সরকারি চাকরিতে বড় পরিবর্তন: ৯ সচিবের চুক্তি বাতিল
বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের নয়জন সচিব ও সিনিয়র সচিবের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করেছে সরকার। একই দিনে পৃথক আদেশে আরও তিন সচিবকে নিজ নিজ পদ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
৯ সচিবের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে সোমবার জারি করা আলাদা প্রজ্ঞাপনে নয়জন সচিব ও সিনিয়র সচিবের অবশিষ্ট চুক্তির মেয়াদ বাতিলের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনক্রমে সরকার ‘জনস্বার্থে’ তাদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করেছে, যা অবিলম্বে কার্যকর হবে বা আদেশে নির্ধারিত তারিখ থেকে কার্যকর হিসেবে গণ্য হবে।
চুক্তি বাতিল হওয়া সচিব ও সিনিয়র সচিবরা হলেন:
- পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য মোখলেস উর রহমান
- পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য এস এম আকমল হোসেন (এম এ আকমল হোসেন আজাদ নামেও উল্লেখ আছে)
- পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য কাইয়ুম আরা বেগম
- বিশ্বব্যাংকের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক শরীফা খান
- স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. সাইদুর রহমান
- তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী
- জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির (এনএপিডি) মহাপরিচালক (সিনিয়র সচিব) সিদ্দিক জোবায়ের
- ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান (সিনিয়র সচিব) মোহাম্মদ ইউসুফ
- মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মমতাজ আহমেদ
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, তাদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ‘অবশিষ্ট মেয়াদ’ বাতিল করা হয়েছে; অর্থাৎ পূর্বঘোষিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই চুক্তি সমাপ্ত করা হলো।
আজ আরও তিন সচিবকে নিজ নিজ মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়। পৃথক প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, নতুন পদায়ন না হওয়া পর্যন্ত তারা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত থাকবেন।
সংযুক্ত হওয়া তিন সচিব হলেন
- ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিন
- প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. সাইফুল্লাহ পান্না
- শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীন
প্রজ্ঞাপনে এই তিন কর্মকর্তাকে তাদের পূর্বতন দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে “জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত” করার কথা বলা হয়েছে, যা সাধারণত অপেক্ষমান বা পরবর্তী পদায়নের আগ পর্যন্ত সাময়িক অবস্থান হিসেবে বিবেচিত হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে বদলি, পদায়ন ও চুক্তি পুনর্বিবেচনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়–সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে নতুন রাজনৈতিক নেতৃত্বের দৃষ্টিভঙ্গি বাস্তবায়ন, দায়িত্ব পুনর্বিন্যাস এবং ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক রোডম্যাপের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপগুলোকে দেখা হচ্ছে।
নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যে একযোগে নয় সচিবের চুক্তি বাতিল এবং তিন সচিবকে পদ থেকে সরিয়ে সংযুক্তির এই সিদ্ধান্তকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস হিসেবে দেখে নীতি–বিশ্লেষকেরা।










