ইসরায়েলের পর সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন ও আরব আমিরাতে হামলা চালিয়েছে ইরান
ছবি- ইন্টারনেট থেকে।
ইসরায়েলের পর এবার বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার ও সৌদি আরবে শক্তিশালী বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। রয়টার্স, আল জাজিরা ও এএফপিসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এ তথ্য জানিয়েছে। একযোগে এসব ঘটনার পর পুরো মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আশঙ্কা ছড়িয়ে পড়েছে।
রয়টার্স জানায়, মানামা ও জাফায়ায় বিকট বিস্ফোরণের পর আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে। এ এলাকাতেই মার্কিন নৌবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটি রয়েছে। বিস্ফোরণের আগে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জরুরি সতর্কতা জারি করে নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে নির্দেশ দেয়।
আবুধাবিতেও একটি বড় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতি বা উৎস সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি।
কুয়েতজুড়ে বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পর সতর্কতা সাইরেন বাজতে শুরু করে। একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয় দোহাতে। কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত করা হয়েছে। পরে কাতার, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করে।
এদিকে রিয়াদ থেকেও বড় ধরনের বিস্ফোরণের খবর দিয়েছে এএফপি।
মিডল ইস্ট আই জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার জবাবে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সেনা ঘাঁটিকেও লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে।
এর আগে শনিবার ভোরে তেহরানএর একাধিক স্থানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা চালায়। এতে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, কোম, কারাজ ও কেরমানশাহ শহরেও বিস্ফোরণ হয়েছে।
এর পরপরই ইরানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশজুড়ে জরুরি নির্দেশনা জারি করে এবং প্রদেশগুলোকে দ্রুত পরিস্থিতির প্রতিবেদন দিতে ও জনগণের প্রয়োজন মেটাতে সব ধরনের প্রস্তুতি নিতে বলে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ হামলাকে দেশটির সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত ও জাতিসংঘ সনদের লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে। তারা সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করে কঠোর জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে এবং বলেছে, আগ্রাসীরা তাদের কাজের জন্য অনুতপ্ত হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে ২০২৫ সালের জুনে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিলেন। সাম্প্রতিক অভিযানের আগে জানুয়ারি থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিমান, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করে যুক্তরাষ্ট্র।
বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে রূপ নিতে পারে। কারণ ইরান অঞ্চলজুড়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে সরাসরি হামলা চালাতে পারে বা বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহন হয় যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে—তা বন্ধ করে দিতে পারে।
উপসাগরীয় দেশগুলো আগেই জানিয়েছিল, তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানে হামলা চালাতে দেওয়া হবে না। কারণ এসব দেশে মার্কিন ও ন্যাটো ঘাঁটি থাকায় তারা পাল্টা আঘাতের ঝুঁকিতে রয়েছে। ইরানে চলমান অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার মধ্যে এই হামলাকে দেশটির জন্য অস্তিত্বের সংকট হিসেবে দেখা হতে পারে, ফলে প্রতিক্রিয়াও আরও শক্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।













