম ও কম লোকবল নিয়ে ঈদের ভিড় সামলাতে গিয়ে পরিবেশক পক্ষ কারিগরি জটিলতা সামলাতে পারেনি বলেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে তাঁদের ধারণা।
অন্যদিকে রাজধানীর মধুমিতাসহ বেশ কিছু বড় প্রেক্ষাগৃহ জানিয়েছে, তারা নির্ধারিত সময়ের আগেই সার্ভারে ‘প্রিন্স’ পেয়েছে এবং প্রথম শো থেকেই কোনো ধরনের বিঘ্ন ছাড়াই প্রদর্শনী চালাতে পেরেছে। ঢাকায় ও বড় শহরগুলোর বেশ কিছু হলে অগ্রিম টিকিট বিক্রি, সোল্ড–আউট শো ও দর্শক উপস্থিতির দিক থেকে ছবিটি ভালো সাড়া পাচ্ছে বলেও বিনোদনভিত্তিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।












