শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

পর্তুগালে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে হুহু করে উর্ধ্বগতি, ভোক্তাদের হাঁসফাঁস

পর্তুগাল প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬, ১০:১৭ পিএম
পর্তুগালে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে হুহু করে উর্ধ্বগতি, ভোক্তাদের হাঁসফাঁস

ছবিঃ সংগৃহীত

ভোক্তা অধিকার সংস্থা ডেকো প্রোটেস্ট পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে পর্তুগালের মৌলিক খাদ্য ঝুড়ির দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫৪ দশমিক ১২ ইউরো, যা পর্যবেক্ষণ শুরুর পর থেকে সর্বোচ্চ মূল্য। বছরের শুরুতে এই একই ঝুড়ির জন্য যে দামে কিনতে হতো, এখন তার চেয়ে প্রায় ১২ দশমিক ৩০ ইউরো বেশি গুনতে হচ্ছে, অর্থাৎ মাত্র দুই–আড়াই মাসে প্রায় ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

ডেকো প্রোটেস্টের তথ্য বলছে, ২০২২ সালের জানুয়ারিতে যখন ৬৩টি অপরিহার্য খাদ্যপণ্য নিয়ে এই ঝুড়ির দাম পর্যবেক্ষণ শুরু হয়, তখনকার তুলনায় এখন পরিবারগুলোকে একই ঝুড়ির জন্য প্রায় ৬৬ ইউরো বেশি পরিশোধ করতে হচ্ছে। অর্থাৎ চার বছরের কম সময়ে মৌলিক খাদ্য ঝুড়ির খরচ বেড়েছে প্রায় ৩৫ শতাংশ, যা খাদ্যনির্ভর ব্যয়ের অংশকে পরিবারের সামগ্রিক বাজেটে আরও বড় বোঝা হিসেবে দাঁড় করিয়েছে।

ডেকো প্রোটেস্টের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত জুকিনি ও বাঁধাকপি সহ কয়েকটি সবজির দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। প্রথম সপ্তাহের জানুয়ারির তুলনায় ঝুচিনির দাম প্রায় ৩৮ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে, আর বাঁধাকপি ও দোরাদা মাছের দামও ২০ থেকে ৩০ শতাংশের মধ্যে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে। একই সময়ে টুনা ক্যান, ফ্রাঙ্কফুর্ট সসেজ ও পাস্তার মতো কিছু প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের ক্ষেত্রেও সপ্তাহওয়ারি হিসেবে ১২ থেকে ৩৩ শতাংশ পর্যন্ত দামের লাফ দেখা গেছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

পর্তুগালের খাদ্য মুদ্রাস্ফীতির সরকারি পরিসংখ্যানও ভোক্তাদের এই চাপের প্রতিফলন ঘটাচ্ছে। সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতি  নিয়ন্ত্রিত থাকলেও, খাদ্য খাতে মূল্যবৃদ্ধির হার এখনো সাধারণ মুদ্রাস্ফীতির তুলনায় বেশি এবং বিশেষ করে অপরিশোধিত খাদ্যপণ্যে এই চাপ স্পষ্ট বলে অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ প্ল্যাটফর্মগুলোর তথ্য থেকে জানা যায়।

স্থানীয় মেলা ও বাজারগুলোতে ক্রেতারা বলছেন, একই আয়ে আগের মতো কেনাকাটা রাখা এখন আর সম্ভব হচ্ছে না, ফলে তারা এখন তালিকা করে কেবল প্রয়োজনীয় পণ্যই কিনছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে ব্র্যান্ড বদলে অপেক্ষাকৃত সস্তা বিকল্প বেছে নিচ্ছেন। অনেক পরিবার জানিয়েছে, মাসের শেষে বাজেট সামলাতে গিয়ে মাংস বা মাছের পরিমাণ কমিয়ে সবজির দিকে ঝুঁকছেন, তবু সবজি ও অন্যান্য খাদ্যের দাম বাড়ায় সাশ্রয়ের সুযোগও ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে।

অন্যদিকে, ব্যবসায়ীরা বলছেন, ক্রেতারা আগের চেয়ে বেশি দরদাম করেন এবং অফার বা ডিসকাউন্ট আছে এমন পণ্যের খোঁজে থাকেন, ফলে বিক্রয়কৌশলও বদলাতে হচ্ছে। অনেক বিক্রেতা সতর্ক করেছেন, পরিবহন খরচ ও পাইকারি দামের চাপ কমে না এলে সামনে আরও কিছু পণ্যে দাম সমন্বয় করতে হতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত খুচরা বাজারে নতুন করে মূল্যবৃদ্ধি হিসেবে দেখা যাবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে কৃষি উৎপাদনে ব্যাঘাত এবং আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা মিলিয়ে পর্তুগালের খাদ্যবাজারে এক ধরনের দীর্ঘমেয়াদি চাপ তৈরি করেছে। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন অঞ্চলের উত্তেজনা জ্বালানি সরবরাহ ও মূল্যের ওপর ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে, আর জ্বালানির খরচ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন, সংরক্ষণ ও পরিবহন সব স্তরেই অতিরিক্ত ব্যয় যোগ হচ্ছে, যা শেষ পর্যন্ত পণ্যের চূড়ান্ত দামে প্রতিফলিত হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতির হার কিছুটা নেমে এলেও খাদ্য ও জ্বালানিএ দুই খাতে চাপ তুলনামূলক বেশি থাকায় সাধারণ মানুষ “অফিসিয়াল” মুদ্রাস্ফীতির চেয়েও বেশি চাপ অনুভব করছেন। তারা সতর্ক করে বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অনিশ্চয়তা, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের ব্যাঘাত এবং আঞ্চলিক সংঘাতের সমন্বিত প্রভাব দ্রুত না কমলে খাদ্যঝুড়ির এই উচ্চ মূল্যস্তর স্বল্প সময়ে কমে আসার তেমন কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২০ পিএম
মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে শোষণ ও অনিয়ম ঠেকাতে নতুন একটি কার্যকর ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া ও নেপাল। এ ব্যবস্থায় শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও জবাবদিহিমূলক করার পাশাপাশি শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত খরচের বোঝা চাপানো এবং অসাধু মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আর. রামানান এ তথ্য জানিয়েছেন। নেপালের যুব, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী রামজি যাদবের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ঐকমত্য হয়। আলোচনায় শ্রম ও কর্মসংস্থান খাতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ও উঠে আসে।

বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক পোস্টে রামানান বলেন, মালয়েশিয়া ও নেপাল উভয় দেশই অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে আরও সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছে। একই সঙ্গে এমন সব চর্চা বন্ধ করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেগুলো শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা চাপায় কিংবা তাদের শোষণ ও প্রতারণার ঝুঁকিতে ফেলে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, বিদেশি শ্রমিক ব্যবস্থাপনায় মালয়েশিয়া সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও শ্রমিক সুরক্ষার নীতিতে অটল থাকবে। একই সঙ্গে দেশের শিল্প ও শ্রমবাজারের প্রকৃত চাহিদাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

রামানানের ভাষায়, নীতিটি পরিষ্কার ব্যবস্থাকে অবশ্যই শ্রমিকদের সুরক্ষা দিতে হবে, নিয়োগকর্তাদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে এবং একই সঙ্গে শোষণ ও নির্যাতনের কোনো সুযোগ রাখা যাবে না।
তিনি বলেন, ১৯৬০ সাল থেকে মালয়েশিয়া ও নেপালের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। দুই দেশ শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে যথাযথ দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ ও আলোচনার ধারা অব্যাহত রাখবে।

এদিকে গত মাসে নেপালে ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় নেপাল সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী।
রামানান বলেন, ওই দুর্যোগের পর এখনো ৫৫ জন মালয়েশীয় নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাদের বিষয়ে মাদানি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে নজর রাখছে এবং তাদের ভাগ্য সম্পর্কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও সংশ্লিষ্ট দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৪৫০ ছাড়িয়েছে। নেপাল ও চীন মিলিয়ে এখনো ৬ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৯ এম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯ জনে। এর মধ্যে আগস্ট মাসে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৩ দিনে মারা গেছেন ১১২ জন। এছাড়া জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বুলেটিনে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৭৮২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৪৯ জনে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ৭৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৩ হাজার ৮৭৪ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৭১৬ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৮ জন, খুলনায় ২৮৬ জন, বরিশালে ১৬৪ জন, রাজশাহীতে ১৩০ জন, ময়মনসিংহে ১০৮ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ এম
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত বন্ধে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে ফিলিস্তিনসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, “স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে।”

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, “আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায় তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।”

যুদ্ধ-সংঘাতে বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট

ভাষণে বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের প্রভাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে একের পর এক মানবিক সংকট।

যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিও তীব্র চাপের মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

সংঘাতের সমাধান আলোচনায়, কূটনীতিতে

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের সমাধানে সামরিক শক্তির পরিবর্তে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে হওয়া উচিত।

বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের প্রত্যাশা এমন একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয়; বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা।”

জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে সমঝোতামূলক বিশ্ব

একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জাতিসংঘকে দেখতে চায় বাংলাদেশ—ভাষণে এমন প্রত্যাশার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিশ্বের এক প্রান্তের সংঘাত ও সংকট অন্য প্রান্তের দেশগুলোকেও প্রভাবিত করে। এ বাস্তবতায় পারস্পরিক সহযোগিতা, কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

উন্নয়নের অর্থ সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ সামরিক ব্যয়ে স্থানান্তরের প্রবণতাকে বিশ্বশান্তির পথে অন্যতম বাধা হিসেবে তুলে ধরেন তারেক রহমান।

শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের ভূমিকার বার্তা

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথাও ভাষণে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা মানবতার সেবায় কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে।

ভাষণের শেষদিকে বিশ্ব মানবতা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের যেকোনো উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।

আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান, কূটনীতি ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক