শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

বিদায়ী চিফ প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

প্রবাহ বাংলা ডেস্ক ঢাকা, বাংলাদেশ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:০৬ এম
বিদায়ী চিফ প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

সোমবার কাজী মোস্তাফিজুর রহমান আহাদ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে ‘ট্রাইব্যুনালে সেটলিং বাণিজ্য ও রাজসাক্ষী নাটক: কেন সরতে হচ্ছে তাজুল ইসলামকে?’ শিরোনামে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। ওই পোস্টের নিচে দুটি মন্তব্য করেন প্রসিকিউটর বি এম সুলতান মাহমুদ এবং আরও দুটি প্রশ্নের জবাব দেন; সেখানে তিনি চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও মামলাবাণিজ্যের অভিযোগ তোলেন। রাতে প্রথম আলোকে ফোনে তিনি জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যা লিখেছেন, তার সব কিছুর প্রমাণ তাঁর কাছে রয়েছে।​

সরকার ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের নিয়োগ বাতিল করেছে এবং আইনজীবী মো. আমিনুল ইসলামকে নতুন চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নতুন চিফ প্রসিকিউটর অ্যাটর্নি জেনারেলের সমমর্যাদা, বেতন–ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা ভোগ করবেন এবং এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ তাঁর এক মন্তব্যে লিখেছেন, গত বছরের নভেম্বরে আশুলিয়ার ‘লাশ পোড়ানো’ মামলায় আসামি, সাবেক এসআই শেখ আবজালুল হকের স্ত্রী একটি ভারী ব্যাগ নিয়ে প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীমের কক্ষে প্রবেশ করেন। তিনি দাবি করেন, ঘটনাটি নিজের চোখে দেখে তিনি তৎকালীন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামের কক্ষে গিয়ে বিষয়টি জানান; কিন্তু তাজুল কোনো ব্যবস্থা নেননি, বরং উল্টো তাঁদের বকাঝকা করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তীতে সেই এসআই আবজালুল হককে রাজসাক্ষী (অ্যাপ্রুভার) করা হয় এবং মামলায় তাঁকে দায়মুক্তি দেওয়া হয়।​

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

উক্ত মামলাটি জুলাইয়ের গণ–অভ্যুত্থানের সময় সাভারের আশুলিয়ায় ছয়জনের লাশ পোড়ানোসহ সাতজনকে হত্যা, নির্যাতন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের হয়; ট্রাইব্যুনাল–১ এ মামলার রায়ে ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড, সাতজনকে যাবজ্জীবন এবং দুজনকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়, আর রাজসাক্ষী হিসেবে থাকা সাবেক এসআই আবজালুল হককে আদালত ক্ষমা করে দেয়। সুলতান মাহমুদ আরও অভিযোগ করেন, চানখাঁরপুল এলাকায় এক ঘটনার ভিডিও ফুটেজে এসআই আশরাফুলকে গুলি চালানোর নির্দেশ দিতে দেখা গেলেও তাকে আসামি না করে সাক্ষী করা হয়েছে; তাঁর দাবি, ওই ভিডিও তাঁর কাছে সংরক্ষিত আছে।​

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগে তিনি প্রশ্ন তোলেন, রংপুরে শহীদ আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযুক্ত এসি ইমরানকে কেন অব্যাহতি দেওয়া হলো, যখন কয়েকজন সাক্ষী আদালতে তাঁর নাম উল্লেখ করেছেন। একইসঙ্গে তিনি জানতে চান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল–মামুনকে কোন কারণে রাজসাক্ষী করা হয়েছে। এ মামলাতেই জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে মৃত্যুদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল–১, আর সাবেক আইজিপি মামুনকে রাজসাক্ষী হিসেবে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।​

আরেক মন্তব্যে প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সরাসরি অভিযোগ করেন, শুধু আইজিপি মামুন নন, আশুলিয়ার লাশ পোড়ানো মামলায় টাকার বিনিময়ে সাবেক এসআই আফজালুল হককেও রাজসাক্ষী করে দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, তিন–চারজনকে নিয়ে একটি সিন্ডিকেট শুরু থেকেই এসব ‘সেটলিং বাণিজ্য’–এ জড়িত, যারা চিফ প্রসিকিউটরের চেয়ারকে টাকা কামানোর হাতিয়ার বানিয়ে রেখেছে।​

চিফ প্রসিকিউটর পদ থেকে অপসারণের পর ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। এ সময় তাঁর পাশেই ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম, যদিও তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। সাংবাদিকেরা সুলতান মাহমুদের ফেসবুক–ভিত্তিক অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তাজুল ইসলাম তা গুরুত্ব না দেওয়ার আহ্বান জানান।

তাজুল ইসলাম বলেন, ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে কে কী অভিযোগ করছেন, তা তাঁরা আমলে নিচ্ছেন না এবং এ বিষয়ে তাঁদের কোনো মন্তব্য নেই। সাংবাদিকেরা যখন প্রশ্ন করেন, তামিমের কক্ষে এসআই আবজালুল হকের স্ত্রী ভারি ব্যাগ নিয়ে গেছেন—এ বিষয়ে তাঁকে অবহিত করা হয়েছিল—এমন দাবি উঠেছে; তখন তিনি জানান, বিষয়টি তাঁর জানা নেই। একই বিষয়ে পুনরায় প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এ ধরনের অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হয়েছে, এগুলো সম্পূর্ণভাবে মিথ্যা এবং ব্যক্তিগত হিংসা চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে কেউ এসব বলতে পারেন—যা তিনি ‘দুর্ভাগ্যজনক’ হিসেবে উল্লেখ করেন।​

তাজুলের বক্তব্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারপ্রক্রিয়া স্বচ্ছ ছিল এবং আদালতের সামনে উপস্থাপিত প্রমাণের ভিত্তিতেই রায় হয়েছে; বাংলাদেশবাসী এবং গণমাধ্যম এ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার সাক্ষী। তাই দু–একজনের ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে আনা অভিযোগকে তাঁরা ধর্তব্যের মধ্যে নিচ্ছেন না বলেই তিনি জানান।​

সরকারি প্রজ্ঞাপন জারির পর নতুন চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব নেন আইনজীবী মো. আমিনুল ইসলাম এবং সোমবারই তিনি ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। সেখানেই তাঁর কাছে চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর তামীমের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চান সাংবাদিকেরা।

আমিনুল ইসলাম প্রথম দিনেই এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অনীহা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনে এ ধরনের সংবেদনশীল বিষয়ে মন্তব্য না করাই উত্তম, তিনি এ দিনটিকে নিজের জন্য ‘অভ্যর্থনা’–র দিন হিসেবে দেখতে চান। তবে তিনি ইঙ্গিত দেন, ভবিষ্যতে যদি এ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু তাঁর কাছে আসে, তখন যথাযথভাবে তা দেখা হবে।​

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল দেশের অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করে থাকে; সাম্প্রতিক রায়গুলোর মধ্যে আছে জুলাইয়ের গণ–অভ্যুত্থান–সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল–মামুনের সাজা। এমন প্রেক্ষাপটে ট্রাইব্যুনালের ভেতরে ‘সেটলিং বাণিজ্য’, রাজসাক্ষী বাছাইয়ে অর্থ–লেনদেন এবং সিন্ডিকেটের অভিযোগ প্রতিষ্ঠানটির স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।

ট্রাইব্যুনালের ভেতরকার এক দায়িত্বশীল আইনজীবীর প্রকাশ্য অভিযোগ এবং সদ্য বিদায়ী চিফ প্রসিকিউটরের তা প্রত্যাখ্যান—দুই মেরুর এই অবস্থান ভবিষ্যতে আইনি ও প্রশাসনিক অনুসন্ধানের দাবিও জোরালো করতে পারে বলে আইনপ্রঙ্গনে আলোচনা চলছে। নতুন চিফ প্রসিকিউটর দায়িত্ব নেওয়ার পর পরই এ ধরনের অভিযোগ সামনে আসায়, পর্যবেক্ষকদের মতে, ট্রাইব্যুনালের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও দায়বদ্ধতার প্রশ্ন আরও তীব্রভাবে সামনে আসতে পারে।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৯ এম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯ জনে। এর মধ্যে আগস্ট মাসে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৩ দিনে মারা গেছেন ১১২ জন। এছাড়া জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বুলেটিনে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৭৮২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৪৯ জনে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ৭৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৩ হাজার ৮৭৪ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৭১৬ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৮ জন, খুলনায় ২৮৬ জন, বরিশালে ১৬৪ জন, রাজশাহীতে ১৩০ জন, ময়মনসিংহে ১০৮ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ এম
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত বন্ধে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে ফিলিস্তিনসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, “স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে।”

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, “আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায় তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।”

যুদ্ধ-সংঘাতে বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট

ভাষণে বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের প্রভাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে একের পর এক মানবিক সংকট।

যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিও তীব্র চাপের মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

সংঘাতের সমাধান আলোচনায়, কূটনীতিতে

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের সমাধানে সামরিক শক্তির পরিবর্তে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে হওয়া উচিত।

বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের প্রত্যাশা এমন একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয়; বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা।”

জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে সমঝোতামূলক বিশ্ব

একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জাতিসংঘকে দেখতে চায় বাংলাদেশ—ভাষণে এমন প্রত্যাশার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিশ্বের এক প্রান্তের সংঘাত ও সংকট অন্য প্রান্তের দেশগুলোকেও প্রভাবিত করে। এ বাস্তবতায় পারস্পরিক সহযোগিতা, কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

উন্নয়নের অর্থ সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ সামরিক ব্যয়ে স্থানান্তরের প্রবণতাকে বিশ্বশান্তির পথে অন্যতম বাধা হিসেবে তুলে ধরেন তারেক রহমান।

শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের ভূমিকার বার্তা

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথাও ভাষণে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা মানবতার সেবায় কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে।

ভাষণের শেষদিকে বিশ্ব মানবতা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের যেকোনো উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।

আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান, কূটনীতি ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ চায় ডিসিসিআই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৬ এম
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ চায় ডিসিসিআই

বাংলাদেশের জ্বালানি, নবায়নযোগ্য শক্তি ও বিনিয়োগ খাতে সহযোগিতা বাড়াতে মালয়েশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন ও যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ।

বৃহস্পতিবার কুয়ালালামপুরের একটি হোটেলে মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী লিউ চিন টংয়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব আহ্বান জানান।

সাক্ষাৎকালে তাসকীন আহমেদ বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মোট বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। দুই দেশের বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণে নতুন নতুন অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি এবং সরকার পর্যায়ে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। পারস্পরিক আস্থা, অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি জ্বালানি সরবরাহ, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি প্রণোদনা ও বিনিয়োগ সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তারা এ খাতে বিনিয়োগ করতে পারেন।

এ খাতে দীর্ঘমেয়াদি ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে মালয়েশিয়া সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। পাশাপাশি প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের সহযোগিতা আরও কার্যকর ও টেকসই করা সম্ভব বলে মত দেন।

এ সময় মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী লিউ চিন টং বলেন, দেশটির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে বিপুলসংখ্যক দক্ষ জনবলের চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশের বৃহৎ তরুণ জনগোষ্ঠীকে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে তাদের জন্য উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে আন্তর্জাতিক লেনদেন ব্যবস্থা আরও আধুনিক করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ইসলামিক ফাইন্যান্সিংয়ের সম্প্রসারণ, উদ্ভাবনী আর্থিক পণ্য তৈরি এবং কার্যকর আর্থিক অবকাঠামো গড়ে তুলতে মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা ও মডেল বাংলাদেশের জন্য অনুসরণযোগ্য হতে পারে।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) খাতের সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন তাসকীন আহমেদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের এমএফএস মডেল বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে। মালয়েশিয়াও বাংলাদেশের এ খাতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারে।
ডিসিসিআই সভাপতি আরও বলেন, বাংলাদেশ প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য আমদানি করে। ফলে দেশটি একটি বড় ও সম্ভাবনাময় ভোক্তা বাজারে পরিণত হয়েছে। এই বাজারের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে মালয়েশিয়ার রপ্তানিকারকদের বাংলাদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং রপ্তানি বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

তিনি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব জোরদার, পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং পারস্পরিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন।
সাক্ষাৎকালে ডিসিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী ও সহ-সভাপতি সালিম সোলায়মান উপস্থিত ছিলেন।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক